লিফান কেপিআর ১৫০ ওনারশীপ রিভিউ – অসীম নাফিস

বাংলাদেশের  এযাবৎকালের মোটামুটি সবচেয়ে  আলোচিত ও বিতর্কিত বাইক লিফান কেপিআর ১৫০ কে আট মাসে বিশ হাজার  কিলোমিটার  টর্চার করার পর  নানান  বিতর্কিত  তথ্য  নিয়ে আমাদের বিস্তারিত আয়োজন লিফান কেপিআর ১৫০ ওনারশীপ রিভিউ – অসীম নাফিস আদর।

ঢাকা মেট্রো  ল-২৪৭৯৫৯
কালার লাল
ওডিও ২০,০০০কিমি    lifan-kpr150-top-speed

আমি ফেব্রুয়ারি মাসে রাসেল ইন্ডাসট্রীজ থেকে লিফান কেপিআর ১৫০ টি কিনি। ব্রেক-ইন এর নির্দেশনা  ছিল  ৩ হাজার  কিলোমিটার। আমি ১৫০০ কিলোমিটার  এ ব্রেক-ইন এর সমাপ্তি  দেই নিজ দায়িত্বে। প্রথম ৩০০ কিলোমিটারে প্রথম  ইঞ্জিন লুব ড্রেইন, পরবর্তীতে  ১০০০ কিলোমিটারে  ইঞ্জিন  লুব ড্রেইন। ১৫০০ কিলোমিটারে  সিন্থেটিক Mobil 1 Racing 4T.  প্রতি ১৫০০ কিলোমিটারে  ও চেঞ্জ  করতাম। পরবর্তীতে  Motul 7100 10w40 তে সিফট করে  প্রতি ২৫০০ তে  ড্রেন দিচ্ছি।

১৫১০ কিলোমিটার  থেকে লিফান কেপিআর ১৫০ টি নিয়ে হাইওয়ের যাত্রা শুরু  এখনও  চলছে। যাওয়া  হয়েছে  বান্দরবান, আলিকদম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, রায়েন্দা, শরণখোলা, সাজেক, নোয়াখালী,  চিটাগাং, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট আরও অনেক………. মোট ২০ হাজার  কিলোমিটারে  ১৪ হাজার  কিলোমিটার চলেছে হাইওয়েতে আর বাকি ৬ হাজার সিটিতে ।

lifan-kpr150-test-ride

লিফান কেপিআর ১৫০ এর বিস্তারিত দোষ-গুন

এইবার  আসি আমার এই ২০,০০০কিমি এর লম্বা  যাত্রায়  কিভাবে  লিফান কেপিআর ১৫০ থেকে সাপোর্ট  পেয়েছি   আর কি কি  পাইনি ।

  • হেডলাইট – বিল্ড ইন এলিডি প্রোজেকশন । ৩০০০ লুমেন। লো বীম ,  হাই বীমে অসাধারণ  আলো। যতই  ফগ লাইট স্পট লাইট ,  ফ্লাড লাইট ব্যবহার  করেছি স্টক লাইট টিই বেস্ট।
    স্টক সেগমেন্ট এ এতো ভালো  আলো  পালসার এ এস আর কেপিআর  ছাড়া  অন্য কোন  বাইকের  নেই। হেড লাইট শিল্ড বা কাভার  টা  বেশ শক্ত। হার্ড   কেজুএলটি ছাড়া  ভাঙ্গে না। পার্কিং  লাইটটি চোখ  ধাদানো।
  • উইন্ডশিল্ড – ক্লিয়ার  উইন্ডশিল্ড । 2D ডায়মেনশন কাট । ভালো  বাতাস  কাটে । লিন ড্রাইভে আই লেভেল  এর  নিচে  থাকে।
  • ডেসবোর্ড – ডেসবোর্ড চওড়া  কিটিং করা  দেখতে  ভালো ।
  • মিটার – আরপিএম মিডেল এ  স্পষ্ট  ডিজিট স্পষ্ট । স্পিডো মিটার  ডিজিটাল । ঘড়ি ,  ট্রিপ রিডিং আছে ।  ট্রিপ রিডিং  ১০০০ এর পর আবার  ০ হয়ে যায় ।  ঘড়ি  মাসে ১১ মিনিট  স্লো হয়ে যায়  আস্তে আস্তে ।  স্পিড  ডিজিট আর একটু বড় হলে  ভাল হত । ডিসপ্লে  কালার   চেঞ্জ করা  যায়  অরেঞ্জ  আর ব্লু ।
  • ট্যাংক – ১৭ লিটার  এর হিউজ ট্যাংক। ২ লিটার  রিজার্ভ । ট্যাংকের ডিজাইন  কাট এজ খুবই  সুন্দর ।  লিন হয়ে  বা  শুয়ে  চালানোর  জন্য  ভালো  সাপোর্ট  পাওয়া যায় ।
  • সিট – রাইডর এর ওকে,  পিলিওন সিট বেশ আরাম  দায়ক । পিলিওন ফুট রেস্ট  আর একটু পেছনে  হলে  ভালো হত । সিটিং পজিশন  প্রথম এক সপ্তাহ কষ্ট হয়েছে,  পরবর্তীতে  আমার এডজাস্ট হয়ে গেছে ।
  • গ্র্যাব রেইল – এলয় গ্র্যাব রেইল । দুটো গ্র্যাব রেইলে দুই  দুই  চারটি নটিং বার বা স্পেস আছে,  যাতে ব্যাগ  বাধার  সময়  স্ট্রেপ কে নট দেয়া যায় ।
  • টেইল লাইট – ১২টি ক্লিয়ার এল ই ডি। বেশ দূর  থেকে  দেখা যায় ।
  • রিয়ার মাড গার্ড – ম্যাট প্লাস্টিক । ফ্লেক্সিবল । হার্ড  কেজুএলটি  ছাড়া  লকও ভাঙে না ।
  • ফ্রন্ট শকএ্যবজরবার – ফ্রন্ট শকএ্যবজরবার গুলো  খুবই  রেসপন্সসিভ ,  যে কোন  ভাঙা  গর্তে  ফ্রন্ট  শকার  যথেষ্ট  কমফোর্ট রেসপন্স  করে । যেই পরিমান  অফরোড ভাঙা  আর গর্ত  হিট করেছি চিন্তার  বাহিরে। ৯০+ স্পীডে হঠাৎ  হঠাৎ  অর্ধশত স্পীড  ব্রেকার হিট করার  পরও এখনো  একটা ফর্ক সিলের কোন লিক নেই,  একটু  ফর্ক ওয়েল লিকও করে নেই ।
  • রিয়ার শক – মনো ক্রস সিঙ্গেল শকএ্যবজরবার। রিয়ার শকএ্যবজরবার ভালো  কিন্তু  আরামদায়ক নয়।  প্রথম  দিকে  অনেক  হার্ড  থাকে,  পরবর্তীতে  একটু সফট্ হয়। তারপরও  এতটা  আরামদায়ক নয়।  অফরোডে বা  ভাঙা  তে  খুব  একটা আরামদায়ক  নয় । কিন্তু  অন্যান্য  ডুয়েল শকএ্যবজরবার এর তুলনায়  ভাল। হোন্ডা  ইউনিকর্ন এর শকএ্যবজরবার বসানো  যায়। কিন্তু  আমার  কাছে  হোন্ডা শকএ্যবজরবার এর তুলনায়  লিফানের স্টকটি বেটার  মনে হয়েছে। কারণ  হোন্ডার শকএ্যবজরবার সেট আপের পরে  বরং  আরো  হার্ড মনে হয়েছে । স্পোর্টস  বাইকে কমফোর্ট  লেভেল একটু কম থাকে সেই  বিবেচনায় খারাপ  নয়।
  • রেসিং বল সেট/বল রেসার – বল রেসার এর কোয়ালিটি  অসাধারণ,  এত ভাঙা  চোড়া দৈনিক  যাত্রাবাড়ীর মত অসহনীয়  রাস্তা  দিয়ে  যাতায়াত  এর পরও একবারও  টাইট লুজ করতে হয় নাই ।
  • ক্লাচ , এক্সেলেরটর কেবল – কেবল এর ইনার ওয়ার কোয়ালিটি  খুবই ভালো । কোন  রাস্ট ,  কোন ভাজ বা ছিড়ার দাগ ছিল না । কিছু  দিন  আগে  লং এ যাবো বলে  ১৫০০০ কিলোমিটার  এ  নিজ প্রয়োজন  এ  সেফটি ইস্যু  চিন্তা করে   চেঞ্জ  করেছি ,  পুরনো  গুলো  যে  কেউ  আরামে আরও  ১০০০০ কিলোমিটার  চালাতে  পারবে ।
  • প্লাগ ও এয়ার ফিল্টার – প্লাগ (NGK-R) এর কোয়ালিটি  নিয়ে  যে কেউ  চমকাতে পারেন । ৬০০০ কিলোমিটার  এ ইরিডিয়াম লাগিয়ে  ছিলাম,  150 কিলোমিটার  পরে আবার  স্টকে শিফট করেছি।  ১০০০০ কিলোমিটারে প্লাগ প্রায়  নতুনের মতো  ছিল,  প্লাগ ইন্ডিয়ান  অনেক বাইকের  সাথে  মিললেই কোম্পানির  চাইনিজ  টাই বেস্ট  পারফর্ম করে।
  • এয়ার  ফিল্টার  এর কোয়ালিটি  ও ভালো , এয়ার  ফিল্টার  ইউনিকর্ন এর সাথে  মিলে ।
  • ব্রেকিং সিস্টেম – এক কথায়  ভালো,  ফ্রন্ট  এর ব্রেকিং  একেবারে  এফজি এর মত। পেনিক ব্রেকিং  এ চোখ  বন্ধ করে  ব্রেক কষলেও দেখবেন  সুন্দর  অন স্পট  বাইক দাড়িয়ে  গেছে। পেছনের  ব্রেকও ভালো ,  প্রেশার বেশি  হলে হালকা স্কিড করে কি বাইক বেলেন্স হারায় না । টায়ার চেঞ্জ  করলে এই সামান্য  স্কীড ও থাকে না । টায়ার(পিরিলি) আর ব্রেক প্যাড(ফ্রন্ট – RTR , রিয়ার- TRIGGER) চেঞ্জ  করলে  ব্রেকিং  এফজি এর মার্ক এসে দাঁড়ায় ।
  • ব্রেক প্যাড – টোলাল বাইকের  সব থেকে  খারাপ  দিক হচ্ছে  এর স্টক ব্রেক প্যাড ।  এতটাই  হার্ড ছিল যে  ৪০০০ কিলোমিটারে  ডিস্ক শেষ  হয়ে  যেত । কাস্টমার  এর  অভিযোগ  এখতিয়ার  এ নিয়ে  রাসেল  ইন্ডাস্ট্রীজ দ্রুত  ব্রেক প্যাড এর কোয়ালিটি   চেঞ্জ করার  প্রত্যাশা  দিয়েছে ।  এখন আর  কেউ  না  ভুগলেও  পেছনের ব্রেক প্যাড নিয়ে  আমি  বেশি  ভুক্তভোগী ।  সামনের  ব্রেক প্যাড R.T.R আর পেছনের  ব্রেক প্যাড TRIGGER  এর সাথে  মিলে,  আগে এটা  জানতাম না । অনেকেই  বলে ডিস্কের কোয়ালিটি  ভালো  না তাই  ক্ষয় হয়ে যায়,  এটা  ভুল  ধারণা ।
  • টায়ার – এই বিষয়ে  আমি একটু বেশিই  খুত খুতে ।  নির্দিধায়  C.S.T. একটি ভালো  টায়ার  ব্রেন্ড , কিন্তু  যে বিটের টায়ার  ব্যবহার  করছে তা  আমাদের দেশের জন্য  কোন মতেই  যুক্তি  যুক্ত  নয় । পেছনের টায়ার  টি চলে কিন্তু  সামনের  টায়ার  টি আমার  কাছে  অযৌক্তিক ।  আমি  সামনে  পেছনে পিরিলি স্পিড  ডেমন ইন্সটল  করেছি স্টক সাইজের । টায়ার চেঞ্জের পর পুরো  বাইকের  ব্যালেন্স  আর কন্ট্রোল  চেঞ্জ  হয়ে  গেছে । ব্রেকিং ,  কর্নারিং , হেন্ডেলিং সব অসাভাবিক হারে ইমপ্রুভ হয়েছে । শুধু  দুটো  টায়ার  পুরো বাইকের পারফরমেন্স   ডায়মেনশন  চেঞ্জ করে  দিয়েছে ।
  • চেইন সেট – চেইন সেট ভালো  কিন্তু   ১০০০০ কিলোমিটার  চালানোর  পর  বড় হয়ে যায়,  আমার  চেইন  জোরা বা কাটা কাটি পছন্দ  নয় । স্টক চেইন  লাগাবো না  বলে টেমপোরারি একটা সেপ্মল দেশি চেইন দেয় ,  যেটা ছেড়ার পর আমি RK SSS 428 চেইন লাগিয়ে  নেই  যেটা আমার  আগেই  প্ল্যান  ছিল,  চেইন  টা  হাতে  পেতে  দেরি  হচ্ছিল ।
  • বডি কিট , গ্রিলিং ও প্লাস্টিক – বডি কিট যথেষ্ট  শক্ত । পয়েন্ট টু পয়েন্ট  গ্রিলিং  করা প্রয়োজনীয়  জায়গায়  নাটের বদলে ছোট  স্ক্রু দেয়া নাই ।  প্লাস্টিক  এর কোয়ালিটি  যথেষ্ট  ভালো  এমনকি  ইন্ডিয়ান  কিছু কিছু  বাইকের  থেকেও  প্লাস্টিক  কোয়ালিটি  অনেক অনেক  ভালো ।
  • টার্নিং রেডিয়াস – টার্নিং রেডিয়াস  অনেক  কম । তবে জ্যাম ও মাত্রারিক্ত চিপা গলি ছাড়া  সমস্যা  হয় না । টার্নিং  এ লিন করে চালাতে হয় ।
  • ব্যাটারি – 9 এম্পিয়ার 12 ভোল্ট এর শক্তিশালী ব্যাটারি । যেকোনো  অবস্থায় এক স্লেফ এ সার্ট নিতে  সক্ষম ।20+20=40w এর এক্সট্রা  লাইট ,  চার্জার ,  দুটি হর্ণ এক সাথে  সাপোর্ট এ ব্যাটারিতে কোন  প্রকার  প্রেসার লক্ষ  করি নাই ।
  • লুক – লুক নিয়ে  নতুন করে  কিছু বলার নেই,  কেপিআর এর মূল  আকর্ষণীয়  বিষয়ই লুক  আর  পারফরমেন্স ।
  • ইঞ্জিন – ইঞ্জিন  খুবই  একটা সেনসেটিভ বিষয়  যে কোন  বাইকের  ক্ষেত্রে । এক  কথায়  এই টাকায় কেপিআর  এর ইঞ্জিনে একটা বিস্ট ফিল আছে। জি বিস্ট এই ইঞ্জিনের  ক্ষেত্রে  একটু ভদ্র  ভাষা হয়ে যায় । লিফান ও রাসেল ইন্ডাস্ট্রীজ  এর ক্লেইম অনুযায়ী  এটা  14.8 bhp এর ইঞ্জিন  কিন্তু  আমার কাছে মনে হয়েছে  এর bhp আরো  অনেক বেশি ।

lifan-kpr150-mileage

লিফান কেপিআর ১৫০ এ আমার কিছু টেকনিক্যাল অভিজ্ঞতা

লিফান কেপিআর ১৫০ নিয়ে বিশ হাজার  কিলোমিটার  চালানোর  মধ্যে  সাজেক  টুর‌্ এর পর পনের  হাজার  কিলোমিটার  এ  টেবিট-টাইমিং মেলানোর  জন্য  শুধু  একবার  হেড কাভার খোলা  ছাড়া  কোন  নাটে রেঞ্জ  ও ধরাতে হয়নি । এখানোও ক্লাচ পেল্ট সম্পূর্ণ  সুস্থ  আছে ।

গিয়ার শিফটিং 3000-5000 কিলোমিটার  পর্যন্ত হার্ড ,  এর পর  সামান্য  সফট হয়ে অনেকটা IPL HUNK এর মত হয়েছে । পরবর্তীতে  খেয়াল  করলাম  শিফটার রডে একটা  এডজাস্টার আছে,  এডজাস্টার  টা টাইট দেয়ার পর  গিয়ার ফুল স্মুথ হয়ে গিয়েছে । আমার  মতে  এটা  রাসেল  ইন্ডাস্ট্রিড এর এসেম্বলি লাইনের ভুল,  তারা  এই বিষয় টি মোটেও  মনে হয়  খেয়াল করে না,  অযথাই  হার্ড শিফটিং নিয়ে অনেক  দিন  কষ্ট  করলাম ।

লিফান কেপিআর ১৫০ এর ইঞ্জিন  পারফরমেন্স  একেবারে  ক্ষুধার্ত  জানোয়ার  এর মত ।  থ্রোটল টুইস্ট করতে দেরি  সাড়ে তিন  হাত  গেপে ও.টি. মারা  যায়  চোখের  পলকে । বাংলাদেশে  লিগেল 150 সেগমেন্টের  কোন  এয়ার  কুল্ড ইন্ডিয়ান/চাইনিজ  বাইক কেপিআর  এর টেইল লাইট দেখতেও সক্ষম  নয় । 3RD গিয়ারেই নক আউট  হয়ে যায়,  শুধুমাত্র  পালসার  এস টাফ কম্পিটিশন দেয় ।  উভয়ের  টপ 137/137 . কম্প্রেশন ও BHP  রেশিও এর কারণে  টাফ কম্পিটিশন এর সৃষ্টি হয় ।  উক্ত  বিষয়ে  কোন  প্রকার  সন্দেহ নেই  এবং আমি  নিজে  প্রমাণিত।

এছাড়া  সিবিআর , R15 ও অন্যান্য  150 সিসি হাই পারফরমেন্স  বাইককে টপে অভারটেক করা  যায় না,  এমন কি 120 এর পর সমান  সমান  ও থাকা  যায় না । যদি  এতে  কেউ  দ্বিমত পোষণ করে  তাহলে  সেটা চরম মিথ্যা কথা । তবে  130 পর্যন্ত  এদের  পেছনে  পেছনে  আরামে  থাকা  যায় । পিস্টনের ঠিক  কানেক্টিং এর পাশ দিয়ে  একটা  ইঞ্জিন  লুব ইনজেকটর আছে  যেটা  হাইয়ার আরপিএম এ কোনাকুনি  পিস্টনের  নিচে  লুব স্প্রে  করে । এছাড়াও আরো কিছু অভিজ্ঞতা:

  • যে কোন  গিয়ারে  আরপিএম  11500 পর্যন্ত  নেয়া যায়,  কেপিআর  এর সিডিআই তে  আরপিএম  ও স্পিড  লক নেই ।
  • এভারেজ টপ 137KMPH, কখনো কখনো  141KMPH যেটা  পারিপার্শিক পরিবেশ ও বাইকের  কন্ডিশন,  ইঞ্জিন  লুব,  ফুয়েল,  রোড ও বাতাসের  উপর  নির্ভর করে ।
  • তেল খারাপ  পরলে বাইক ধাক্কায়  না,  ঘন ঘন  স্টার্ট  বন্ধ হয় না । কিন্তু  এক্সেলারেশন ও টপ কমে যায় ।
  • সামনের  স্প্রকেট ছোট  করলে হান্ক এর 14  বসিয়ে  আন্ডার  গিয়ার করলে 9000 RPM এ 112 KMPH @ TOP GEAR আর স্টকে 9000 RPM এ 120-125 KMPH @ TOP GEAR .
  • এছাড়াও বাইকটি প্রথম দিকে  পাওয়ার  দেয় 5000-9000 Rpm পর্যন্ত,  পরবর্তী  পাওয়ার  দেয় 10000-11500 Rpm পর্যন্ত ।
  • আরো মজার বিষয় হলো বাইকটি 6th  গিয়ারেও চিন্তাতীত পাওয়ার সপ্লাই করে ।

lifan-kpr150-ownership-review

লিফান কেপিআর ১৫০ এ অন্যান্য কিছু বৈশিষ্ট্য

কুলিং সিস্টেম: লিফান কেপিআর ১৫০ এর ডুয়েল  পার্ট রেডিওটর । সিঙ্গেল পেনাসোনিক এর  ফ্যান ।  সারা  বাইকে  এক মাত্র  পার্টস যেটা মেড ইন জাপান ।   কুলিং সিস্টেম  পারফেক্ট  কাজ করে । রিজার্ভ  ট্যাংক  পিলিওন  সিটের  নিচে । কিন্তু  অনেক  সময়  একাধারে  জ্যামের রোডে চালালে  অনবরত 15 সেকেন্ড  এর বিরতিতে  কুলিং  ফ্যান  চলে  ইঞ্জিন  তাপমাত্রা  সহনীয়  হলেও  ট্যাংক  গরম হয়ে যায় । যেটা  আবার  2 মিনিটের  ফ্রি রোড  পেলে সেই গরম ভাপ টা চলে যায় ।  হাইওয়েতে একটানা  260 কিলোমিটার  চালানোর পরও ইঞ্জিন হাত দিয়ে  ধরে দেখছি,  হাতে  সহনীয়  তাপমাত্রা ।

ওয়ারেন্টি এন্ড  রিপ্লেসমেন্ট: ওয়ারেন্টি এন্ড রিপ্লেসমেন্ট  নিয়ে  রাসেল ইন্ডাসট্রীজ  বেশ একটিভ । এতে  কোন  সন্দেহ নেই । যে কোন  ওয়ারেন্টি  ক্লেইম করার  পর গ্রেন্টেড/যুক্তিযুক্ত হলে  সর্বোচ্চ  পরের  দিনের  মধ্যেই  রিপ্লেস  পেয়েছি । অনেক  দেখলাম  সেই দিনই পেয়ে  গেছে। আমি  দুটি ওয়ারেন্টি  ক্লেইম  করে  ছিলাম  1. মিটার ,  1800 কিলোমিটারে  আরপিএম  মিটার   হঠাৎ  হঠাৎ  আটকে যেত 2. পেছনের  ডিস্ক , একটু  এক জায়গায়  একটা কাট ঠিক ছিল না  আওয়াজ  করত । দুটোই  পরের  দিন  চেঞ্জ ।

lifan-kpr150-owner-experience

লিফান কেপিআর ১৫০ সার্ভিস এন্ড  স্পেয়ার্স

রাসেল  ইন্ডাসট্রীজ  এর লালমাটিয়ায় লিফানের মেইন সার্ভিস  সেন্টার। চোখে  আঙুল দিয়ে  দেখিয়ে  দেখিয়ে  বলতে  পারবো  বাংলাদেশের  অনেক অনেক  বড় বড়  বাইক  কোম্পানির  এমন একটা  রেসপন্সসিভ ,  একটিভ ও এক্সপার্ট  সার্ভিস  টিম নেই । অন্যদের মত অনেক  আধুনিক  যন্ত্রপাতি নেই  কিন্তু  এর পরেও  ঐসব আধুনিক  যন্ত্রপাতি  ওয়ালা  বড় বড়  কোম্পানি  এদের  কাজ ও কাজের  গতি  ও পারফেকশন দেখলে লজ্জা  পাবে।

মাঝে  মেকানিক্সরা বেশ  গা -ছাড়া  ভাবে  কাজ করত,  আমিও দু  দিন  ভুগেছি । এনিয়ে  বেশ হৈ হুল্লোড়  পর এখন  দেখলাম  আবার  মেকানিক্স  রা  পুরোপুরি  সোজা  হয়ে  গিয়েছে  মেনেজমেন্ট এর চাপে। প্রয়োজন  ছাড়া  অযথা  সস্পেয়ার্স  চেঞ্জ  করার  ডিমান্ড  করে না ।  বাহির থেকে  ব্রেক সু কিনে তাদের  কাছে  চেঞ্জ করতে  গেলেও কোন  চার্জ  নেই। সার্ভিস  চার্জ  ফ্রি । আঁটটি ফূল সার্ভিস  ফ্রি।

এরা কাস্টমার  এর জবকার্ড কমপ্লেইন  অনুযায়ী  কাজ করে। সিরিয়াল  অনুযায়ী  ও ছোট  বড় কাজ অনুযায়ী  কাজ করে । যেমন ব্রেক পেড ফিল্টার,  চেক আপ  আগে ছাড়ে । ইঞ্জিন  ঘটিত বিষয়  ধীরে সুস্থে সময়  নিয়ে  করে ।

লিফান কেপিআর ১৫০ এর স্পেয়ার্স  এভেলেবল।  হঠাৎ  কখনো  সর্ট পরলেও পরবর্তী  দিনই ফেক্টরি থেকে  বেক আপ এর ব্যাবস্থা করে ।  কোন  স্পেয়ার্স  পরিবর্তন  এর প্রয়োজন  হলে,  সার্ভিস  টীম ইঞ্জিনিয়ার  এর পরামর্শ  নেয়। স্পেয়ার্স  এর দাম  আকাশ  চুম্বি না । অন্যান্য  বাইকের  মত নরমাল  দাম ।

আমার নিজের কিছু বিবেচনা ও পরামর্শ

লিফান কেপিআর ১৫০ বাইকটি এপর্যন্ত চালানোর পর আমার কাছে মনে হয়েছে  ব্রেক -প্যাড ও টায়ার  বাদে অন্যান্য  সমস্যা  গুলো আমার  কাছে  তুচ্ছ  বিষয়। যে গুলো  কে সমস্যার  কাতারে  ধরা  যায়  না  কারণ  এই ধরনের  লেকিংস্ সব বাইকেই কম  বেশি  থাকে ।  থাই সিবিআর  এর ও চেইন  কিট সেট আমাদের  দেশের  জন্য  ভালো  না,  সবাই  নিজে আপগ্রেড  করে  নেয় ।

ব্রেক পেড ও টায়ার  আপগ্রেড  করার  পর এই মূল্যে এই ধরণের  শক্তিশালী  ইঞ্জিন  ও অসাধারণ  পারফরমেন্স  এর জন্যে  সামান্য  কমফোর্ট  আমি বিসর্জন  দিতে  রাজি ।  তবে  গিয়ার  শিফটিং  নিয়ে  রাসেল  ইন্ডাস্ট্রীজ  কে একটা  R&D করার  এবং আফটার  এসেম্বলি Q&C কে  আরেটু কঠোর অবস্থানে নেয়ার জন্য  অনুরোধ করছি।

তাহলে লিফান কেপিআর ১৫০ যে সমস্ত  খুঁটিনাটি  বিষয়  গুলো  আমি  ঠিক  করে  নিয়েছি  সে গুলো নিয়ে  পরবর্তী  ক্রেতাদের কোন  ঝামেলায়  জড়াতে  হবে না,  কোন  কমপ্লেইন  ও থাকবে না । আমি  লোকাল  মেকানিক্স  এর সাহায্যে দশ মিনিটে  গিয়ার  শিফটিং  এর সমস্যার সমাধান করতে  পারলে  তারা  এটা  আরও স্মুথ  করতে  পারবে ।

%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a7%a7%e0%a7%ab%e0%a7%a6-%e0%a6%93%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%aa

লিফান কেপিআর ১৫০ এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা, প্রশ্ন  ও তার  সমাধান

  • ট্যাংক প্রচন্ড  হিট হয়?  রেডিয়েটর ফিন ভেন্ট পরিস্কার  রাখুন,  আরপিএম 1000 এ রাখুন । দিনে  এক দু’বার স্টার্ট  বন্ধ  হতে পারে  কিন্তু  ট্যাংক  গরম  হবে না গেরান্টি । কুলেন্ট কেস্টরোল বা  মটুল ব্যবহার  করতে পারেন । জ্যাম এ এই সমস্যা  বেশি  হয়  সিগনাল  এ ইঞ্জিন  অফ রাখুন ।
  • টায়ার ব্যালান্স নিয়ে দ্বিধায় আছি! স্টক সাইজের  ভালো  ব্রেন্ড এর টায়ার  লাগান ,  তবে  অবশ্যই স্পোর্টস  বিট বা  ইনার  কাট সেগমেন্ট  এর টায়ার  লাগাবেন । আমি  পিরিলি ব্যবহার  করছি । টায়ার  চেঞ্জ  এর পর ব্যালেন্স,  কনট্রোল,  কর্নারিং বেশ আপগ্রেড হয়েছে । তবে  টপ কমেছে ।
  • ব্রেকিং সমস্যা / ডিস্ক প্রবলেম ? ব্রেকিং এর সর্বধরনের সমস্যার সমাধান  ও আপগ্রেড  করতে  উভয়  ব্রেক  পেড চেঞ্জ  করুন । সামনে  RTR পেছনে TRIGGER. সামনের  ডিস্ক KAWASAKI NINGA 300 এর সাথে  আর পেছনের  ডিস্ক  TRIGGER সাথে  মিলে।
  • কোন ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করব? যে  কোন  ভালো  ব্রেন্ড  এর 4T ইঞ্জিন  ওয়েল । মিনারেল  হলে 20W40 আর সিন্থেটিক  হলে 10W40 । সিন্থেটিক  এ মবিল রেসিং এর থেকে  মটুল 7100 তে  ভালো  পারফরমেন্স  পেয়েছি । তবে  সিন্থেটিক  এ ইঞ্জিন  সাউন্ড  একটু  ফাটা  লাগে মিনারেল এর তুলনায় ।
  • গিয়ার  শিফটিং  হার্ড?  শিফটার  আর গিয়ার  শ্যাফট এর মাঝে  একটা এডজাস্টেবল সেটাকে ঠাইট করলেই হবে । উভয়  দিক থেকে  দুই পেচ গেপ বা  তিন দুই গেপ দিলেই  বিষয়টি সমাধান  হয় ।
  • ভাঙা  রোডে ঝাকি লাগে? টায়ার  প্রেসার  সামনে  25 পেছনে 35 করুন । ঝাকি খুব  একটা  টের  পাবেন না ।
  • চেইন  চেঞ্জ  করব! RK SSS 428 (128L)  এর চেইন  ব্যবহার করতে পারেন । 420 ও ব্যবহার করতে পারেন  428 একটু মোটা । চেইন  কেপিআর  এর একটা  গুরুত্বপূর্ন বিষয় । সব সময়  চেইন লুব করে  রাখবেন ।
  • রিয়ার  সাসপেনশন সমস্যা! TRIGGER টা  বসে  তবে  আমার কাছে  স্টক টাই ভালো  মনে হয়েছে । রেসপন্স  কম মনে  হলে এক স্টেপ হাই করে  দেখতে পারেন ।
  • প্লাগ নিয়ে কি করা যায়? স্টক টা বেশ ভাল । তবে কেউ  চাইলে  ইরিডিয়াম  বা  RTR এর প্লাগ  ব্যবহার করতে পারেন ।

তো বন্ধুরা আমার এটুকু অভিজ্ঞতায় আমি যতটুকু পেরেছি বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আশা করি কিছুটা হলেও বিষয়গুলো পরিস্কার করতে পেরেছি। আজ এতোটুকই।

সবাই  সাবধানে  বাইক  চালাবেন ।
লেন চেঞ্জ  এর  আগে  লুকিং গ্লাস  ও ইন্ডিকেটর ব্যবহার  করুন ।
সবসময়  সামনের  থাকা  যানবাহনের  দিকে  তীক্ষ্ণ নজর  রাখুন ।
শুধু  হেলমেট  পরিধান  করবেনই না  হেলমেট এর স্ট্রাইপ/বেল্ট লক করুন ।

ধন্যবাদ : অসীম নাফিস আদর 🙂

 

আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com – এই ইমেইল এড্রেসে।

About Saleh Md. Hassan

আমি কোন বাতিকগ্রস্ত পথের খেয়ালী ধরনের নই…. তবে মোটরসাইকেল পছন্দ করি ও প্রয়োজনে ব্যবহার করি মাত্র…. কিছুটা ঘরকুনো বাধ্যগত চালক…. তবে মাঝে মাঝে নিজের ভেতরের যোগী-ভবঘুরে স্বত্তাকে মুক্তি দেই আমার দুইচাকার ঘোড়ার উপর চেপে বসে বিস্তৃত অদেখার পথে ছুটে যাবার জন্য…..অনেকটা বাঁধনহীন চির ভবঘুরের মতো…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!