রানার মোটরবাইকের নতুন অফার

লং ট্যুর এর জন্য আপনার সম্পূর্ণ প্রিপারেশন গাইড লাইন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আশা করি সবাই ভাল আছেন । আসলে একটা বাইক অনেকে অনেক কাজে ইউজ করে থাকেন । কেউ নিয়মিত ছোটখাট কাজের জন্য , কেউ বা তার প্রয়োজনীয় কাজের জন্য যেমন অফিস যাওয়া আসা , আবার অনেকে শখের বশে রেসিং বা লং রাইডও করে থাকেন । ‌ আজ আমি আপনাদের এমন কিছু টিপস দিব যেগুলো যে কোন লং ট্যুর এ  আপনাদের কাজে লাগবে । অর্থাৎ , কেউ যদি বাইক নিয়ে কোন লং ট্যুরে যেতে চান , তাহলে আজকের এই পোষ্ট টা তার জন্যই । এটা আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের কে শেয়ার করছি । অনেক রাইডারই লং ট্যুর এর…

Review Overview

User Rating: Be the first one !

সবাইকে শুভেচ্ছা । আশা করি সবাই ভাল আছেন । আসলে একটা বাইক অনেকে অনেক কাজে ইউজ করে থাকেন । কেউ নিয়মিত ছোটখাট কাজের জন্য , কেউ বা তার প্রয়োজনীয় কাজের জন্য যেমন অফিস যাওয়া আসা , আবার অনেকে শখের বশে রেসিং বা লং রাইডও করে থাকেন । ‌ আজ আমি আপনাদের এমন কিছু টিপস দিব যেগুলো যে কোন লং ট্যুর এ  আপনাদের কাজে লাগবে । অর্থাৎ , কেউ যদি বাইক নিয়ে কোন লং ট্যুরে যেতে চান , তাহলে আজকের এই পোষ্ট টা তার জন্যই । এটা আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের কে শেয়ার করছি ।

motorcycle-long-distance-touring

অনেক রাইডারই লং ট্যুর এর প্রতি আসক্ত কিন্তু অনেকেই এই লং ট্যুরের ক্ষেত্রে কী কী প্রস্তুতি থাকা দরকার সেটাই জানেন না । লং ট্যুর গুলো সাধারণত উপভোগ্য হয়ে থাকে । আর আপনি যখন এই ট্যুরগুলো সেফ ভাবে ও ঝামেলা মুক্তভাবে করতে পারেন তখনই এটা আপনার কাছে আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে । আর একটা পারফেক্ট প্লান এবং প্রস্তুতির দ্বারাই আপনি এই ট্যুরগুলোকে মজাদার করে তুলতে পারেন এমনকী কোন অপরিচিত রোডেও । তো চলুন , শুরু করা যাক । ‌

আপনার ট্যুরের প্রাথমিক লেআউট:

আপনাকে কোন লং ট্যুর এর আগে সেই ট্যুর সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য ‌ জানতে হবে ও সেই অনুসারে আপনার জার্নিকে সাজাতে হবে । আপনি যদি আপনার ট্যুরের সবকিছু নিয়ে একটা চার্ট তৈরী করতে পারেন তবে সেটাই সবথেকে পারফেক্ট হবে । আপনার উচিৎ কোন লং ট্যুরে যাবার আগে সেই ট্যুর সম্পর্কিত প্রায় সব ইনফরমেশন কালেক্ট করা । নীচের উদাহরণ টা দেখতে পারেন । এটা রংপুর থেকে বগুরা ও সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকা পর্যন্ত ট্যুরের একটা রোডম্যাপ্ ।

 

ট্যুর এর রুট                                           : রংপুর-বগুরা-সিরাজগঞ্জ-ঢাকা

মোট দুরত্ব                                             :৩২৫ কিলোমিটার

মোট আনুমানিক সময়                        : ৮ ঘন্টা

মোট আনুমানিক রাইডিং এর সময়    : ৬ ঘন্টা

আনুমানিক এভারেজ স্পীড               : 60 kmph

টি ব্রেক এর সংখ্যা                               : ৪ বার

গড় স্পীড রেঞ্জ                                    : 40-90 kmph

আনুমানিক খরচ                                  : ১২০০ টাকার অকটেন এবং ৫০০ টাকার ইন্জিন অয়েল

অন্যান্য খরচ এবং ব্রীজ টোল             : ৩০০ টাকা

সেফ ডিপোজিট                                   : ২০০০ টাকা

 

এই ইনফরমেশনগুলো কালেক্ট করার পর আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনাকে এই ট্যুরের জন্য কী কী করতে হবে । আপনি যে ট্যুরের প্লান করছেন সেটা আপনার পক্ষে সম্ভব কীনা সেটাও এই প্লানিং এর মাধ্যমে আপনি ক্লিয়ার হয়ে যাবেন । কিন্তু কোন বিষয়ে আপসে‌ট বা ওভার কনফিডেন্ট না থাকাই ভাল । ‌

লং ট্যুর এরিয়া সম্পর্কে ধারণা :

এই পর্যায়ে আপনি আপনার ট্যুর সম্পর্কে কিছু একদম বেসিক বিষয় সম্পর্কে ভাবন চিন্তা করে ট্যুর সমাপর্কে একটা ক্লিয়ার ইমেজ তৈরী করতে পারেন । এজন্য আপনি নীচের ধাপগুলো কমপ্লিট করতে পারেন :

motorcycle-long-distance-touring-map

লং ট্যুর কোর্স লে-আউট ম্যাপিং:

আপনি আপনার ট্যুরের এরিয়াটা একটা ম্যাপে একে নিতে পারেন যাতে করে ট্যুর এর রোড সম্পর্কেআপনার একটা ক্লিয়ার কনসেপশন থাকে । আপনি আপনার ট্যুরের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে গুগ ল ম্যাপের সাহায্য নিতে পারেন । এরপর এটা প্রিন্ট করে এর বিভিন্ন ডিটেইলস এর উপর কাজ করতে পারেন ।

লং ট্যুর দুরত্ব , টাইমিং এবং ব্রেক পয়েন্ট ম্যাপিং:

অপনি এরপর আপনার ট্যুরের সাইকেল এর প্রতিটা পয়েন্টের ডিসট্যান্স গুলো নিয়ে একটা ম্যাপ তৈরী করতে পারেন । এানে আপনি ব্রেকিং পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেইসব পয়েন্টে এভারেজ স্পীড হিসাব করে আপনার ট্যুরের এভারেজ স্পীড বের করুন । এভাবে আপনার ট্যুরের একজ্যাক্ট ডিসট্যান্স , ব্রেকিং পয়েন্ট ও টাইম সম্পর্কে একটা আইডিয়া করুন ।

Click For The Long Tour Tips

লং ট্যুর সিকিউরিটি সম্পর্কে:

ট্যুর সম্পর্কে যতটা সম্ভব বিস্তারিত তথ্য জোগার করুন । এই ক্ষেত্রে যে রুটে আপনি যেতে চাইছেন সেই রুটের কোন বাস বা ট্রাক ড্রাইভার আপনাকে ওই রোড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারে । আপনার সাইকেলের রোড কন্ডিশন , ফুয়েল স্টেশন , হোটেল ও রোডের ট্রাফিক কন্ডিশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করুন । এবং আপনার ট্যুরের জন্য সবথেকে সেফ রুটটাই সিলেক্ট করুন ।অবশ্য এক্ষেত্রে আপনি আবহাওয়া ও আপনার রুটের কোন স্থানে কোন রাজনৈতিক ঝামেলা আছে কীনা সে বিষয়েও জানতে চেষ্ট করুন ।

লং ট্যুর ব্যায় হিসাব করা:

আপনাকে অবশ্যই আপনার ট্যুরের ব্যায় সম্পর্কে একটা আইডিয়া করতে হবে । এক্ষেত্রে জ্বালানী , ইনিজন অযেল , খাবার , রাতে কোন বিপদে পড়লে থাকার খরচ, বাইক রিপেয়ার প্রভৃতি বেচনায় রাখুন । এসব কাজের জন্য কত ব্যায় হতে পারে সেটা আইডিয়া করে সে পরিমান টাকা নিজের কাছে রাখুন ।

ট্যুরের জন্য ড্রেস সিলেকশন:

লং ট্যুরের ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু । আপনি এই ট্যুরের সময় ভাল প্রিপারেশন না থাকলে যেকোন সময় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন । এই ধরণের লং ট্যুরের ক্ষেত্রে সবসময় গালকা কটন টিশার্ট সবথেকে উপযুক্ত । কলার রয়েছে এমন কোন শার্ট না পরাই ভাল কারণ এই শার্টগুলো বাতাসের সাথে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করে । আর সবসময় ফুল ফেস ঢেকে রাখে এমন একটা হেলমেট নিয়ে নিন । সেই সাথে হ্যান্ড গ্লোভস এবং ভাল বুট পড়ে নিন । বর্ষাকালে ট্যুরের প্লান করলে রেইন কোর্ট নেওয়া টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

লং ট্যুর টুকিটাকি খাবার সম্পর্কে:

লং রুটে জার্নির সময় অবশ্যই খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন । রাস্তার পাশের খাবারগুলো পরিহার করাই ভাল । খুব টেষ্টি খাবার না খাওয়া উচিৎ কারণ এটা আপনার শরীরকে অসুস্থ করে দিতে পারে । সবথেকে ভাল হয় যদি আপনি বাসা থেকে নুডুলস বা রুটি টাইপের কোন শুকনা খাবার নিয়ে নিতে পারেন । শর্ট ব্রেক টাইমে স্যালিইন খেয়ে নিতে পারেন । এসময় কোন চকলেট বার এবং কলা কেতে পারেন কারণ এগুলো আপনার স্টামিনা ধরে রাখতে হেল্প করবে ।

Reliable Touring Motorcycle in Bangladesh

লং ট্যুর ব্যাকপ্যাক আইটেম:

লং ট্যুরের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় ইস্যু । আপনার ট্যুরের সময় যেসব জিনিস লাগতে পারে তার একটা লিস্ট তৈরী করুন এবং সেগুলো আপনার কাছে রাখুন । আপনি সাথে পানির বোতল , স্যালাইন , চকলেট , এক্সট্রা টি শার্ট প্রভৃতি নিতে পারেন । ‌

লং ট্যুর রাইডিং কিট :

লং রুটে রাইডিং এর সময় আপনার সাতে আপনার বাইকের লাইসেন্স , ড্রাইভিং লাইসেন্স , ইনস্যুরেন্স , টুলকিট সেট , এক্সট্রা স্পার্ক প্লাগ , বাইকের সিকিউরিটি লক , সান গ্লাস , গ্লোভস প্রভৃতি নিয়ে নিন । সেই সাথে আপনার এটিএম কার্ড , মোবাইল ফোন , চার্জার নিতে পারেন । ‌

লং ট্যুর দৈহিক এবং মানসিক প্রস্তুতি:

এটাই মনে হয় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ।আপনি যদি শারিরীক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন তাহলেই আপনি ট্যুরে কোন বিপদ আসলেও সেটা সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে পারবেন । সবসময় নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন এবং নিরাপদে রাইড করুন ।

motorcycle-service-tips

লং ট্যুর এর জন্য বাইক প্রস্তুত করা:

এটা হল লং ট্যুরের ক্ষেত্রে সেকেন্ড ইমপর্ট্যান্ট জিনিস । এই ধরণের ট্যুরের ক্ষেত্রে আপনার বাইককে ঠিকমত সেই ট্যুরের জন্য প্রস্তুত করার দরকার আছে ।

  • ইন্জিন অয়েল চেঞ্জ করুন ।
  • ব্যাটারী এবং ফ্লুইড ঠিক আছে কীনা চেক করুন ।
  • স্পার্ক প্লাগ চেক করুন এবং এটা পরিষ্কার করুন । দরকার হলে অতিরিক্ত স্পার্ক প্লাগ সাথে নিন ।
  • এয়ার ফিল্টার চেক করুন এবং পরিষ্কার করে নিন ।
  • ক্লাচ , ব্রেক ক্যাবর এবং হাইড্রোলিক পার্টসগুলো চেক করুন ।
  • ভালভাবে ব্রেকিংটা চেক করুন ।
  • হেডলাইট চেক করে নিন এবং খেয়াল করুন লো এবং হাই বিম কাজ করছে কীনা ।
  • হর্ণএবং টার্নিং ইনডিকেটরগুলো চেক করুন ।
  • টায়ার ও টিউব চেক করুন । কোন লিকেজ আছে কীনা ভালভাবে খেয়াল করুন ।
  • টায়ার প্রেশারটাও এ্যাকুরেট আছে কীনা সেটা চেক করুন ।

লং ট্যুর শেষকথা:

‌এবং এতক্ষণ পর আমরা একটা লং ট্যুরের আগে যে যে বিষয় মাথায় রাখা দরকার সেগুলো প্রায় সব আলোচনা করে ফেলেছি । এরপরও বিভিন্ন জিনিস আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে বিবেচনায় রাখতে পারেন । আশা করি এটা আপনার লং ট্যুরের ক্ষেত্রে একটা সেফ , সফল এবং ঝামেলামুক্ত সমাধান দিতে পারবে ।

 

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া ।
সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*