বাংলাদেশে পুরাতন বাইক কেনার জন্য কিছু মারাত্মক টিপস

আমদের দেশে বাইক কেনার ক্ষেত্রে অনেক ক্রেতাই অনেক কনফিউশনে থাকেন এই বাইক সম্পর্কে । অনেকের ক্ষেত্রে টাকাটা একটা মেইন ফ্যাক্ট হয়ে দাড়ায় । দেখা যায় ক্রেতার যে বাইক পছন্দ সেই বাইকের দাম তার ধরাছোয়ার বাইরে । ধরুন যে একজন নতুন চাকরী পেয়েছেন এবং তিনি একটি বাইক কিনতে চাইছেন বা কলেজ বা ভার্সিটি যাবার জন্য কেউ একটা আইক নিতে চায় । সেক্ষেত্রে টাকাটা সবসময়ই একটা বড় ফ্যাক্ট হয়ে দেখা দেয় । সেক্ষেত্রে তাদের শখের বাইকটি পেতে অনেক অসুবিধার সম্মুখনি হতে হয় । অবশ্য এর একটা সমাধান হল একটি পুরাতন কোন বাইক চয়েজ করা এবং কেনা । অবশ্য অনেকে বলে থাকেন নতুন বাইক সবসময়ই পুরাতন কোন বাইকের থেকে অনেক ভাল একথাটা সবসময় সত্য না ।

honda_motorbike_old_classic_ol_1680x1050_wallpaperhi.com

যদিও বাংলাদেশে একটা ইউজড বাইক কেনা অনেকেরই পছন্দ না । অনেক ক্ষেত্রেই পুরাতন বাইক কিনে দেখা যায় যে এটার পেছনে টাকা খরচ করতে করতে বাইকারের পকেট খালি যেখানে সে একই টাকায় একটি ভাল নতুন বাইক কিনতে পারত । কিন্তু কেউ একথা বলতে পারবেন না যে একটা পুরানো বাইক যেটা ঠিকমত যত্ন নিয়ে ইউজ করা সেটি একটা নতুন বাইককে টেক্কা দেবার জন্য যথেষ্ঠ নয় । অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একটা ভালভাবে যত্ন নেওয়া পুরাতন বাইক অনায়াসে একটা নতুন বাইককে টেক্কা দিচ্ছে ।অবশ্য এটা আমিও মানি যে একটা নতুন বাইক কিনলে এর মালিক এটার প্রতি একটা অন্যরকম ফিলিংস পান । তবে কেউ যদি এমন কোন বাইক কিনতে চান যেটা বর্তমানে মার্কেটে নেই যেমন ইয়ামাহা RX সিরিজের বাইক , সেক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই একটা পুরানো বাইকই চয়েজ করতে হবে ।

যদিও সবাই এমন ভাবে নাও ভাবতে পারেন , অনেকের চোখে শুধুমাত্র নতুন বাইকই একমাত্র চয়েজ হতে পারে । সেসব বিষয়ে আপাতত আমার কোন মাথাব্যাথা নেই । এটা প্রত্যেকের পারসোনাল মতামতের উপর ডিপেন্ড করে । আজ আমার এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য যারা একটি পুরানো বাইক কেনার জন্য বসে আছেন ।

প্রথমত যে শর্তটা সেটা হল একটা বাইক কেনার আগে যে বাইকটি কিনবেন তিনি যেন বাইকটি চেনা পরিচিত কারও কথার উপর ডিপেন্ড না করে পুরো বিষয়টা নিজে দেখেন এবং ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করেন । আর একটা বাইক কেনার আগে ক্রেতার সেই বাইক সম্পর্কেসবকিছু ভালভাবে জেনে নেওয়া উচিৎ যে বাইকটি তার সব আকাঙ্খা পূরণ করতে পারবে কীনা ? নচে কোন পুরাতন ইউজড বাইক কেনার আগে যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো মনে রাখা উচিৎ সেগুলো সংক্ষেপে বর্ণণা করা হল :

  • প্রথমত বাইকের পেপারস গুলো ভালবাবে চেক করুন ।ভালভাবে বাইকের রেজিস্ট্রেশন পেপার ইনস্যুরেন্স পেপার চেক করুন এবং নিশ্চিত হোন যে এগুলোর মেয়াদ ঠিকমত আছে । আর বাইকের ইন্জিন ও চ্যাসিস নম্বর তার রেজিষ্ট্রেশন পেপারের সাথে মিল আছে । এসব ইস্যুগুলো প্রথমে ক্লিয়ার হোন । বাইকটি কোন লিগ্যাল ইস্যুতে অভিযুক্ত কীনা এগুলো চেক করুন ।
  • ইনস্যুরেন্স কোম্পানীতে একটা ফোন দিয়ে বাইকটি সম্পর্কে আপনি বিভিন্ন তথ্য নিতে পারেন । যেমন বাইকটি কোন অভিযোগে অভিযুক্ত কীনা এটা যাচাই করে দেখতে পারেন । এটার মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে বিক্রেতা আপনাকে কোন সারাই করা বাইক বা এক্সিডেন্টের ফলে ড্যামেজ হয়ে যাওয়া বাইক বিক্রয় করছেন না ।
  • বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সবসময়ই কোনপ্রকার মেডিফাই করা বাইক কেনা থেকে বিরত থাকুন । কারণ রাইডার অনেক সময় তার বাইকের শেপ এক্সিডেন্টে কারণে নষ্ট হয়ে গেলে সেটা আড়াল করার জন্য বাইক মোড করে থাকেন । এছাড়া মোড করা বাইকে যে পার্টসগুলা ইউজ করা হয় সেগুলো সবসময় ভাল নাও হতে পারে । তাই মোড করা কোন বাইক সবসময়ই ত্যাগ করা উচিৎ ।
  • বাইকের সবথেকে দামী অংশগুলো হল ফ্রেম , ফর্ক ,ফুয়েল ট্যাঙ্ক ইন্জিন কভার এবং ইন্জিন । তাই বাইকের এই অংশগুলোতে কোন সমস্যা আছে কীনা সেটা ভালভাবে যাচাই করুন । এই অংশগুলো ভালভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে এই গুলো আপনার অনেক টাকা খরচের একটা বিষয় হয়ে দাড়াতে পারে ।
  • উপরের অংশগুলো ভালভাবে দেখার পর আপনি এবার ইন্জিনের দিকে নজর দিন এবং ইন্জিন স্টার্ট করতে বলুন । বাইকটি সোজা অবস্থায় রেখে ইন্জিনটি স্টার্ট করুন । ভালভাবে বাইকের ইন্জিনের আওয়াজ টা শুনতে চেষ্ট করুন । এক্ষেত্রে বাইকের সম্পর্কে মোটামুটি একটা জ্ঞান ও ভাল কান আপনাকে অনেক সহায়তা করতে পারে । যদি এগুলো আপনার না থাকে তাহলে একজন ব্যাক্তি যে আপনার যথেষ্ঠ বিশ্বাসযোগ্য এবং বাইক সম্পর্কে ভালভাবে জানেন এমন কারোর সহায়তা আপনি নিতে পারেন । এক্ষেত্রে বিশেষ করে বাইকের সাইলেন্সর দিয়ে স্বাভাবিকের অতিরিক্ত ধোয়া বের হচ্ছে কীনা সেটা পরীক্ষা করুন । যদি বের হয়ে থাকে তাহলে আপনার উচিৎ অন্য কোন অপশন চয়েজ করা কারণ এই রকম কিছু হলে বাইকটির ড্যামেজড সিলিন্ডার আপনাকে বেশ কিছা টাকা খরচ করাতে পারে ।
  • উপরের অপশন পর্যন্ত যদি সবকিছু ঠিক থাকে এবং বাইকের ইন্জিনের আওয়াজ যদি আপনার ভাল বলেই মনে হয় তাহলে বাইকটি নিয়ে একটা টেষ্ট ড্রইভ দিন । আর এই টেষ্ট ড্রাইভে বাইকের মালিককে পেছনে নিতে ভুলবেন না কারণ বাইকের মালিকের কাছে আপনি অপরিচিত কেউ হলে আপনার হতে বাইক ছেড়ে দিতে সেও সেফ ফিল না করতেও পারে ।
  • এই টেষ্ট ড্রাইভে গিয়ে যদি বাইকের কোন জিনিস আপনার কাছে অসুবিধা বলে মনে হয় তাহলে সেটা বাইকের মালিকের কাছে ফ্রী ভাবে জিজ্ঞাসা করুন । তার উত্তরের দ্বারা আপনার কাছে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হয়ে যাবে । যদি সে বাইকটির কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সে আপনার প্রশ্নে উত্তর দিতে একটু হলেও বিব্রত বোধ করবে । এটা থেকে আপনি বাইকটি সম্পর্কে আরও শিওর হতে পারবেন ।
  • এবার ফাইনালি আপনার ও বাইকের মালিকের সাথে বাইক বিষয়ে চুক্তির সময় এসে গেছে । আপনি ভালভাবে নোটিশ করুন বাইকটি কেনার উপর আপনার যতটুকু আগ্রহ আছে বাইক মালিকের বাইকটি বিক্রয় করার জন্য ঠিত ততটুকু আগ্রহ আছে কীনা । যদি থাকে তাহলে আপনি বাইক মালিকের কাছে খুটিনাটি সবকিছু জিজ্ঞাসা করুন । বাইকের প্রথম সার্ভিসিং থেকে শেষ সার্ভিসিং , এক্সিডেন্ট সব কিছু জেনে নিন । বাইকের যদি কোন খুটিনাটি ত্রুটি থেকে তাকে তাহলে বাইক মালিক নিশ্চই আপনার সব প্রশ্নে উত্তর দিতে অনেক সচেতন হবে । আর এটাই আপনাকে নোটিশ করতে হবে ।
  • চুক্তিপত্র শেষ হলে এবার দামদরে আসুন । ভালভাবে দেখুন যে বাইকটির বর্তমান মার্কেট প্রাইজের সাথে বাইকটির যতদিন বয়স ততদিনে এখন কেমন দাম হতে পারে । এবং এক্ষেত্রে খুব কমিয়ে দাম বলা বন্ধ করুন । কারণ যে রাইডার অনেক দিন ধরে তার বাইকটি যত্নের সাথে রেখেছেন , তিনি শুধুমাত্র টাকার জন্য বাইকটি ছাড়তে চাইবে না ।

About pritom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!