একটি বাইকের ইন্জিন অয়েল সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা প্রয়োজন

আসলে অয়েল বা তেল হিসেবে আমরা যেটা জানি সেটা আসলে কী ? সেটা কী আমরা জানি ? আমরা বিভিন্ন সংজ্ঞামতে যেটা জানি সেটা হল তেল এমন একটি পদার্থ যা বেশ চটচটে একটি জৈবযৌগ এবং এটা পানির সাথে মিশে না । আর এই তেল হল বাইকের ইন্জিনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ যেটা ছাড়া বাইক বা অন্য যেকোন যন্ত্রপাতি চালানো সম্ভব না । তেল হল বাইকের কাছে রক্তের মত একটা বস্তু । মানুষ যেমন রক্ত ছাড়া বাচতে বা চলতে পারে না , তেমনই বাইক ও ইন্জিন অয়েল ছাড়া অচল । এই ইন্জিন অয়েল বাইকের ইন্জিনের ঘর্ষণ প্রতিরোধ , বাইকটি স্মুথলি রান করানো , ইন্জিন ঠান্ডা রাখা সহ অনেক কাজে ব্যাবহার করা হয় ।

url

বাইক চালাতে গেলে বাইকের কিছু আনুষঙ্গিক জিনিস বা কাজ করা লাগে যেমন বাইক চালাতে ফুয়েল ভরতে হয় কারণ ফুয়েল ছাড়াতো ইঞ্জিন চলবে না। বাইকের ইঞ্জিন অয়েল ভরতে হয় আবার নিদিষ্ট পরিমাণ পথ চালানোর পর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হয়। বাইক সার্ভিসিং করতে হয় ইত্যাদি। এগুলো না করলে কিছু দিন চালানোর পর বাইক চালানোর অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সুতরাং আমাদেরকে অবশই বাইকের যত্ন নিতে হবে। আজ আমরা বাইকের ইঞ্জিন অয়েল কি এবং বাজারে যে ইঞ্জিন অয়েল গুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর কোয়ালিটি সম্পর্কে জানবো।

মূলত বাইকে অয়েল ব্যবহার করা হয় লুব্রিক্যান্ট হিসাবে তাছাড়া বাইকের ইঞ্জিন ঠাণ্ডা রাখা, ইঞ্জিনের কর্ম দক্ষতা বাড়ানো, এন্টি-রাস্ট এজেন্ট হিসাবে এবং প্রটেকশন-এর জন্য ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা হয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের জন্য কত দারকারি।

বাজারে বিভিন্ন ধরণের এবং বিভিন্ন গ্রেডের বাইকের ইন্জিন অয়েল পাওয়া যায় কিন্তু আমরা বেশির ভাগি জানি না একটা গ্রেড থেকে আর একটা গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েলের তুলনামূলক পার্থক্য কি? আসুন আমরা এ বিষয়ে জেনে নিই।

ওমেরা

সাধারণত যেসব ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা হয় সেগুলোর কোড হল SAE, JASO, MA, MA2,20W40,20W50,10W30 ইত্যাদি।এসব কোড ইঞ্জিন অয়েলের কনটেইনারে লেখা থাকে। যেগুলো দ্বারা ওই ইঞ্জিন অয়েল কোন প্রকারের এবং কি জন্য ব্যবহার করা হয় জানা যায়। আসুন আমরা কমন কিছু ইঞ্জিন অয়েলের ক্লাসিফিকেশন এবং কিসের জন্য ব্যবহার করা হয় জেনে নিই।

  • API – American Petroleum Institute
  • JASO – The Japanese Automotive Standards Organization
  • “S” grade stands for Petrol vehicles. (Sprak Ignition)
  • “C” grade stands for Diesel vehicles.(Compression)
  • “W” for winter
  • Multi grade
  • Single grade
  • EP – Extra Pressure
  • SAE (Society of Automotive Engineers
  • MA – Grade for Wet Clutch type vehicles (HIGH FRICTION VEHICLES. Non Clutch Slipping Oil)
  • MA2- next version of MA(HIGH FRICTION VEHICLES Non Clutch Slipping Oil)
  • MB – LOW FRICTION VEHICLES(NOT RECOMMENDED. Clutch Slipping Oil)

এখানে আমরা দেখছি যে “S” গ্রেডের অয়েল পেট্রোল ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয় যার ইগনিশন সিস্টেম স্পার্ক সুতরাং বাইকের জন্য অবশ্যই আমাদের “S” গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করতে হবে।“C” গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য এবং MA গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল হলো ওয়েট ক্লোচ টাইপের ইঞ্জিনের জন্য।

EP/Extra Pressure গিয়ার বক্সে ব্যবহারের জন্য ভালো।কিন্তু ইঞ্জিন অয়েল হিসাবে এবং 2 স্ট্রোক ইঞ্জিনের গিয়ার বক্সে ব্যবহারের জন্য ভালো না।

পেট্রোল ইঞ্জিন অর্থাৎ বাইকের ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড গুলো হলো SA, SB, SC, SD, SE, SF, SG, SH, SJ, SL এবং SM। বেশির ভাগ মানুষ API/SAE-SL/SM (JASO MA or MA2) কোডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করে এবং উক্ত কোডের মধ্য SM গ্রেডের অয়েল তুলনামূলকভাবে ভালো কারণ এটার ভালো অক্সিডেশন রেসিসটান্স আছে, ডেপোজিট ও ওয়ার প্রটেকশন করে আবার কম তাপমাত্রায় ভালো কাজ করে।বাংলাদেশের বাইক গুলো যেহেতু ম্যাক্সিমাম ইন্ডিয়ান এবং ইন্ডিয়ার সবগুলো বাইকই ওয়েট ক্লাচ সিস্টেমের সুতরাং আমাদের এই বিষয়টা খেয়াল করে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করতে হবে। যার যে বাইক এবং সেই বাইক কোম্পানি যে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করতে রিকমেন্ড করে সেই টাইপের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা ভালো।

বিভিন্ন কোয়ালিটি এবং বিভিন্ন গ্রেডের জন্য নিচের ইনফরমেশন থেকে জানা যায় ওই গ্রেড বা ওই ইঞ্জিন অয়েল উক্ত তাপমাত্রার নিচে কাজ করে না:

  1. 0° C(32° F) – 5W-20, 5W-30, 10W-30,10W-40,20W-50
  2. -18° C (0° F) – 5W-20, 5W-30, 10W-30, 10W-40.
  3. BELOW -18° C (0° F) – 5W-20, 5W-30.

আবার একই গ্রেডে কিছু ভিন্ন টাইপের অয়েল আছে।যা এদের উপাদান এবং তৈরি পদ্ধতির জন্য ভিন্ন হয় যেমন- মিনেরাল, সিনথেটিক এবং সেমি-সিনথেটিক অয়েল।

মিনেরাল অয়েল:

ভূগর্ভ থেকে যে অয়েলটা আমরা পাই সেটিকে মিনেরাল অয়েল বলে।যাকে সাধারণত ন্যাচারাল অয়েল বলা হয়।

সিনথেটিক অয়েল:

রাসায়নিকবিদরা ল্যাবে যে অয়েল উৎপন্ন করে সেটি সিনথেটিক অয়েল।এটি মূলত কৃত্রিম অয়েল। এটা বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে গবেষণাগারে তৈরী করা হয় ।

সেমি- সিনথেটিক অয়েল:

মিনেরাল এবং সিনথেটিক অয়েলের মিশ্রণকে সেমি-সিনথেটিক অয়েল বলে।

মিনারেল অয়েলের সাথে সিনথেটিক অথবা সেমি- সিনথেটিক অয়েল মিশানো যাবেনা । আপনি আপনার বাইকে ইন্জিন অয়েল পরিবর্তন করার জন্য বছরে একবার বা ২ বা ইনিজ্ন অয়েল ব্যাবহারের আগে ফ্লাসিং অয়েল ব্যাবহার করতে পারেন । অবশ্য এটা আপনি বছরে মোট কত কিলোমিটার বাইক রাইড করছেন এটার উপরেও ডিপেন্ড করে । তবে কার্বন পরিস্কার করার জন্য ফ্লাসিং অয়েলের পরিবর্তে কখনও ভুল করেও কেরোসিন বা ডিজেল বা পেট্রোল ব্যাবহার করবেন না ।এটা বাইকের ইন্জিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে । নতুন গ্রেড অয়েলে কার্বন কণা দূরিকরণের জন্য পুরাতন গ্রেড থেকে ভালো পরিষ্কারক আছে ।সুতরাং পুরাতন গ্রেড থেকে নতুন গ্রেড ব্যবহার করা ভালো।কখনো গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল বাইকে ব্যবহার করা যাবে না।

আর মনে রাখবেন ঘর্ষণ কমানোর জন্য বাইকের ইন্জিন অয়েলের সাথে আলাদা করে কোন লুব্রিকেন্ট বা অয়েল ব্যাবহারের কোন দরকার নেই । এটার ইন্জিন অয়েলই এটার জন্য যথেষ্ঠ । আর যদি এটা ব্যাবহার করেন তাহলে বেশী লোডে থাকার সময় অথবা বেশী স্পীডে ক্লাচ স্লিপ করতে পারে ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে বাইকের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করার জন্য আমাদের অনেক গুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে।যা বাইকের যত্নের জন্য খুবই প্রয়োজন। আজ আর নয় আমরা নিজেদের দিকে খেয়াল রাখব এবং বাইক চালানোর সময় ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলব।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Sign up to our newsletter!


error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!