ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম (টাস) ভি২.০ ও এর ফিচার

বাংলাদেশের মোটরসাইকেল গ্যাজেট মার্কেটে কিছু সিকুরিটি ডিভাইস বেশ ভালো সুনাম অর্জন করেছে এবং সেগুলোর বিক্রিও হচ্ছে বেশ ভালো। এসবের মধ্যে ট্যাকটিকাল সিকুরিটি সিস্টেম ভি২.০ সর্বাধিক ফিচারসমৃদ্ধ গ্যাজেটের একটি। তাই আজকে আপনাদেরকে ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম (টাস) ভি২.০ ও এর ফিচার নিয়ে বিস্তারিত জানাতে এই লেখার অবতারণা।ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম (টাস) এর দাম

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা তাদের প্রাণাধিক প্রিয় বাইকের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময়ই শঙ্কায় থাকেন। আর এখনকার চোরেরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে বেশ দক্ষ হওয়ায় সাধারণ বার্গলার সিস্টেম সহজেই নিষ্ক্রিয় করতে পারে।

তাই এসব সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজকের দিনে আর যথেষ্ট নয়। সেই অভাব পূরণে বাজারে চলে এসেছে কিছু অত্যাধুনিক ও হাইব্রিড ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো আপনার বাইকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। আর এমনই একটি অত্যাধুনিক ও হাইব্রিড ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হচ্ছে ট্যাকটিকাল সিকুরিটি সিস্টেম (টাস) ভি২.০, যেটাতে সর্বাধিক নিরাপত্তা ফিচার রয়েছে।

এই নিরাপত্তা পদ্ধতির ডেভেলপার তার স্লোগানের মধ্য দিয়ে দাবি করেন, এটা মিলিটারি গ্রেড মোটরসাইকেল সিকুরিটি। তাহলে চলুন এবার ট্যাকটিকাল সিকুরিটি সিস্টেম ভি২.০, যা বাজারে টাস নামে অধিক পরিচিত, তার ফিচারগুলোর আদ্যোপান্ত জেনেই নিই।ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম (টাস)

ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম ভি২.০—মৌলিক বৈশিষ্ট্য

টাস সিকুরিটি ডিভাইসটি বাইকের মূল ওয়্যারিংয়ের সঙ্গে সিরিজ সংযোগে যুক্ত থাকে। ফলে এটা বাইকের সর্বোচ্চ ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু এটা এমনভাবে বানানো হয়েছে যে এই সিকুরিটি সিস্টেমকে শর্ট সার্কিট করে বাইপাস, কাটাছেড়া বা নষ্ট করা সম্ভব না।

তারপরও কোনোভাবে যদি কাটাছেড়া করা হয়, সঙ্গে সঙ্গে মালিকের কাছে নিরাপত্তা সঙ্কেত চলে যাবে। যাহোক এর সঙ্গে আরো বেশ কিছু শক্তিশালী ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মৌলিক দিকগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো :

  • টাস লাগানোর পর কোনো বাইক ইলেকট্রনিকালি বা স্টার্ট করে চুরি করে নেওয়া সম্ভব না। চুরি করতে হলে ট্রাক বা অন্য গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যেতে হবে।
  • টাস লাগানো বাইক বিনা অনুমতিতে কেউ শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনোভাবে সার্কিট বাইপাস করে কিংবা ব্যাটারির সংযোগ খুলে ফেলে স্টার্ট করাতে পারবে না।
  • মালিকের কাছে থাকা বিশেষ ডিভাইসটি ছাড়া মাস্টার কি দিয়েও বাইক স্টার্ট করা যাবেনা।
  • যদি কেউ টাস খুলে বা ওয়্যারিংয়ে পরিবর্তন আনে তারপরও যথাযথভাবে টাস আনলক না করলে বাইক স্টার্ট নিবে না।
  • যদি কেউ চলন্ত গাড়ি ছিনতাই করেও নেয়, সেটাও কিছু দূর গিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে। মালিকের কাছে থাকা ডিভাইসের অনুমোদন ছাড়া পরে আবার বাইকটি স্টার্ট নিবে না।
  • কেউ যদি পার্কিং বা কোথাও থেকে বাইক গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে মালিকের কাছে নিরাপত্তা সঙ্কেত যাবে এবং তার কাছে থাকা ডিভাইসটি ভাইব্রেট করবে। তাছাড়া বাইকের লাইট ও হর্নও এসময় চালু হয়ে সঙ্কেত দিবে।

ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম (টাস) এর ফিচারট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম ভি২.০—ফিচারসমূহ

  • টাস ডিভাইসটি হর্নের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই কোনো অপচেষ্টা চালানো হলে হর্ন সঙ্কেত দিতে থাকবে।
  • মিটিং বা ধর্মীয় স্থানে ডিভাইসের অ্যালার্ম সাইলেন্ট রাখার ব্যবস্থা আছে। বাইক অ্যালার্ম ও মালিকের কাছে থাকা ডিভাইসের অ্যালার্ম আলাদা ভাবে সাইলেন্ট করা যায়।
  • এতে নোটিফিকেশন লাইট আছে যা সবসময় জ্বলজ্বল করতে থাকে। তবে এটা বন্ধ রাখা যায়।
  • এটার ইমমোবিলাইজার সিস্টেমকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব না।
  • মালিকের চাবির রিঙে একটি অ্যালার্ম ও ভাইব্রেট ডিভাইস যুক্ত থাকে।
  • দূর থেকে বাইকের স্টার্ট বন্ধ করা সম্ভব, কেউ বাইক ছিনতাই করে নিয়ে যেতে চাইলে।
  • এতে সেফটি ফিউজ রয়েছে, যার ফলে কোনো তার কেটে গেলেও সিস্টেম কার্যকর থাকে। আর কেউ তার কেটে দিলে অ্যালার্ম চালু হয়ে যাবে।
  • টাসের সঙ্গে বাইকের ইন্ডিকেটর লাইটও সংযুক্ত থাকে। ফলে চুরির চেষ্টা চালালে তা জ্বলজ্বল করবে।
  • বাইকে টাস লাগানো খুবই সহজ। ওয়্যারিংয়ের মৌলিক জ্ঞান থাকলেই এটা লাগাতে পারবে যে কেউ।
  • এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ৫ ধাপে সেনসিটিভিটি কন্ট্রোল রয়েছে। ফলে মালিক চাইলে এর সেনসিটিভিটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
  • জ্বালানি ট্যাঙ্কও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে জ্বালানি তের চুরিও রোধ করা যায়।
  • বাইকে সংযুক্ত সেন্সরটি লুকোনো থাকায় মাস্টার কি ও ডিভাইস থাকলেও অপরিচিত কেউ বাইক স্টার্ট করতে পারবে না।
  • এতে ভি২ নামক সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগুন ও পানি প্রতিরোধক। এটি ব্যাটারি পাওয়ার ছাড়াই কাজ করতে পারে। ফলে এটাকে টেম্পার, মডিফাই, জ্যাম বা নষ্ট করা সম্ভব না। ফলে কেউ ডিভাইসটি নষ্ট করতে পারলেও ভি২ সেন্সরটি নষ্ট করতে পারবে না। আর ডিভাইস নষ্ট হয়ে গেলেও ভি২ সেন্সরটি নিজেই বাইক স্টার্ট দিতে পারবে।
  • সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হলো মালিক চাইলে মাস্টার কি ও অথোরাইজেশন ডিভাইস ছাড়াই বাইক চালু করতে পারবেন। ফলে কখনো বাইক ছিনতাই হলে মালিক তৎক্ষণাৎ বাইক বন্ধ করে দিতে পারবেন।

বাংলাদেশে টাস এর দাম

ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম ভি২.০—অতিরিক্ত সুবিধা

  • জিপিএস ট্রেকিং সিস্টেমের সঙ্গেও টাসকে সংযুক্ত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে শুধু জিপিএস ডিভাইস কিনলেই চলবে এবং এতে কোনো মাসিক চার্জও দিতে হবে না।
  • জিপিএস লাগালে আপনি আলাদাভাবেও বাইক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এটাতে লোকেশন ইন্ডিকেটর, স্বয়ংক্রিয় গতি রোধক, জ্বালানি রোধক, মুভমেন্ট অ্যালার্ম, ইগনিশন অ্যালার্ম সুবিধা রয়েছে।

** এখানে প্রদত্ত মূল্য, ফিচার, প্রমোশন, ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি সবকিছুই পণ্যের ডেভেলপার ও বিক্রেতার ওপর নির্ভর করে। এসবের জন্য বাইকবিডি দায়ী নয়।

তাহলে পাঠক এই ছিলো ট্যাকটিকাল সিকিউরিটি সিস্টেম (টাস) ভি২.০ ও এর ফিচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এসব ফিচারের পাশাপাশি টাসের বেশ কিছু মজার ফিচার রয়েছে, যেগুলো ক্রেতার চাহিদামতো সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।

আরো বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন :

টাসলক

১৬৫/এ, পূর্ব রাজাবাজার

ইন্দিরা রোড, ফার্মগেট

ঢাকা।

মোবাইল : ০১৭১৫-৫৯৩৪৬৮

 

আর্টিকেলটি পূর্বে ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয়েছিলো।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!