ঢাকা টু কক্সবাজার ট্যুর আমার Walton Fusion 125EX নিয়ে

অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল ঢাকার বাহিরে একটা ট্যুর দিব । কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিলাম না আর কোন পার্টনার ও পাইতেছিলাম না । অনেককে বললাম চল ভাই একসাথে একটা লং ট্যুর দেই কিন্তু অনেক এ আমায় হতাস করেছিল কেও যেতে চাইছিল না । অনেকেই বলল এতদুর কিভাবে যাব এবং বাইক এ করে যাওয়া যাবেনা …

Review Overview

User Rating: 4.65 ( 2 votes)
0

অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল ঢাকার বাহিরে একটা ট্যুর দিব । কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিলাম না আর কোন পার্টনার ও পাইতেছিলাম না । অনেককে বললাম চল ভাই একসাথে একটা লং ট্যুর দেই কিন্তু অনেক এ আমায় হতাস করেছিল কেও যেতে চাইছিল না । অনেকেই বলল এতদুর কিভাবে যাব এবং বাইক এ করে যাওয়া যাবেনা অনেক অনেক সমস্যা ইত্যাদি । হটাত করে কবি রবিন্দ্রনাথ এর কবিতা টা মনে পরে গেল “যদি তর ডাক শুনে কেও না আসে তবে একলা চল রে” । তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আমি একলা যাব কক্সবাজার বাইক চালিয়ে ।

Walton Fusion 125EX

পরের দিন বাইক টা সামান্য সার্ভিস করিয়ে নিলাম ।এই ট্যুর নিয়ে আমি এতোটা এক্সাইটেড ছিলাম যে সারা রাতে মাত্র ১ কিংবা ২ ঘন্টা ঘুমিয়ে ছিলাম ভোর ৪ টায় ঘুম ভেংগে যায় । তার পর সব কিছু চেক করলাম । হটাত দেখি ফজর আযান দিয়েছে তাই চট করে মসজিদ এ গিয়ে নামায টা পরে ফেললাম । তার পর দেখি আমার বন্ধু সাইফুল ইসলাম আমায় ফোন করে বলল বন্ধু তুমি কি ট্যুর এর জন্য রেডি ( সাইফুল কে আমি এই ট্যুর সম্পর্কে এর আগে বলেছিলাম কিন্তু ও নিশ্চিত ছিল না ট্যুর টা নিয়া ) । আমি বললাম আমি যাচ্ছি ও বলল বন্ধু আমার বাসার নিচে একটু আসো একটু দেখা করি। আমি ওর বাসার নিচে ওর সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম হটাত দেখি বন্ধু আমার রেডি হইয়া নিচে নেমেছে । ও বলল বন্ধু আমিও যাব তোমার সাথে ।

তার পর আমি আর সাইফুল রওনা দিলাম । তখন সকাল ৬ ; ২৫ মিনিট আমরা ১০ কি ১৫ মিনিট এর মধ্যে যাত্রাবারী ফ্লাইওভার ক্রস করে ফেললাম । তখন থেকে আমারা আমাদের কক্সবাজার এর জন্য বাইক কে ৮০ থেকে ৮৫ গতিতে ছুটিয়ে চললাম। মাত্র ২ ঘন্টায় আমারা পৌছে গেলাম কুমিল্লা কেন্টনমেন্ট । তখন সকাল ৮ ; ৩০ বাজে আমার একটু রেস্ট নিলাম এবং কিছু খেয়ে নিলাম । যেহেতু আমরা পথ চিনিনা তাই কিছু লোক কে আমারা জিজ্ঞাসা করে নিলাম কিভাবে আমারা যাব আমরা চট্টগ্রাম ।

Shafiqul Islam

তখন সকাল ৯; ২৫ আমারা রওনা দিলাম কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম এর জন্য । যেতে যেতে আমারা পৌছে গেলাম চট্টগ্রাম দুপর ১২; ৩৩ এ তার পর আমরা এক আত্তীয়ের বাসায় গেলাম দেখা করেতে,। তাদের সাথে দেখা করলাম এবং নামাজ পরলাম আর খাওয়া দাওয়া করলাম । তার পর আবার রওনা দিলাম । বাইক নিয়ে বের হয়ে আমরা গেলাম বাইক এর গেরেজ এ মবিল পাল্টাই তে ।

মবিল পাল্টাইলাম আর একটু ব্রেক টাইট দিয়ে আবার আল্লাহর নামে যাত্রা শুরু করলাম । তখন বাজে ৪ ; ৪৫ মিনিট আকাশ যেন মেঘ করতে ছিল । তাই আমারা একটু বাইকের স্পীড একটু বাড়িয়ে ৯০ -৯৫ রেখে যাত্রা শুরু করে দিলাম পটিয়া যেতেই শুরু হইল হাল্কা বৃষ্টি , সাথে রাস্তা খারাপ । ১৫ কিলো পথ অনেক খারাপ ছিল। বাইক এর গতি সর্বোচ্চ ছিল ২৫-৩০ কিমি; ।

Walton Fusion 125EX review

তার পর আমরা যখন রাস্তা ভাল পেলাম তখন দেখি অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল এবং সন্ধ্যা হয়ে এসেছে । আসে পাশে পাহাড় ও রাস্তা শুনসান ছিল তাই আমরা না দাড়িয়ে বাইক চালাতে লাগলাম । আমাদের বাইকের গতি কমিয়ে ৫০ বা ৬০ এর মধ্যে নামিয়ে আনলাম কারন একে বৃষ্টি এবং রাস্তা ছিল আকা বাক আর রাত্র ছিল । আমারা চলতে লাগলাম ।

কক্সবাজার

চলতে চলতে আমারা রামুর থেকে ২০ কিলো আগে একটা বাজার পরে এই বাজারে থেমে ১০ মিনিট এর একটা ব্রেক দিলাম । তারপর শুরু করে দিলাম রওনা আমারা পোছে গেলাম কক্সবাজারের বারমিজ মার্কেট এ । তখন ঘড়িতে বাজে রাত ৮ ; ৫০ মিনিট । আমারা এক ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করলাম এবং ওইখানে এক কটেজ এ উঠলাম । এই ট্যুর এর ‪#‎WALTON‬ বাইক দিয়ে সর্বোচ্চ ১০৮ কিমি; গতিতে চালিয়েছিলাম । এই লেখাটাতে কোনো ভুল হয়ে থাকলে নিজ নিজ দায়িত্তে ঠিক করে নিবেন ।

লিখেছেন Shafiqul Islam। 

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক