মোটরসাইকেল ইঞ্জিন এর মৌলিক তত্ত্ব ও গণিত (পর্ব-১)

ইঞ্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট আয়তন উপরের চিত্রে আপনারা মোটরসাইকেল ইঞ্জিন এর বোর ও স্ট্রোক দেখতে পাচ্ছেন। এটা ইঞ্জিনের ডিসপ্লেসমেন্ট আয়তন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। এই আয়তন ইঞ্জিনের আকার কতো বড়ো তা বোঝায়।  এবং,  মোটরসাইকেলের ওজন ও ভরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কোনো বস্তু এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা—এই তিনটি মাত্রা বরাবর যতোটুকু স্থান দখল করে সেটাই ওই বস্তুর আয়তন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, …

Review Overview

User Rating: Be the first one !
0

ইঞ্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট আয়তন

মোটরসাইকেল ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করেউপরের চিত্রে আপনারা মোটরসাইকেল ইঞ্জিন এর বোর ও স্ট্রোক দেখতে পাচ্ছেন। এটা ইঞ্জিনের ডিসপ্লেসমেন্ট আয়তন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। এই আয়তন ইঞ্জিনের আকার কতো বড়ো তা বোঝায়।  এবং,  মোটরসাইকেলের ওজন ও ভরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

কোনো বস্তু এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা—এই তিনটি মাত্রা বরাবর যতোটুকু স্থান দখল করে সেটাই ওই বস্তুর আয়তন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এক পাউন্ড সোনা ও এক পাউন্ড পালকের ওজন একই হলেও পালক বেশি জায়গা দখল করবে। অর্থাৎ পালকের আয়তন বেশি হবে।

ইংরেজি নিয়মানুসারে আয়তন পরিমাপ করা হয় ঘন ইঞ্চি, ঘন ফুট, ঘন মিটার কিংবা গ্যালন হিসাবে। আর মেট্রিক নিয়মানুসারে এই আয়তন পরিমাপ করা হয় ঘন সেন্টিমিটার বা লিটারে। বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা গুণ করে আয়তন নির্ণয় করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, একটি বক্স যার দৈর্ঘ্য ২ ইঞ্চি, প্রস্থ ৩ ইঞ্চি ও উচ্চতা ৪ ইঞ্চি হলে এর আয়তন (২ × ৩ × ৪) = ২৪ ঘন ইঞ্চি।

তবে বিভিন্ন ধরনের আকৃতির বস্তুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূত্র রয়েছে আয়তন পরিমাপের জন্য। কিন্তু প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ওই তিনটি মাত্রাই গণনা করা হয়। আর ইঞ্জিনের সিলিন্ডারের আয়তনকেই ডিসপ্লেসমেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।মোটরসাইকেল ইঞ্জিন

এই আয়তন মোটরসাইকেল ইঞ্জিন এর বহিঃস্থ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতাকে নির্দেশ করে না। বরং সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ আয়তন নির্দেশ করে। সিলিন্ডারের ভিতরে পিস্টন চলাচলের সর্বনিম্ন বিন্দু (বিডিসি) থেকে সর্বোচ্চ বিন্দু (টিডিসি) পর্যন্ত দূরত্বকে পিস্টনের স্ট্রোক বলা হয়।

অন্যদিকে সিলিন্ডারের ব্যাসকে বলা হয় বোর। সাধারণভাবে ডিসপ্লেসমেন্ট পরিমাপ করা হয় ঘন ইঞ্চি, ঘন সেমি বা লিটারে। কোনো ইঞ্জিনের ডিসপ্লেসমেন্ট (একাধিক সিলিন্ডার থাকলে সবগুলোর সম্মিলিত ডিসপ্লেসমেন্ট) ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা নির্দেশ করে।

ইঞ্জিনের ডিসপ্লেসমেন্ট (সিআইডি) নিচের পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায় :

সিআইডি = π× R²× L × N

যেখানে π =3.1416বাংলাদেশে মোটরসাইকেল

R = সিলিন্ডারের ব্যাসার্ধ (সিলিন্ডারের ব্যাস বা বোর ÷ ২)

L = স্ট্রোকের দৈর্ঘ্য

N= ইঞ্জিনে সিলিন্ডারের সংখ্যা

উদাহরণ :

সিঙ্গেল সিলিন্ডার মোটরসাইকেল ইঞ্জিন এর ডিসপ্লেসমেন্ট (সিআইডি) পরিমাপ করতে হবে, যার বোর ৫৭.৩ মিমি ও স্ট্রোক ৫৭.৮ মিমি। উপরের সূত্রটি ব্যবহার করে ডিসপ্লেসমেন্ট নির্ণয়ের পূর্বে মিমি’কে সেমি’তে রূপান্তর করে নিতে হবে। বোর ৫৭.৩ মিমি = ৫.৭৩ সেমি ও স্ট্রোক ৫৭.৮ মিমি = ৫.৭৮ সেমি।

সিআইডি = ৩.১৪১৬ × ২.৮৬৫× ৫.৭৮ × ১

সিআইডি = ১৪৯.০৪ ঘন সেমি (সিসি)

বর্তমানে অধিকাংশ মোটরসাইকেল ইঞ্জিন পরিমাপে মেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

আর্টিকেলটি পূর্বে ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয়েছিলো।

About মাহামুদ সেতু

হ্যালো রাইডারস, আমি মাহামুদ সেতু। থাকি রাজশাহীতে, পড়াশোনাও রাবি’তে। যদিও আমার নিজস্ব কোনো বাইক নেই, তারপরও আমি কিন্তু বাইকের ব্যাপারে পাগল। এক্ষেত্রে আমাকে ‘চন্দ্রাহত’ও বলতে পারেন, মানে ওই দূর থেকে চাঁদের (আমার ক্ষেত্রে বাইক) প্রেমে পাগল হয় যারা, তারা আর কি। যাই হোক, মূল কথায় আসি। গত দুই বছর ধরেই আমি বাইকবিডি.কমের নিয়মিত পাঠক। এখান থেকেই আমি বাইক সম্পর্কে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। ব্লগের সবগুলো লেখাই একাধিকবার পড়েছি। এখানেই জানতে পারলাম বাইক মোডিফিকেশন সম্পর্কে। শেষমেশ এখন তো সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি, বাইক নিয়েই কাজ করবো। মানে, বাইক মোডিফিকেশনটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছি। জানি কাজটা কঠিন, তারপরও আমি আশাবদী। আমার জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য বাইক মোডিফিকেশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দেশে এতো এতো সুন্দর, দ্রুতগতির ও ভালো বাইক (বাংলাদেশে আইনত যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫০সিসি) আছে, অথচ আমার পছন্দ হোন্ডা সিজি ১২৫। আমার খুবই ইচ্ছা এই ক্ল্যাসিক বাইকটি কিনে নিজের হাতে মোডিফিকেশন করার।