মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০-এর মালিকানা রিভিউ : সাদিক

হ্যালো! আমি সাদিক, ২৭ বছর বয়সি একজন বাইকার; বাড়ি খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরায়। আমি বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করছি, যেটা আমার বাড়ি থেকে ৪৫ কিমি দূরে। তাই কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রাত্যহিক যাতায়াতের জন্য একটা বাইকের অভাব খুব করেই অনুভব করছিলাম। আসলে আমি ঝামেলাবিহীন একটা পরিবহন খুঁজছিলাম। সেজন্যই শেষ পর্যন্ত একটা অটো গিয়ারের স্কুটার কিনে ফেলি। এটা হচ্ছে মাহিন্দ্রা’র মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০। প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত এবং যশোরে পড়াশোনারত স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার প্রয়োজনেই আমার বাইক কেনা। কিন্তু বাইক চালানোটা প্রয়োজন থেকে ধীরে ধীরে আমার নেশায় পরিণত হয়েছে। আমার প্রথম বাইক ছিলো ইউএম পাওয়ারম্যাক্স স্কুটার, সেটা মাত্র…

Review Overview

User Rating: 2.15 ( 1 votes)

হ্যালো! আমি সাদিক, ২৭ বছর বয়সি একজন বাইকার; বাড়ি খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরায়। আমি বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করছি, যেটা আমার বাড়ি থেকে ৪৫ কিমি দূরে। তাই কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রাত্যহিক যাতায়াতের জন্য একটা বাইকের অভাব খুব করেই অনুভব করছিলাম। আসলে আমি ঝামেলাবিহীন একটা পরিবহন খুঁজছিলাম। সেজন্যই শেষ পর্যন্ত একটা অটো গিয়ারের স্কুটার কিনে ফেলি। এটা হচ্ছে মাহিন্দ্রা’র মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০

প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত এবং যশোরে পড়াশোনারত স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার প্রয়োজনেই আমার বাইক কেনা। কিন্তু বাইক চালানোটা প্রয়োজন থেকে ধীরে ধীরে আমার নেশায় পরিণত হয়েছে।

আমার প্রথম বাইক ছিলো ইউএম পাওয়ারম্যাক্স স্কুটার, সেটা মাত্র ৩ মাস ব্যবহার করেছিলাম। এরপর আমি কিনি মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০, এটা আমি ৫ মাস ধরে ব্যবহার করছি। আমাকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিমি এবং সপ্তাহে একবার ১৫০ কিমি যাতায়াত করতে হয়।

ইন্টারনেটে রিভিউ পড়ে এবং ইউটিউবে ভিডিও দেখেই মূলত আমি এই স্কুটারটি কিনতে আগ্রহী হয়েছিলাম। কিন্তু বাইকবিডি’তে মাহিন্দ্রা গাস্টো নিয়ে কোনো রিভিউ আমি পাইনি। তাই আমি মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ নিয়ে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা বাইকবিডিতে বিনিময় করতে চাই।

সাতক্ষীরার নিতু মটরস থেকে ১৪৭৫০০ টাকা দিয়ে মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ কিনি। বাইকটিতে প্রথমবার স্পর্শ করার অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ ছিলো। আর এটা স্টার্ট করে ইঞ্জিনের মসৃণতা অনুভব করে উদ্বেলিত হয়েছিলাম আমি।মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর স্পেসিফিকেশন

ইঞ্জিন

মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর ইঞ্জিনটি ১০৯.৬ সিসির এম-টেক ইঞ্জিন। এর মসৃণতা খুবই উন্নতমানের। আর যথাযথভাবে ব্রেক ইন পিরিয়ড পার করার পর এটা এখন পুরোপুরি ভাইব্রেশন মুক্ত হয়ে গেছে। তাছাড়া এটার পিকআপও বেশ দ্রুত এবং ইঞ্জিনও সহজে গরম হয় না। আমি এটাতে মটুল ৭১০০ 10w40 সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করি। এটাতে খরচ পড়ে ১২৫০ টাকা। তবে প্রথম ২ হাজার কিমিতে আমি ক্যাস্ট্রল ম্যাগনাটেক 10w40 মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেছিলাম, যেটা আমি সার্ভিস সেন্টার থেকে ৬৫০ টাকায় পেয়েছিলাম। (ওটা কারের ইঞ্জিন অয়েল হলেও ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী স্কুটারে ব্যবহার করেছিলাম)মাহিন্দ্রা গাস্টো এর ইঞ্জিন

রাইডিং, হ্যান্ডলিং ও কন্ট্রোল

মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ অটো ট্রান্সমিশন হওয়ায় এর গিয়ার চেঞ্জ বা ক্লাচ ধরার মতো কাজ করতে হয় না। শুধু সিটে বসে পিকআপে মোচড় দিলেই হলো! আর এটার ১২০ কেজির ওজনদার দেহ উচ্চ গতিতেও অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্রেকিং নিশ্চিত করে। দুইজন বসলেও সমস্যা হয় না। তাছাড়া যেকোনো উচ্চতার মানুষের জন্যই যথেষ্ট লেগ রুম রয়েছে এটায়। আর মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর আরেকটি মজার ফিচার হলো এর সিট উঁচু-নিচু করা যায়। যার ফলে আমার স্ত্রীও সিট নিচু করে এটা চালাতে পারে। মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর হেডলাইটও রাতে চলার জন্য বেশ উপযোগী এবং এর পার্কিং লাইট এলইডি।

ব্রেকিং

মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০-এর দুই চাকাতেই ড্রাম ব্রেক রয়েছে, যেগুলো হাতে ধরতে হয়। তবে এর সামনের ব্রেকটি পিছনের চেয়ে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। অবশ্যই সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেক থাকলে সবচেয়ে ভালো হতো। যদিও উচ্চ গতিতেও এর ব্রেকিং বেশ ভালো। এজন্য অবশ্য এর এমআরএফ জ্যাপার টিউবলেস টায়ারকেও ধন্যবাদ দিতে হয়।

সাসপেনশন

মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর সামনে এয়ার স্প্রিং যুক্ত টেলিস্কোপিক সাসপেনশন এবং পিছনে কয়েল টাইপ মনো শক অ্যাবজর্ভার রয়েছে। প্রতিদিন আমাকে খুবই খারাপ ১০ কিমি রাস্তায় বাইক চালাতে হয়, যেখানে অসংখ্য খানা-খন্দ ও ধুলাবালু পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু সেসব রাস্তাতেও মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর পারফরম্যান্স এককথায় অসাধারণ। যদিও স্কুটারটি কেনার ২ সপ্তাহের মাথাতেই সামনের বামদিকের সাসপেনশনের অয়েল সিলটি ভেঙে গিয়েছিলো, সেটা পরে ডিলারের কাছ থেকে পরিবর্তন করে নিয়েছিলাম। তারপর থেকে এখনো খুব ভালোই চলছে। এখন পর্যন্ত আমি ৭০০০ কিমি চালিয়েছি। এটার ভূমি থেকে উচ্চতা ১৬৫ মিমি, যেটা স্কুটার শেণিতে সর্বোচ্চ।মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর মাইলেজ

বিক্রয়োত্তর সেবা

মাহিন্দ্রার বিক্রয়োত্তর সেবা ভালো। তবে এদিকে আরো উন্নতি করা দরকার। আমার সাসপেনশন অয়েল সিল পাল্টাতে ২০ দিন সময় লেগেছিলো, যেটা হতাশাজনক।

মাইলেজ

প্রথম ২০০০ কিমিতে আমি লিটারে ৪০-৪২ কিমি মাইলেজ পেয়েছি। আর এখন লিটারে ৫০ কিমির ওপরে চলে, যা কোনো স্কুটারের জন্য বিস্ময়কর।বাংলাদেশে মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০

বিশেষ সুবিধা

১. সিটের নিচে মাঝারি আকারের ব্যাগ রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।

২. কাগজপত্র রাখার জন্য সামনে গ্লাভস বক্স আছে।

৩. স্পিডোমিটারের নিচে মোবাইল, মানিব্যাগ এর মতো ছোটো জিনিস রাখার জন্য জায়গা রয়েছে। অবশ্য খারাপ রাস্তায় এখানে কিছু রাখা যাবে না।

৪. সিট উঁচু-নিচু করা যায়।

৫. রিয়ার ভিউ মিররটি বেশ বড়ো।

৬. কিক স্টার্টারের পজিশন ভালো হওয়ায় বসে থেকেই আরামে কিক করা যায়।

দীর্ঘ ভ্রমণ

একবার যশোর থেকে শ্যামনগর (সুন্দরবন) পর্যন্ত ১৬০ কিমি ভ্রমণ করেছি। এটাই আমার একটানা সবচেয়ে বড়ো ভ্রমণ। কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই এই ভ্রমণ শেষ করেছিলাম।মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর রিভিউ

ইতিবাচক দিক

১. ইঞ্জিন চরম মাত্রার স্মুথ!

২. সাসপেনশনও খুবই চমৎকার।

৩. অটো ট্রান্সমিশন

৪. টিউবলেস টায়ার এবং গ্রিপও খুব ভালো।

নেতিবাচক দিক

১. যদিও এটার অ্যাক্সিলারেশন ভালোই আছে, তবে আমার প্রথম স্কুটার ইউএম পাওয়ারম্যাক্সের তুলনায় এটা ধীর।

২. মোবাইল চার্জিং সকেট নেই।

৩. সমন্বিত ব্রেকিং নেই এবং ডিস্ক ব্রেকও নেই।

৪. সর্বপোরি লুকিংটা আরো কিছুটা সুন্দর হওয়া দরকার ছিলো। (যদিও মাহিন্দ্রা গাস্টো ১২৫ সিসিতে একাজ ঠিকই করা হয়েছে)

মাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ এর দামমাহিন্দ্রা গাস্টো ১১০ কেনার পর থেকেই আমি যথাযথভাবে ব্রেক ইন পিরিয়ড পার করেছি। সময়মতো সার্ভিসিং করিয়েছি। সেজন্যই ৭০০০ কিমি পার করে আমার স্কুটার এখনো পাখির মতো উড়ে চলে। এটা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। সবশেষে বলতে চাই বাইক চালানোর সময় অবশ্যই হেলমেট পড়ুন, আনন্দের সাথে বাইক চালান।

লিখেছেনঃ অপু সাদিক

 

আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন [email protected] – এই ইমেইল এড্রেসে।

About মাহামুদ সেতু

হ্যালো রাইডারস, আমি মাহামুদ সেতু। থাকি রাজশাহীতে, পড়াশোনাও রাবি’তে। যদিও আমার নিজস্ব কোনো বাইক নেই, তারপরও আমি কিন্তু বাইকের ব্যাপারে পাগল। এক্ষেত্রে আমাকে ‘চন্দ্রাহত’ও বলতে পারেন, মানে ওই দূর থেকে চাঁদের (আমার ক্ষেত্রে বাইক) প্রেমে পাগল হয় যারা, তারা আর কি। যাই হোক, মূল কথায় আসি। গত দুই বছর ধরেই আমি বাইকবিডি.কমের নিয়মিত পাঠক। এখান থেকেই আমি বাইক সম্পর্কে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। ব্লগের সবগুলো লেখাই একাধিকবার পড়েছি। এখানেই জানতে পারলাম বাইক মোডিফিকেশন সম্পর্কে। শেষমেশ এখন তো সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি, বাইক নিয়েই কাজ করবো। মানে, বাইক মোডিফিকেশনটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছি। জানি কাজটা কঠিন, তারপরও আমি আশাবদী। আমার জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য বাইক মোডিফিকেশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দেশে এতো এতো সুন্দর, দ্রুতগতির ও ভালো বাইক (বাংলাদেশে আইনত যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫০সিসি) আছে, অথচ আমার পছন্দ হোন্ডা সিজি ১২৫। আমার খুবই ইচ্ছা এই ক্ল্যাসিক বাইকটি কিনে নিজের হাতে মোডিফিকেশন করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Sign up to our newsletter!


error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!