টিপস>> যারা নতুন মোটর সাইকেল চালানো শিখেছে : পার্ট ২

Article = 2
,
আমি অনুরুধ জানাচ্ছি আপনাদের কে , আমার Article = 1 লেখাটি আগে পড়ে তারপর এই লেখা টি পড়ার জন্য , তা না হলে আমার প্রতি আপনার ভুল ধারনা তৈরি হতে পারে ।

আমি আমার প্রথম লেখাটি তে বলেছিলাম কিভাবে এবং কখন সিটি বা মহাসড়কে মোটর সাইকেল নিয়ে আমাদের নামা উচিৎ ।

মোটর সাইকেল চালানো শিখেছে

= আপানর যখন নিজের এলাকায় ২০ – ৩৫ কিমি বেগে ১ মাস মোটর সাইকেল চালিয়ে সিটি বা জেলা শহরে মোটর সাইকেল নিয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তখন একটা কাজ করে নিবেন , বি আর টি এ গিয়ে মোটর সাইকেল এর ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন , বি আর টি এ থেকে আপনাকে মোটর সাইকেল এর লাইসেন্স এর জন্য পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষা হওার আগ পর্যন্ত মোটর সাইকেল চালানোর জন্য আপনাকে লার্নার কার্ড দিবে । যেটা দিয়ে আপনি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত মোটর সাইকেল চালাতে পারবেন যদি ও নিয়ম হলো লার্নার দিয়ে মোটর সাইকেল চালানোর সময় মোটর সাইকেল এ যিনি চালানো শিখাচ্ছেন ওনাকে থাকতে হয় ।
,
কারন আপনি আপনার দক্ষতার ও অভিজ্ঞতা বাড়াবার জন্য যখন ২-৩ মাস সিটি বা জেলা শহরে মোটর সাইকেল চালাবেন তখন অনেক সময় ই পুলিশের সামনা সামনি হতে পারেন , তখন মোটর সাইকেল এর লাইসেন্স এর জন্য আপনার নানা রকম প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে , যেটা হয়তো আপানর ভালো না ও লাগতে পারে ।
,
হয়তো পিছনে এসে আমরা পুলিশের এই লাইসেন্স চাওয়ার জন্য ওদের অনেক গাল মন্দ করি , কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখবেন রাস্তায় প্রাই দেখা যায় অনেক আনাড়ি মোটর সাইকেল এর চালকদের জন্য পথচারিরা অনেক সময় সমস্যা ও দুর্ঘটনার সম্মুখিন হতে হয় । এবং মোটর সাইকেল এর চালক ও নানা রকম দুর্ঘটনার মধ্যে পড়ে ।
,
তাই পথচারী ও মোটর সাইকেল এর চালকদের নিজেদের প্রয়োজনে লাইসেন্স করা প্রয়োজন । কারন লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে পরীক্ষা আপনি দিবেন ঐ পরীক্ষার ফলে আপনি বাংলাদেশের রাস্তার বিভিন্ন সিগনাল , বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশে কিভাবে মোটর সাইকেল চালাতে হয় তা জানতে পারবেন । যা আপনার মোটর সাইকেল চালানো কে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে । আর পুলিশের ঐ লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন আপনার নিরাপত্তার জন্য ই ।
,
= মোটর সাইকেল আর সাইকেল এর মাঝে একটা মিল আছে । দুটা ই যখন আপনি চালানো শিখে যাবেন তখন আপনার শুধু চালাতে ই ইচ্ছে করবে । আর এই ইচ্ছে কে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে ই যখন তখন আমরা যার তার সাইকেল ও মোটর সাইকেল চেয়ে বসি । আর তখন ই নানান সমস্যা সামনে চলে আসে । আপনি প্রথমত নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে শিখুন । একটা জিনিস মনে রাখবেন আজ আপনার মনে যা কাজ করছে ঠিক ঐ এক ই জিনিস আপনার যে বন্ধুটি ৫ বছর ধরে মোটর সাইকেল চালাচ্ছে ওনার মনে ও কাজ করেছিল ৫ বছর আগে ।
,
= যদি আপানর বন্ধুটি ভালো ভাবে যেনে থাকে যে আপনি মোটর সাইকেল চালাতে পারেন তখন ই ওনার মোটর সাইকেল টি আপনি চালাতে চাইতে পারেন । যদি ওনি না জানে তাহলে ওনার মোটর সাইকেল চাওয়া থেকে বিরত থাকেন । কেন বারন করলাম তা আপনি হয়তো এখন বুঝতে পারবেন না , কয়েক বছর মোটর সাইকেল চালানোর পরই বুঝতে পারবেন বেপার টা ।
,
১০= ৪-৫ মাস মোটর সাইকেল চালিয়ে ই একা মোটর সাইকেল নিয়ে কোনও বড় ধরনের ট্যুর দিতে বের হবেন না । যদি দিতে ই হয় তাহলে ৫-৬ জন অভিজ্ঞ মোটর সাইকেল চালকের সাথে দিবেন । গ্রুপ এ মোটর সাইকেল চালানোর নিয়ম গুলো যেনে কয়েক জন কে সামনে আর কয়েক জন কে পিছনে রেখে আপনি মাঝে থাকুন । তাহলে কিছু টা নিরাপদে থাকবেন । কিন্তু ৪-৫ মাস মোটর সাইকেল চালিয়ে একান্ত ই মোটর সাইকেল নিয়ে কোনও ট্যুর এ না বের হওয়া টাই ভালো ।
,
১১= রাস্তায় হটাৎ কোনও মোটর সাইকেল আপনাকে অতিক্রম করলে ওনাকে ধরার জন্য বা ওনাকে আবার অতিক্রম করার জন্য গতি বাড়াবেন না । আপানর যতো দামি বা ভালো মোটর সাইকেল ই হোক না কেন । এটা ই মাথায় রাখুন যিনি অতিক্রম করেছে ওনি হয়তো আপনার অনেক আগে থেকে ই মোটর সাইকেল চালায় । রাস্তার ওপর আপনার থেকে ওনার অভিজ্ঞতা অনেক বেশী । অপেক্ষা করুন একদিন আপনি ও ওনার মতো অভিজ্ঞ হয়ে ওঠবেন এবং ওনার মতো ই মোটর সাইকেল চালাতে পারবেন ।
,
১২= অযথা কারো সাথে রেস খেলতে যাবেন না । আপনার ভালো মোটর সাইকেল থাকতে পারে কিন্তু আপনার পাশের জনের অভিজ্ঞতা আপানর থেকে বেশী হতে পারে । আর মোটর সাইকেল এর গতি শুধু মোটর সাইকেল এর ওপর ই নির্ভর করে না । আরও অনেক কিছুর ওপর ও নির্ভর করে এর মাঝে একটি হল চালকের চালানোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা । নিজেকে সময় দিন দেখবেন একটা সময় আপনি নিজে ও দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠবেন ।
,
১৩= নতুন মোটর সাইকেল চালানোর পাশা পাশি মোটর সাইকেল এর কিছু টেকনিক্যাল ব্যাপার ও জানা থাকা ভালো । যেমন কি ভাবে স্পারকিং প্লাগ খুলতে হয় , পরিস্কার করতে হয় । চাকার প্রেয়াশার কখন কতো রাখতে হয় । হটাৎ শার্ট বন্ধ হয়ে গেলে কি করতে হয় । আরও বেশ কিছু জিনিস । যেগুলো আপনাকে সাময়িক ভগান্তি থেকে রক্ষা করতে পারে ।
,
############### একটা জিনিস মনে রাখবেন , আপনি যদি বেঁচে না থাকেন তাহলে আপনার করে যাওয়া মোটর সাইকেল এর টপ স্পীড , চালানোর দক্ষতা সব কিছু ই আস্তে আস্তে মানুষ ভুলে যাবে । আর যদি বেঁচে থাকেন তাহলে আপনার মোটর সাইকেল চালানোর দক্ষতা যেমন মানুষকে দেখাতে পারবেন ঠিক তেমনি আপনার অভিজ্ঞতা ও মানুষের সাথে শেয়ার করতে পারবেন । তাই সাবধানে ধৈর্য নিয়ে মোটর সাইকেল চালান । আপনার আসে পাশের সকল যানবাহন ও মানুষের এর প্রতি সম্মান রাখুন । আপানর জীবন টা উপভোগ করুন ।##################
,
সবাইকে ধন্যবাদ ও বিডি মটো রাইদারস এর পক্ষ থেকে শুবেচ্ছা রইল ।
,
From = BD Moto Riders

–  Shafiqul Alam Fariaz

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!