টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫-এর ভিজ্যুয়াল রিভিউ

টিভিএস অটো বাংলাদেশ সম্প্রতি তাদের নতুন কয়েকটি মডেল বাংলাদেশের বাজারে ছেড়েছে। এর একটি হচ্ছে টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫; একই দিনে তারা আরো পাঁচটি মডেল এনেছে বাজারে। যাই হোক, টিভিএসের আস্তাবলে ১২৫ সিসির অন্য আরেকটি কমিউটার বাইক থাকার পরও তারা স্ট্রাইকার ১২৫ বাজারে ছেড়েছে। তাহলে চলুন এবার নতুন এই কমিউটারটি সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক। টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর গেটআপ টিভিএস মোটর ইন্ডিয়া’র নতুন একটি কমিউটার শ্রেণির বাইক টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫। এই বাইকটি মূলত টিভিএস তাদের আন্তর্জাতিক বাজারের কথা মাথায় রেখে তৈরি করেছে। সেজন্য তারা ভারতেই এখনো এই বাইকটি বাজারজাত করেনি। টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ প্রথমে কলম্বিয়া ও পরে বাংলাদেশে ছাড়া হয়েছে। টিভিএস…

Review Overview

User Rating: 4.83 ( 2 votes)

টিভিএস অটো বাংলাদেশ সম্প্রতি তাদের নতুন কয়েকটি মডেল বাংলাদেশের বাজারে ছেড়েছে। এর একটি হচ্ছে টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫; একই দিনে তারা আরো পাঁচটি মডেল এনেছে বাজারে। যাই হোক, টিভিএসের আস্তাবলে ১২৫ সিসির অন্য আরেকটি কমিউটার বাইক থাকার পরও তারা স্ট্রাইকার ১২৫ বাজারে ছেড়েছে। তাহলে চলুন এবার নতুন এই কমিউটারটি সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক।

টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর হেড লাইটটিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর গেটআপ

টিভিএস মোটর ইন্ডিয়া’র নতুন একটি কমিউটার শ্রেণির বাইক টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫। এই বাইকটি মূলত টিভিএস তাদের আন্তর্জাতিক বাজারের কথা মাথায় রেখে তৈরি করেছে। সেজন্য তারা ভারতেই এখনো এই বাইকটি বাজারজাত করেনি। টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ প্রথমে কলম্বিয়া ও পরে বাংলাদেশে ছাড়া হয়েছে।

টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ দেখতে খুবই আকর্ষণীয় একটি কমিউটার। এটা এর আগের টিভিএস ফিনিক্স ১২৫ এর সিঙ্গেল ক্রেডল টিউবুলার ফ্রেমের ওপর ভিত্তি করেই ডিজাইন ও নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্ট্রাইকারের বডি প্যানেল ও গ্রাফিকস পুরোপুরি আলাদা। এর সঙ্গে আবার টিভিএস অ্যাপচি আরটিআর এর কিছু ডিজাইনের সংমিশ্রণ রয়েছে।

টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর স্পেসিফিকেশনএর ফুয়েল ট্যাংক, সাইড প্যানেল ও সিট সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের। যে কারণে এটা দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়। আশা করি, বাইকারদের কাছে এটা ভালো লাগবে। তাছাড়া এই বাইকটি সকল শ্রেণির কমিউটার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে মানানসই হবে বলেও আমাদের বিশ্বাস।

আপনি যদি খুব ভালো করে লক্ষ করেন, তবে দেখবেন এতে একাধিক ডিজাইনের মিশ্রণ রয়েছে। এর পিছনের বডি প্যানেল, টেইল লাইট, হেড লাইট কেসিং ও সামনের মাডগার্ড অনেকটা টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর এর মতো। আর অ্যাপাচির সঙ্গে মিল থাকা নতুন ডিজাইন ও স্টাইলের এই নতুন কমিউটারটি দেখতে অনেক বেশি রিফ্রেশড ও দৃষ্টি আকর্ষণী!

টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর ফিচার সমূহটিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর ফিচারসমূহ

শুধু নতুন ডিজাইনের বডি প্যানেলই নয়, বরং টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর দুই চাকাতেই রয়েছে অ্যালয় রিম ও টিউবলেস টায়ার। পাশাপাশি এর সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেকও রয়েছে অ্যাপাচির মতো এবং পিছনে ড্রাম।

তাছাড়া এর অডো কনসোলটিও আরেকটি আকর্ষণীয় অংশ। এর সম্পূর্ণ কনসোলটিই ডিজিটাল। সবগুলো প্যারামিটার একটি রাউন্ড পিট কেসিং এর মধ্যে বসানো হয়েছে। আর রাতের বেলায় এটি দেখতে আরো বেশি সুন্দর মনে হয়।

টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর সামনের অংশে প্রথাগত টেলিস্কোপিক সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পিছনের সাসপেনশনটি এ ধরনের মডেলে নতুন সংযোজন। এতে ডুয়েল স্প্রিং সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের সাসপেনশন অনেক বেশি আরামদায়ক। তবে যদিও এই সাসপেনশনটি আসলে কতোটুকু কার্যকর হবে তা বাইক না ব্যবহার করা বলা সম্ভব নয়! বাইক চালিয়েই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর ইঞ্জিনটিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর টেকনিকাল স্পেসিফিকেশন

তাহলে পাঠক, টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর যান্ত্রিক দিক নিয়ে কথা বলার আগে এর টেকনিকাল স্পেসিফিকেশন দেখে নেওয়া দরকার।

ইঞ্জিন সিঙ্গেল সিলিন্ডার ৪-স্ট্রোক, এয়ার কুলড ইঞ্জিন
ডিসপ্লেসমেন্ট ১২৪.৫৩ সিসি
বোর x স্ট্রোক ৫৭ মিমি X ৪৮.৮ মিমি
কম্প্রেশন রেশিও ৯.৪ : ১
সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৮.১ কিলোওয়াট (১১ পিএস) @ ৮০০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ১০.৮ নিউটন মিটার @ ৫৫০০ আরপিএম
ইগনিশন ডিসি-ডিজিটাল টিসিআই
ট্রান্সমিশন ম্যানুয়াল ৪ স্পিড
ক্লাচ টাইপ ওয়েট মাল্টি প্লেট
স্টার্টিং কিক ও ইলেকট্রিক
আয়তন (দৈর্ঘ্য x প্রস্থ x উচ্চতা) ১৯৯৫ মিমি x ৭৬৫ মিমি x ১০৮০ মিমি
চ্যাসিস সিঙ্গেল ক্রেডল টিউবুলার ফ্রেম
হুইলবেজ ১২৬৫ মিমি
স্যাডল হাইট পাওয়া যায়নি
ভূমি থেকে উচ্চতা ১৭৩ মিমি
ওজন (কার্ব) ১১৭ কেজি
জ্বালানি ধারণ ক্ষমতা রিজার্ভ ২ লিটার সহ ১০ লিটার
সাসপেনশন (সামনে/পিছনে) টেলিস্কোপিক ওয়েল ডাম্পড ফর্ক / ডুয়েল স্প্রিং সাসপেনশন
ব্রেক (সামনে/পিছনে) সামনে ২৪০ মিমি ডিস্ক, পিছনে ১৩০ মিমি ড্রাম
টায়ার সাইজ (সামনে / পিছনে) সামনে ২.৭৫ X ১৭, পিছনে ৯০ / ৯০-১৭;  উভয়টি টিউবলেস
ব্যাটারি ১২ ভোল্ট, ৫ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার লিড অ্যাসিড টাইপ
হেড ল্যাম্প ১২ ভোল্ট, ৩৫/৩৫ ওয়াট × ১
স্পিডমিটার সম্পূর্ণ ডিজিটাল কনসোল

*কোম্পানির নীতি, পলিসি, অফার ও প্রমোশন অনুযায়ী প্রকাশিত মূল্য ও স্পেসিফিকেশন যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। এমন পরিবর্তনের জন্য বাইকবিডি দায়ী থাকবে না।

টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর ভিজ্যুয়াল রিভিউটিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর মেরুদণ্ড

তাহলে দেখতেই পাচ্ছেন, টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর ইঞ্জিনটি ১২৪.৫৩ সিসির এবং এটি ৪ স্ট্রোক সিঙ্গেল সিলিন্ডার বিশিষ্ট। তুলনা করলে দেখা যাবে এর ইঞ্জিনের ক্ষমতা টিভিএস ফিনিক্স ১২৫ এর মতো একই। মানে বোঝাই যাচ্ছে, টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এ ফিনিক্সের ইঞ্জিনই লাগানো হয়েছে।

>>বাংলাদেশে টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫-এর মূল্য দেখতে ক্লিক করুন

এর ফলে এটা অন্তত নিশ্চিত হওয়া যায় যে, টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর ইঞ্জিন পরীক্ষিত ও এর কার্যকরিতা টিভিএস ফিনিক্স থেকেই বোঝা যাচ্ছে। সুতরাং আপনি নিশ্চিতে এর ওপর ভরসা করতে পারেন।

অন্যদিকে নতুন একটি ডিজাইন বেছে নেওয়ার সুবিধা তো রইলোই। আপনি যদি কমিউটার বাইক ব্যবহারকারী এবং টিভিএস প্রেমী হন, তবে আপনি এই দুটির (ফিনিক্স ও স্ট্রাইকার) মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন। তবে আমাদের বিশ্বাস, টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর নতুন মন কাড়া ডিজাইন আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে।

>> বাংলাদেশে টিভিএস মোটরসাইকেলের সকল শোরুম দেখতে ক্লিক করুন

পাঠক, এই ছিলো টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ নিয়ে আমাদের আজকের ভিজ্যুয়াল রিভিউ। আশা করছি, আমরা আপনার সামনে টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫ এর একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরতে পেরেছি। আমরা আবারো আপনাদের সামনে হাজির হবো নতুন কোনো বাইকের রিভিউ নিয়ে। আমাদের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ।

 

About মাহামুদ সেতু

হ্যালো রাইডারস, আমি মাহামুদ সেতু। থাকি রাজশাহীতে, পড়াশোনাও রাবি’তে। যদিও আমার নিজস্ব কোনো বাইক নেই, তারপরও আমি কিন্তু বাইকের ব্যাপারে পাগল। এক্ষেত্রে আমাকে ‘চন্দ্রাহত’ও বলতে পারেন, মানে ওই দূর থেকে চাঁদের (আমার ক্ষেত্রে বাইক) প্রেমে পাগল হয় যারা, তারা আর কি। যাই হোক, মূল কথায় আসি। গত দুই বছর ধরেই আমি বাইকবিডি.কমের নিয়মিত পাঠক। এখান থেকেই আমি বাইক সম্পর্কে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। ব্লগের সবগুলো লেখাই একাধিকবার পড়েছি। এখানেই জানতে পারলাম বাইক মোডিফিকেশন সম্পর্কে। শেষমেশ এখন তো সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি, বাইক নিয়েই কাজ করবো। মানে, বাইক মোডিফিকেশনটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছি। জানি কাজটা কঠিন, তারপরও আমি আশাবদী। আমার জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য বাইক মোডিফিকেশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দেশে এতো এতো সুন্দর, দ্রুতগতির ও ভালো বাইক (বাংলাদেশে আইনত যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫০সিসি) আছে, অথচ আমার পছন্দ হোন্ডা সিজি ১২৫। আমার খুবই ইচ্ছা এই ক্ল্যাসিক বাইকটি কিনে নিজের হাতে মোডিফিকেশন করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!