উত্তরা মোটরস বাংলাদেশে নিয়ে এলো বাজাজ ভি১৫ : অনুষ্ঠানের আদ্যোপান্ত

উত্তরা মোটরস লিমিটেড গত রবিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে বাজাজ ভি১৫ উন্মুক্ত করেছে, যার দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১৭৭,৫০০ টাকা। আর বাজাজ ভি১৫ নির্মাণে ভারতের প্রথম বিমানবাহী রণতরী আইএনএস ভিক্রান্ত-এর ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভিক্রান্ত খুবই সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো। সেদিক থেকে অপরাজেয় বাজাজ …

Review Overview

User Rating: 0.75 ( 1 votes)
0

উত্তরা মোটরস লিমিটেড গত রবিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে বাজাজ ভি১৫ উন্মুক্ত করেছে, যার দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১৭৭,৫০০ টাকা। আর বাজাজ ভি১৫ নির্মাণে ভারতের প্রথম বিমানবাহী রণতরী আইএনএস ভিক্রান্ত-এর ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভিক্রান্ত খুবই সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো। সেদিক থেকে অপরাজেয় বাজাজ ভি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই ধারণ করে।বাজাজ বাংলাদেশ উত্তরা মোটরস

অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন

  • মতিউর রহমান—চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উত্তরা মোটরস লিমিটেড।
  • মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া—মাননীয় জ্যেষ্ঠ সচিব।
  • মেজর জেনারেল (অব) কে এম শফিউল্লাহ, বীর উত্তম (অতিথি বক্তা)
  • বিশাল গুপ্ত—এশিয়া অঞ্চলের কান্ট্রি ম্যানেজার, বাজাজ।

এবং উত্তরা মোটরস ও বাজাজ অটোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

জনাব মতিউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের বাজারে বিক্রয়ের দিক থেকে বাজাজ সবার আগে রয়েছে। দেশজুড়ে বাজাজের ২২৫টি ৩এস সেন্টার রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দুইশতাধিক অথোরাইজড সার্ভিস ও স্পেয়ার ডিলার। আমাদের তথ্য মতে (যেটা ভুলও হতে পারে) গত চার বছরে বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারের ৩৫-৪০% বাজাজের দখলে রয়েছে।

এসময় তিনি বাংলাদেশ সরকারকে ২৫০ সিসি পর্যন্ত বাইক চালানোর অনুমতি দিতে অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে সিকেডি মোটরসাইকেলের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও রাখেন। এতে করে বেশি মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। পাশাপাশি তিনি মোটরসাইকেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি যুগোপযুগী নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানান, যাতে করে এই সেক্টরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে।বাংলাদেশে বাজাজের মূল্য তালিকা

অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আইএনএস ভিক্রান্তের সাহসী ভূমিকার বর্ণনা দেন।

বাজাজ ভি১৫ এ রয়েছে ১৫০ সিসি এয়ার কুলড টুইন স্পার্ক ২ ভাল্ব ইঞ্জিন, যেটা ১১.৮ বিএইচপি ও ১৩ নিউটন মিটার টর্ক উৎপাদন করতে পারে। আর ১৫০ সিসিতে এয়ার কুলড বাইকগুলোর মাঝে এর টর্ক সবচেয়ে বেশি। সর্বোপরি বাইকটি দেখতে ক্যাফে রেসারের মতো, ইঞ্জিনের সাউন্ড বেশ জোরালো ও পালসার এএস১৫০’র চেয়ে ভালো।বাংলাদেশে বাজাজ ভির দাম

সামনের চাকায় ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেক ও পিছনের চাকায় রয়েছে ড্রাম ব্রেক। আর আনন্দের বিষয় হলো এবার বাজাজ সরু টায়ারের পরিবর্তে মোটা টায়ার অর্থাৎ পিছনের চাকায় ১২০ সাইজের টায়ার ব্যবহার করেছে এবং সামনের ১৮ ইঞ্চি হুইলের চেয়ে পিছনে ২ ইঞ্চি ছোটো হুইল দিয়েছে। এর সামনের ফর্কটি ৩৩ মিমি টুইন স্প্রিং লোডেড হাইড্রলিক টাইপ এবং পিছনেরটি গ্যাস ফিলড সাসপেনশন।বাংলাদেশে বাজাজ ভি১৫ এর দাম

বাজাজ ভি১৫-এর হেডলাইট ৫৫/৬০ ওয়াটের হ্যালোজেন বাল্ব। তাছাড়া এর স্পিডোমিটার সম্পূর্ণ নতুন ধরনের, যেটা আবার জ্বালানির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে রঙ পরিবর্তন হয়। অন্যদিকে শহর ও হাইওয়েতে নির্বিঘ্নে চলার জন্য এর হ্যান্ডেলবার বেশ প্রশস্থ রাখা হয়েছে। বাইকের ফ্রেমটি ডাবল ক্র্যাডলের। আর ভি১৫ এর পিছনের কাউল খুলে ফেলে একে টু-সিটারও বানানো সম্ভব।বাংলাদেশে বাজাজ ভি১৫

রায়

বাজাজ ভি১৫-এর চেহারাসুরত ও নির্মাণ মানের দিক থেকে বলা যায়, যারা ১৮০,০০০ হাজারের নিচে ১৫০ সিসি বাইক কিনতে চান তাদের জন্য ভি১৫ ভালো একটি অপশন। সত্যি বলতে কি, তারা এতো কম দাম নির্ধারণ করেছে দেখে আমি আশ্চর্যই হয়েছি। ও, আরেকটি কথা বলে রাখা দরকার, পুরো বাইকটিই কিন্তু রণতরীর ইস্পাত দিয়ে বানানো হয়নি, শুধু জ্বালানি ট্যাঙ্কে ব্যবহার করা হয়েছে। আর বাজাজ ভি১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টিম বাইকবিডি’কে আমন্ত্রণ জানানোয় উত্তরা মোটরসকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

বাংলাদেশে তিনটি ভিন্ন রঙে বাজাজ ভি১৫ পাওয়া যাবে : পার্ল হোয়াইট, ইবোনি ব্ল্যাক ও হিরোয়িক রেড। আর আশা করা যায় উত্তরা মোটরস আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে বাজাজ অ্যাভেঞ্জার বাজারে ছাড়বে।

বাংলাদেশে বাজাজ ভি১৫ এর দাম ও শোরুম

বাজাজ ভি১৫ এর স্পেসিফিকেশন

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
ইঞ্জিন টাইপ সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ৪-স্ট্রোক, এয়ার কুলড ডিটিএস-আই
ডিসপ্লেসমেন্ট ১৪৯.৫ সিসি
সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১১.৮ বিএইচপি @ ৭৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ১৩ নিউটন মিটার @ ৫৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ গতি ১০৯ কিমি/ঘণ্টা
মাইলেজ ৭৫ কিমি/লিটার
বোর ৫৬ মিমি
স্ট্রোক ৫৮.৮ মিমি
স্টার্ট কিক ও সেলফ
জ্বালানি সরবরাহ কার্বুরেটর
কুলিং সিস্টেম এয়ার কুলড
ট্রান্সমিশন
গিয়ার বক্স ৫ স্পিড
ক্লাচ ওয়েট, মাল্টিপল
ট্রান্সমিশন টাইপ ম্যানুয়াল
জ্বালানি
জ্বালানির ধরণ পেট্রল
জ্বালানি ধারণক্ষমতা ১৩ লিটার
রিজার্ভ ১.৭ লিটার
ফুয়েল গজ হ্যা
ডিজিটাল ফুয়েল গজ হ্যা
ব্রেক
সামনে ডিস্ক
পিছনে ড্রাম
সামনের ব্যাস ২৪০ মিমি
পিছনের ব্যাস ১৩০ মিমি
টায়ার
সামনে ৯০/৯০-১৮
পিছনে ১২০/৮০-১৬
টাইপ টিউবলেস
র‌্যাডিয়াল টায়ার হ্যা
হুইল সাইজ
সামনে ১৮ ইঞ্চি
পিছনে ১৬ ইঞ্চি
হুইল বেজ ১৩১৫ মিমি
সাসপেনশন
সামনে টেলিস্কোপিক
পিছনে টুইন-স্প্রিং লোডেড হাইড্রলিক টাইপ- গ্যাস ফিলড
চেসিস/ ফ্রেম ডাবল ক্রেডল চেসিস
ইলেকট্রিকাল
ব্যাটারি টাইপ মেইনটেন্যান্স ফ্রি
ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ১২ ভোল্ট- ৪ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ভিআরএলএ
ভোল্ট ১২ ভোল্ট
হেডল্যাম্প ৫৫/৬০ ওয়াট
টেইল ল্যাম্প এলইডি
লো ব্যাটারি ইন্ডিকেটর হ্যা
লো ফুয়েল ইন্ডিকেটর হ্যা
টার্ন সিগনাল ল্যাম্প বাল্ব
পাস সুইচ হ্যা
আয়তন
দৈর্ঘ্য ২০৪৪ মিমি
উচ্চতা ১০৭০ মিমি
প্রস্থ ৭৮০ মিমি
স্যাডল হাইট ৭৮০ মিমি
কার্ব ওজন ১৩৫.৫ কেজি
গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিমি
মোট ওজন প্রযোজ্য নয়
ওজন বহন ক্ষমতা প্রযোজ্য নয়
ফিচার
স্পিডোমিটার অ্যানালগ
ওডোমিটার অ্যানালগ
সিট টাইপ সিঙ্গেল
কনসোল  অ্যানালগ ও ডিজিটাল
হ্যান্ডেল টাইপ সিঙ্গেল পিস

About মাহামুদ সেতু

হ্যালো রাইডারস, আমি মাহামুদ সেতু। থাকি রাজশাহীতে, পড়াশোনাও রাবি’তে। যদিও আমার নিজস্ব কোনো বাইক নেই, তারপরও আমি কিন্তু বাইকের ব্যাপারে পাগল। এক্ষেত্রে আমাকে ‘চন্দ্রাহত’ও বলতে পারেন, মানে ওই দূর থেকে চাঁদের (আমার ক্ষেত্রে বাইক) প্রেমে পাগল হয় যারা, তারা আর কি। যাই হোক, মূল কথায় আসি। গত দুই বছর ধরেই আমি বাইকবিডি.কমের নিয়মিত পাঠক। এখান থেকেই আমি বাইক সম্পর্কে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। ব্লগের সবগুলো লেখাই একাধিকবার পড়েছি। এখানেই জানতে পারলাম বাইক মোডিফিকেশন সম্পর্কে। শেষমেশ এখন তো সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি, বাইক নিয়েই কাজ করবো। মানে, বাইক মোডিফিকেশনটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছি। জানি কাজটা কঠিন, তারপরও আমি আশাবদী। আমার জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য বাইক মোডিফিকেশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দেশে এতো এতো সুন্দর, দ্রুতগতির ও ভালো বাইক (বাংলাদেশে আইনত যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫০সিসি) আছে, অথচ আমার পছন্দ হোন্ডা সিজি ১২৫। আমার খুবই ইচ্ছা এই ক্ল্যাসিক বাইকটি কিনে নিজের হাতে মোডিফিকেশন করার।