ট্রাফিক জ্যামের ভেতর রাইডিং এর কিছু টিপস

ট্রাফিক জ্যাম , বাংলাদেশে যেটা খুবই একটা পরিচিত শব্দ । এমনকী চোখ বন্ধ করলে আপনি লাস্ট যে সিন টা দেখতে পাবেন সেটা হয়ত আপনি কোন প্রচুর ট্রাফিকের ভেতর দিয়ে রাইড করছেন এবং সেখানকার কোলাহল , বিরক্তি ও আরও অনেক কিছু । আসলেই এটা অনেক বিরক্তিকর একটা মুহুর্ত । ট্রাফিক জ্যামে পড়েননি এমন রাইডার মনে হয় …

Review Overview

User Rating: 4.9 ( 1 votes)
0

ট্রাফিক জ্যাম , বাংলাদেশে যেটা খুবই একটা পরিচিত শব্দ । এমনকী চোখ বন্ধ করলে আপনি লাস্ট যে সিন টা দেখতে পাবেন সেটা হয়ত আপনি কোন প্রচুর ট্রাফিকের ভেতর দিয়ে রাইড করছেন এবং সেখানকার কোলাহল , বিরক্তি ও আরও অনেক কিছু । আসলেই এটা অনেক বিরক্তিকর একটা মুহুর্ত । ট্রাফিক জ্যামে পড়েননি এমন রাইডার মনে হয় বাংলাদেশে খুবই কম আছেন । সবারই এই তিক্ত অভিজ্ঞতাটা কমবেশী আছে । ট্রাফিকের ভেতর রাইডিংটা আসলেই একটা দুঃসপ্নের মত ।

ট্রাফিক জ্যামের ভেতর রাইডিং এর কিছু টিপস

বিশেষ করে যারা নতুন বাইক চালানো শিখেছেন বা এই ধরণের রোডে নতুন রাইড করছেন । ট্রাফিকের ভেতর দিয়ে রাইডিং এর সময় অনেক ছোটখাট দূর্ঘটনা ঘটে থাকে যেগুলো আপনার ও আপনার বাইকের ক্ষতি করতে পারে । আজ আমাদের আলোচনার বিষয় হল এই ট্রাপিকের ভেতর দিয়ে কেমন ভাবে রাইডিং করা উচিৎ বা সবোর্চ্চ পরিমাণ নিরাপত্তার সাথে কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায় ? আমরা বেশ কয়েকটি পয়েন্ট নোটিশ করেছি যেগুলো মেনে চললে আপনি ট্রাফিকের ভেতর দিয়ে বেশ আরামদায়কভাবে ও নিরাপত্তার সাথে রাইডিং করতে পারবেন । তো চলুন , শুরু করা যাক ।

যানবাহনের ড্রাইভার এবং মিররের দিকে নজর রাখুন

ট্রাফিকের ভেতর আয়না এবং বিভিন্ন গাড়ির জানালা দিয়ে ড্রাইভারদের মুভমেন্ট লক্ষ করাটা একটা ভাল প্রাকটিস । এর ফলে আপনি কোন গাড়ি হঠাৎ মুভ করলে আগে থেকেই বুঝতে পারবেন । বেশীরভাগ ড্রাইভাররাই কোন সিগন্যাল ছাড়া ডানে বা বামে কোন দিকে মোড় নেন না । তাই , অন্যান্য যানবাহনের দিকে সবসময়ই নজর রাখুন । ট্রাফিকের ভেতর অন্যমনস্ক হওয়া মোটেই উচিৎ না ।

আপনার মিররকে বিশ্বাস করুন , কিন্তু পুরোপুরি নয়

আপনার বাইকের মিরর গুলো আপনার অনেক কাজের একটা জিনিস । এটা আপনার জীবনকে রক্ষা করতে অনেক ভূমিকা রাখে । কিন্তু এটাও ঠিক যে মিরর গুলো সবসময় পুরো কাহিনী বলে না । মানে , মিররে যা দেখেন তার বাইরেও অনেক কিছু ঘটতে পারে । তাই , আপনার মিরর এর উপর সম্পূর্ণ ভরসা করা একেবারেই ঠিক না । আপনার মিররে কোনকিছূ দেখে মুভ করার আগে বা কোন ডিসিসন নেবার আগে নিজের চোখে একবার দৃশ্যটা দেখে সেওর হন ।

একটা গাড়ি এবং অফর‌্যাম্প এর ভেতর পড়বেন না

এটা সবসময় মেনে চলুন । কখনও এমন পরিস্থিতির ভেতর পড়বেন না যে আপনি একটা যানবাহন এবং একটা অফর‌্যাম্প এর ভেতর পড়ে গেছেন । অফ র‌্যাম্প হল একটা শর্ট রোড যেটা একটা হাইওয়ে শেষ হবার পর যানবাহন আস্তে আস্তে স্লো করে । এসময় স্পীড যথেষ্ঠ কম রাখুন এবং দেখেশুনে রাইডিং ককরুন । এইভাবে প্রতিবছরই অনেক রাইডার মারা যায় । তাই , ট্রাফিকের ভেতর রইডিং এর সময় বিষয়টা মাথায় রাখুন ।

ব্রেক এ সবসময় হাত রাখুন

ট্রাফিকের ভেতর আপনাকে অবশ্যই সবকিছু একটু দ্রুততা সাথে করতে হবে , নাহলে আপনার সময়ের অপচয় বাড়তে থাকবে । তাই এই সময় দ্রুত মুভমেন্টেরও প্রয়োজন পড়ে । কিন্তু এটাও মাথায় রাখা দরকার , দ্রুত মুভমেন্টের সাথে আপনাকে যেকোন সময় দ্রুত থামতেও হতে পারে । তাই , আপনার হাতটি সবসময়ই ব্রেকের উপর রাখুন যেন আপনার সামনের কোন গাড়ি হঠাৎ করে থামলে আপনিও সেই সাথে রেসপন্স করতে পারেন ।

নিজেকে সো করান

একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ট্রাফিকের ভেতর আপনার নিজেকে অন্যদের কাছে ভালভাবে সো করা । ট্রাফিকের ভেতর এমমন পজিশনে আপনি থাকতে পারেন যে আপনার পেছনের কোন ড্রাইভার আপনাকে দেখতে পাচ্ছে না । ফলে তার মুভমেন্টের সময় সে আপনার উপস্থিতিটা নজরে আনবে না । আর এটা মারাত্মক এক্সিডেন্ট ঘটাতে পারে । তা্ই , এমনভাবে পজিশন নিন যে অন্যান্য প্রাইভাররা আপনাকে দেখতে পায় অ দরকার হলে উজ্জ্বল রঙের কোন ড্রেসআপ করুন এবং উজ্জ্বল রঙের হেলমেট ইউজ করুন ।

একটু বেশী পাওয়ার খরচ করুন

ট্রাফিকের ভেতর বাইকের তেল একটু বেশী খরচ করুন । বেশী খরচ বলতে অন্য কোন উপায়ে বেশী খরচ করতে বলিনি , জাস্ট এই সময় আপনার বাইকটি আপনি সাধারণত যে গিয়ারে রাখেন তার থেকে একটা গিয়ার কমিয়ে রাখুন । কারন, এর ফলে সামনের কোন গাড়ি মুভ করলে আপনিও সাথে সাথে খুব দ্রুত সামনের দিকে মুভ করতে পারবেন । আর , এই সময় বাইক বেশী গিয়ারে থাকলে হঠাৎ করে জোরে মুভ করতে গেলে আপনার স্টার্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে । আর এই সময় সেফটির জন্য অবশ্যই ব্রেকিং এর বিষষয়টা মাথায় রাখবেন । জোরে স্পীড আপ করার পর হঠাৎ করে আপনাকে থামতেও হতে পারে । জোরে মুভ করলে আপনার আশে পাশের যানবাহনগুলো আপনার উপস্থিতিও টের পেয়ে যাবে ।

স্লো করলে কোন দিকে অবস্থান নিবেন

যখন ট্রাফিক থেমে থাকে তখন আপনার পজেশন কেমন হওয়া উচিৎ । এই সময় আপনার সামনের কোন যানবাহনের পেছনে না থেকে বাম বা ডান পাশে থাকার চেষ্ট করুন । কারণ , এর ফলে আপনি ট্রাফিকের ভেতরও ওভারটেকিং এর একটা সুযোগ পাবেন । আর , সামনের কোন গাড়ি হঠাৎ করে ব্রেক করলেও আপনার তেমন ক্ষতি হবার কোন সম্ভাবনা থাকবে না ।

আশেপাশে সবকিছুর দিকে নজর রাখুন

ট্রাফিকের ভেতর সবসময় আপনার আশেপাশের এরিয়া আপনার চোখ দিয়ে স্ক্যান করতে থাকুন , আপনার মিররের দিকে সবসময় নজর রাখুন এবং আপনার আশেপাশে কী ঘটছে সেটার দিকে নজর রাখুন । ভালভাবে খেয়াল করলে আপনি ট্রাফিক থেকে বের হয়ে যাবার বা এগিয়ে যাবার কোন সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন । আর এটা আপনাকে অনেক সেফটিও প্রদান করবে । যদি এরিয়াটা অনেক লম্বা হয় , তাহলে শুধু আপনার পেছনে ও সামনে নজর রাখলেও হবে ।

সামনের গাড়ির মুভমেন্টের ক্ষেত্রে সতর্ক হোন

যদি দেখতে পান যে আপনার সামনের কোন কার থেমে রয়েছে এবং বামে মোড় নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে , তাহলে প্রস্তুত হোন । এক্ষেত্রে হঠাৎ করে স্পীড আপ করে চলে যেতে চাইলে ড্রাইভার যদি আপনার দিকে কেয়ার না করে তাহলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন । তাই , কারের চাকার দিকে , ড্রাইভারের স্টিয়ারিং এর দিকে নজর রাখুন এবং ডিসিসন নিন আপনার এই সময় এক্সেলেরেট করা উচিৎ , নাকি ব্রেক করা উচিৎ নাকি আস্তে আস্তে পাস করা উচিৎ ?

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক