মোটরসাইকেল কেনার সময় আদায় হবে রেজিস্ট্রেশন ফি

মোটরসাইকেল এর রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশনহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিক্রেতার মাধ্যমে ফি আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গত মাসে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মোটরসাইকেল কেনার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের এ প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। সম্মেলনে এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেশে রেজিস্ট্রেশন করা মোটরসাইকেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৭টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে ৪ লাখ ১২ হাজার ৫২৪টি। ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৭টি ও রাজধানীতে…

Review Overview

User Rating: 4.82 ( 3 votes)

মোটরসাইকেল এর রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশনহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিক্রেতার মাধ্যমে ফি আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গত মাসে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মোটরসাইকেল কেনার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের এ প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। সম্মেলনে এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

মোটরসাইকেল

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেশে রেজিস্ট্রেশন করা মোটরসাইকেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৭টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে ৪ লাখ ১২ হাজার ৫২৪টি। ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৭টি ও রাজধানীতে ২ লাখ ১০ হাজার ৮১টি রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেল ছিল। এ হিসাবে রাজধানীসহ সারা দেশে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

তবে রেজিস্ট্রেশনহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা-সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে গ্রামগঞ্জে ও সীমান্তবর্তী এলাকায় রেজিস্ট্রেশনহীন মোটরসাইকেল চলাচল করে। সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায়ই রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দের ঘটনা ঘটছে। এসব মোটরসাইকেল অপরাধমূলক কাজেও ব্যবহার হয়ে থাকে। রাজধানীর বারিধারায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যাকাণ্ডে এমন একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল আরোহী ও ক্রেতারা ভিকটিমে পরিণত হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনায় নরসিংদী জেলা প্রশাসক রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে অন্য জেলা প্রশাসকরাও রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে বিক্রেতাদের মাধ্যমে আদায়ের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়। এতে রাজস্ব আদায় সহজ হবে বলে মত দেন অনেকে। পরে সম্মেলনে এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

দেখুন বাইকের ১০০ টি টিপস আর্টিকেল ১ পেজে 

বিক্রেতার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের ব্যাপারে বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মো. নূরুল ইসলাম বাইক বিডি কে জানান, বিক্রেতাদের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি আদায়ের ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনার কথা শোনা গেছে। তবে সে ব্যাপারে লিখিত আকারে কোনো আদেশ হাতে আসেনি।

তিনি বলেন, বিক্রেতাদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায় হলে সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমন অসুবিধাও রয়েছে। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা আদায়ের সুযোগ নেবে। বর্তমানে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহী করে তুলতে ফি কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিক্রয়ের সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের ব্যাপারে পাঁচ বছর আগেও একবার সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। নির্দেশনা-সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোটরসাইকেল বিক্রয়ের সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায় করতে হবে। কিন্তু নানা অজুহাতে ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশন ফি দেন না। নজরদারির অভাবে এর বাস্তবায়নও হচ্ছে না।

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার রয়েল অটোর ব্যবসায়ী অংশীদার সুমন ঢালি বলেন, মোটরসাইকেল বিক্রির পর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পরই কেবল তা ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা নিজেরা রেজিস্ট্রেশন করবেন জানিয়ে মোটরসাইকেল কিনে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে সরকারপক্ষ থেকে নজরদারি ও তদারকি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হলে সবার জন্যই ভালো হবে।

--

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*