ঈদে বাইকে ভ্রমণের জন্য মেইনটেন্যান্স টিপস ও প্রস্তুতি

এই জুলাইয়ে বাংলাদেশের মানুষ ঈদে লম্বা ছুটি কাটাবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী আমরা ১ ‍জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি পাবো। আর আমাদের মধ্যে অনেকেই বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবে বাইক নিয়ে। সেজন্য আজ আমরা ঈদে বাইক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় মেইনটেন্যান্স টিপস ও প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করবো। আশা করছি, এই আলোচনা আপনাদের কাজে লাগবে। ভ্রমণে বের হওয়ার আগে সবসময় খেয়াল রাখবেন, আপনার বাইক ঠিকমতো সার্ভিসিং করানো হয়েছে কি না। ভ্রমণের কমপক্ষে একদিন আগে পুরো বাইক সার্ভিসিং করান। যদি সম্পূর্ণ বাইক সার্ভিসিং করানো সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত নিচের কাজগুলো অবশ্যই করিয়ে নিবেন। বাইকে ভ্রমণের জন্য মেইনটেন্যান্স টিপস বাইক…

Review Overview

User Rating: 4.85 ( 1 votes)

এই জুলাইয়ে বাংলাদেশের মানুষ ঈদে লম্বা ছুটি কাটাবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী আমরা ১ ‍জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি পাবো। আর আমাদের মধ্যে অনেকেই বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবে বাইক নিয়ে। সেজন্য আজ আমরা ঈদে বাইক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় মেইনটেন্যান্স টিপস ও প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করবো। আশা করছি, এই আলোচনা আপনাদের কাজে লাগবে।

জাফলং এ এম স্ল্যাজভ্রমণে বের হওয়ার আগে সবসময় খেয়াল রাখবেন, আপনার বাইক ঠিকমতো সার্ভিসিং করানো হয়েছে কি না। ভ্রমণের কমপক্ষে একদিন আগে পুরো বাইক সার্ভিসিং করান। যদি সম্পূর্ণ বাইক সার্ভিসিং করানো সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত নিচের কাজগুলো অবশ্যই করিয়ে নিবেন।

বাইকে ভ্রমণের জন্য মেইনটেন্যান্স টিপস

  • বাইক ধুয়ে নিন।
  • ব্রেক শু পরীক্ষা করুন, প্রয়োজন মনে হলে, নতুন লাগিয়ে নিন।
  • চেইনের প্রয়োজন মতো টান করুন।
  • চেইনে গ্রিজ অথবা লুব ব্যবহার করুন।
  • এয়ার ফিল্টার ও স্পার্ক প্লাগ পরিষ্কার করুন।
  • পরীক্ষা করে দেখুন, হেডলাইট ও ইন্ডিকেটর ঠিক মতো কাজ করছে কি না।
  • ক্লাচ ও এক্সিলারেটর কেবল পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে নতুন লাগান।
  • দরকার হলে ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তন করুন।
  • ওয়াটার কুলড বাইকের ক্ষেত্রে শীতলকারক পানির লেভেল পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে রেডিয়েটরে পানি দিন।
  • ব্যাটারিতে চার্জ আছে কি না দেখে নিন।

 সালেহ মো. হাসানের বাইক মেইনটেন্যান্স

যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি

হাইওয়েতে চলার সময় খেয়াল রাখুন, আপনি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন কি না। এই জিনিসগুলো আপনার দরকার হবে –

  • সবসময় হেলমেট পরুন। খেয়াল রাখবেন এটা যেনো ফুল ফেস ও ভালো মানের হয়।
  • সাথে পিলিওন থাকলে সেও যেনো হেলমেট পরে, তা নিশ্চিত করুন।
  • অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যেমন কনুই ও হাটুতে গার্ড পরুন।
  • বাইকে রিয়ার ভিউ মিরর যেনো অবশ্যই থাকে।
  • টার্ন নেওয়া বা লেন পরিবর্তনের সময় অবশ্যই সিগন্যাল/ইন্ডিকেটর জ্বালান।
  • সম্ভব হলে বাইকের হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখুন। না হলে কমপক্ষে পার্কিং লাইট জ্বালিয়ে রাখুন।
  • বাস চালকদের সঙ্গে পাল্লা দিতে যাবেন না। কারণ ঈদের সময় তারা দ্রুত গন্তব্যে পৌছানোর জন্য উন্মাদের মতো গাড়ি চালায়।
  • রোজাদাররা মনকে সুস্থির রাখুন এবং রোজা না থাকলে বিরতির সময় পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • প্রতি ৪০-৫০ কিমি পর পর ৫-১০ মিনিটের ব্রেক দিন। এ সময়টাতে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিন।
  • যাত্রাপথে ঘুম ধরলে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিন এবং চোখে-মুখে পানি দিয়ে ৫-১০ মিনিট হাঁটাহাটি করুন।

 বৃষ্টিতে বাইক নিয়ে ওয়াসিফ আনোয়ারের ভ্রমণ

আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও সহায়তা

যাত্রা পথে আমরা অনেক সময়ই নানা রকমের বিপত্তিতে ড়িতে পারি, যেখানে নিজের কিছুই করার থাকে না। এমন পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। আমার মনে হয়, ভ্রমণের সময় কিছু অতিরিক্ত জিনিস সঙ্গে রাখলে এমন পরিস্থিতি ঘটার সম্ভাবনা হ্রাস করা যায়।

  • অতিরিক্ত ক্লাচ কেবল ও এক্সিলারেটর কেবল সঙ্গে নিন।
  • অতিরিক্ত স্পার্ক প্লাগ রাখুন।
  • অতিরিক্ত ইঞ্জিন অয়েল রাখলেও মন্দ হয় না।
  • রোজা না থাকলে সঙ্গে পানি রাখুন।
  • অপরিচিত কারো দেওঅ কিছু খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকুন।

বাইক মেইনটেন্যান্স টিপস ও ঈদে ভ্রমণের প্রস্তুতি

তাহলে পাঠক, আমার মতে এ কয়টা জিনিস খেয়াল রাখলে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় কোনো ঝামেলা হবে না। আশা করি, আপনারা নিরাপদে বাড়ি যান, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দময় ঈদ কাটান এবং নিরাপদেই ফিরে আসুন ঢাকায়।

 

About মাহামুদ সেতু

হ্যালো রাইডারস, আমি মাহামুদ সেতু। থাকি রাজশাহীতে, পড়াশোনাও রাবি’তে। যদিও আমার নিজস্ব কোনো বাইক নেই, তারপরও আমি কিন্তু বাইকের ব্যাপারে পাগল। এক্ষেত্রে আমাকে ‘চন্দ্রাহত’ও বলতে পারেন, মানে ওই দূর থেকে চাঁদের (আমার ক্ষেত্রে বাইক) প্রেমে পাগল হয় যারা, তারা আর কি। যাই হোক, মূল কথায় আসি। গত দুই বছর ধরেই আমি বাইকবিডি.কমের নিয়মিত পাঠক। এখান থেকেই আমি বাইক সম্পর্কে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। ব্লগের সবগুলো লেখাই একাধিকবার পড়েছি। এখানেই জানতে পারলাম বাইক মোডিফিকেশন সম্পর্কে। শেষমেশ এখন তো সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি, বাইক নিয়েই কাজ করবো। মানে, বাইক মোডিফিকেশনটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছি। জানি কাজটা কঠিন, তারপরও আমি আশাবদী। আমার জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য বাইক মোডিফিকেশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দেশে এতো এতো সুন্দর, দ্রুতগতির ও ভালো বাইক (বাংলাদেশে আইনত যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫০সিসি) আছে, অথচ আমার পছন্দ হোন্ডা সিজি ১২৫। আমার খুবই ইচ্ছা এই ক্ল্যাসিক বাইকটি কিনে নিজের হাতে মোডিফিকেশন করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Sign up to our newsletter!


error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!