লিফান কেপি ১৫০ রিভিউ

সবাইকে শুভেচ্ছা। আজ আমরা বাজারে নতুন আসা একটি বাইক লিফান কেপি ১৫০ নিয়ে আলোচনা করবো। আপনাদের কি ২০০০ সালের কথা মনে আছে ? তখনকার সময়ে দেশে কতটি বাইকের মডেল ছিলো ??? কেবলমাত্র হাতে গোনা কিছু মডেল। কিন্তু, বর্তমানে যদি আমরা আমাদের চারপাশে তাকাই , তবে দেখতে পাবো যে প্রচুর মডেলের বাইক ছড়িয়ে আছে। একথা বলাই যায় যে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে মটরসাইকেলের মার্কেট অনেক বেশি চাঙ্গা। বর্তমানে আমাদের দেশের রাস্তাঘাটও অনেক বেশি উন্নত। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের সরকার আমাদের জন্য একটি বাধা রেখেছে, যার নাম সিসি লিমিট। এর ফলে সাধারনত আমরা লিগ্যালি ১৫৫ সিসির উর্ধ্বে কোন বাইক রাইড করতে পারি না। তাই…

Review Overview

User Rating: 4.77 ( 14 votes)

সবাইকে শুভেচ্ছা। আজ আমরা বাজারে নতুন আসা একটি বাইক লিফান কেপি ১৫০ নিয়ে আলোচনা করবো। আপনাদের কি ২০০০ সালের কথা মনে আছে ? তখনকার সময়ে দেশে কতটি বাইকের মডেল ছিলো ??? কেবলমাত্র হাতে গোনা কিছু মডেল। কিন্তু, বর্তমানে যদি আমরা আমাদের চারপাশে তাকাই , তবে দেখতে পাবো যে প্রচুর মডেলের বাইক ছড়িয়ে আছে। একথা বলাই যায় যে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে মটরসাইকেলের মার্কেট অনেক বেশি চাঙ্গা। বর্তমানে আমাদের দেশের রাস্তাঘাটও অনেক বেশি উন্নত।

লিফান কেপি ১৫০

কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের সরকার আমাদের জন্য একটি বাধা রেখেছে, যার নাম সিসি লিমিট। এর ফলে সাধারনত আমরা লিগ্যালি ১৫৫ সিসির উর্ধ্বে কোন বাইক রাইড করতে পারি না। তাই আমাদের দেশে সবচাইতে জনপ্রিয় সেগমেন্ট হলো ১৫০ সিসি সেগমেন্ট। বিশেষত, তরুন সমাজ এই সেগমেন্টকে খুবই পছন্দ করে। বাজাজ পালসার, টিভিএস এপাচি, হিরো হাংক, ইয়ামাহা এফজেড-এস, নতুন হোন্ডা সিবি ট্রিগার, ইত্যাদি তাদের অত্যান্ত পছন্দ। এই ক্রমধারাতেই গত বছরের শেষের দিকে বাজারে আগমন ঘটে এক নতুন যোদ্ধার, যার নাম লিফান কেপি ১৫০।

লিফান কেপি ১৫০ দাম

লিফান কেপি ১৫০ এর আমদানীকারক হলো রাসেল ইন্ড্রাস্ট্রিজ, যারা ২০০৪ সাল থেকে অত্যান্ত উৎসাহের সাথে আমাদের দেশে ব্যাবসা করছে। বর্তমানে তারা বিখ্যাত চাইনিজ ব্র্যান্ড “ লিফান মটরসাইকেলস ” এর থেকে বাইকের চেসিস , ইঞ্জিনসহ সকল যন্ত্রাংশ আমদানী করছে এবং তাদের যাত্রাবাড়িতে অবস্থিত ফ্যাক্টরীতে এসেম্বল করে সম্পূর্ণ মটরসাইকেল তৈরী করছে। তারা লিফান কেপি ১৫০ মডেলটি ২০১৩ সাল থেকে আমদানী শুরু করে।কিন্তু , দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক অরাজকতার কারনে তারা বাইকটির প্রচার বা বিজ্ঞাপন করতে পারেনি ও বিক্রিও করতে পারেনি । ২০১৪ সালের জানুয়ারীতে বাইকবিডির সহায়তায় তারা চিটাগাং ও কক্সবাজারে বাইকটির প্রচার চালায় । তাদের প্রচারানুষ্ঠানটি ছিলো অত্যান্ত চমৎকার ।

যখনই এই বাইকটির সাথে বাইকবিডি যুক্ত হলো , তখন থেকেই এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে গেলো। সকলেই এই বাইকটি সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন।তাই সকলের কৌতূহলের অবসান ঘটানোর জন্য আজ আমরা লিফান কেপি ১৫০ বাইকটা নিয়ে আলোচনা করব।

লিফান

স্পেসিফিকেশন্স :

লিফান কেপি ১৫০ বাইকটিতে রয়েছে শক্তিশালী ১৪৯ সিসির এয়ার কুলড সিঙ্গেল সিলিন্ডার ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন। যেটাতে ৫৭.৩ মিমি * ৫৭.৮ মিমি এর বোর ও স্ট্রোক রয়েছে। এর ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ শক্তি হলো ৮৫০০ আরপিএম এ ১২.৮ বিএইচপি এবং সর্বোচ্চ টর্ক হলো ৬০০০ আরপিএম এ ১২ এনএম। ১৫০ সিসি চাইনিজ বাইকের মধ্যে এর ইঞ্জিন সেরাদের মধ্যে একটি। ” Faster than the Lightning ” কথাটির উৎপত্তিই হয়েছে এই বাইকের এক্সেলেরেশনকে ভাষায় প্রকাশ করার জন্য।

এক নজরে বাইকটির অফিশিয়াল স্পেসিফিকেশন দেখে নেয়া যাক –

ডাইমেনশন ( L*W*H mm ) = ২০৬০*৭৪৫*১০৮০

হুইল বেজ = ১৩৩০ মি.মিটার

ওজন = ১৩৪ কিলোগ্রাম

সিটের উচ্চতা = ৭৭৫ মি.মিটার

তেল ধারন ক্ষমতা = ১৫ লিটার

ইঞ্জিন অয়েল ধারন ক্ষমতা = ১ লিটার

ইঞ্জিন = ভার্টিকাল, একক সিলিন্ডার বিশিষ্ট ফোর স্ট্রোক এয়ার কুলড ইঞ্জিন।

সিসি = ১৪৯ সিসি

বোর*স্ট্রোক = ৫৭.৩ মিমি * ৫৭.৮ মিমি

সর্বোচ্চ শক্তি = ১২.৮ বিএইচপি @৮৫০০ আরপিএম

সর্বোচ্চ টর্ক = ১২.০০ এমএম @৬০০০ আরপিএম

ইগনিশন = শুধুমাত্র ইলেকট্রিক স্টার্ট

ট্রান্সমিশন = ৫টি গিয়ার ও বামহাতে ক্লাচ

সাসপেনশন = সামনে রয়েছে টেলিস্কোপিক ফর্ক ও পেছনে রয়েছে মনোশক অ্যাবজর্ভার ।

ব্রেক = সামনে ও পেছনে উভয় চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক রয়েছে।

চাকা = ১৭ ইঞ্চি অ্যালয়রিম বিশিষ্ট চাকা।

টায়ার = সামনে – ৮০/১০০ সাইজের টিউবলেস টায়ার।
পেছনে – ১১০/১০০ সাইজের টিউবলেস টায়ার।

লিফান মোটর সাইকেল বাংলাদেশ

লিফান কেপি ১৫০ একটি আগ্রাসী চেহারার স্পোর্টি বাইক।এর ফুয়েল ট্যাংকটি অত্যান্ত সুন্দরভাবে ডিজাইন করা যার দুই পাশে দুইটি “কাউলিং” বা সোজা বাংলায় , কান রয়েছে। এছাড়াও এর এক্সহস্ট এর গঠন অন্যান্য বাইকের মতোই ট্রেডিশনাল। এর সাইড প্যানেল সিলভার রঙের ও “y” শেপের। এর সিটও যথাসম্ভব আরামদায়ক করা হয়েছে।এর হেডলাইটের নিচের প্রান্তে দুটি নীল রঙের পার্কিং লাইট দেয়া হয়েছে যা একে অন্ধকারে একটি ভৌতিক চেহারা দেয় । এর হেডলাইট DC এবং যথেষ্ট শক্তিশালী।পেছনের টেইললাইটটি এলইডি , এবং ক্লিয়ার লেন্সবিশিষ্ট ইন্ডিকেটরগুলো অনেক ভালো পারফর্মেন্স দেয়।

ফ্লুরোসেন্ট আলোবিশিষ্ট এর ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেলটা দেখতে সুন্দর , এবং কাজের দিক দিয়ে সেরাগুলোর মধ্যে একটি । এই প্যানেলে স্পীডোমিটার , আরপিএম কাউন্টার , ট্রিপমিটার , ফুয়েল ইন্ডিকেটর , ঘড়ি , ও গিয়ার ইন্ডিকেটর রয়েছে। এই বাইকটীর ডিজিটাল প্যানেলে প্রয়োজনের সকল বস্তুই দেয়া হয়েছে , যা আমাদের দেশের খুব কম বাইকে দেখা যায়। উভয় হ্যান্ডেলবারে যেসকল সুইচ ও কন্ট্রোল দেয়া আছে , তা অনেক ভালো কোয়ালিটির। স্যাডল পজিশন কিছুটা উচুমতো হলেও ওভারঅল সিটিং পজিশন অনেক আরামদায়ক।

লিফান বাইক

ভিজুয়ালি , লিফান কেপি একটি অত্যান্ত সুন্দর একটি বাইক। এর সম্পূর্ণ আনকমন ও চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্স ডিজাইন একে দিয়েছে অত্যান্ত আকর্ষণীয় একটি আউটলুক। সকলেই এর আউটলুকের অনেক প্রশংসা করেছেন ।

বস্তুত , আমরা যখন এটা টেষ্ট রাইড দিয়েছিলাম তখন অনেকেই কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলেন যে এতা কি আসলেই চাইনিজ বাইক নাকি কোন ইন্ডিয়ান বাইক। তাই বলা যায় যে , তীব্র চাইনিজবিদ্বেষী বাদে বাকি সকলেরই এর আঊটলুক পছন্দ হবে।

ব্রেকিং এবং হ্যান্ডেলিং

এই বিষয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম । লিফান কেপি ১৫০ এর হ্যান্ডেলিং ও ব্রেকিং কোয়ালিটি আসলেই অপূর্ব। বস্তুত , বেশ কিছু জনপ্রিয় ইন্ডিয়ান বাইকের চাইতেও এর ব্রেকিং এবং কন্ট্রোলিং বেটার। ফ্রন্ট এবং রিয়ার – উভয় ডিস্কই অত্যান্ত ভালো পারফর্মেন্স দেয়। এছাড়াও , এর স্টক টায়ারের গ্রিপ অত্যান্ত ভালো। উচ্চগতিতে কর্নারিং করার সময়ও এই গ্রিপ বজায় থাকে।

এর পেছনে রয়েছে অত্যাধুনিক মনোশক সাসপেনশন যা দেয় একটি আরামদায়ক রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স।তবে , এর পেছনের সাসপেনশনের তুলনায় সামনের সাসপেনসশন অতটা পারফেক্ট না। তবে , এর ফ্রন্ট সাসপেনশনের পারফর্মেন্স মার্কেটের অন্যান্য ১৫০ সিসি বাইকের মতোই।

লিফান বাইকের দাম

রাইডিং পারফর্মেন্স ও ট্র্যাক রেজাল্ট

যেকোন বাইক নিয়ে রিভিউ লেখার পূর্বে আমরা সর্বদা বাইকটিকে একটি লম্বা সময় ধরে পরীক্ষা করি। লিফান কেপি ১৫০ এর ক্ষেত্রে এ সময়টি ছিলো প্রায় এক মাস এবং ২৪০০ কিলোমিটার।

এছাড়াও আমরা একজন ব্যবহারকারীর টেষ্ট রেজাল্টও মাথায় রেখেছি , যিনি তার লিফান কেপি ১৫০ নিয়ে ৯০০০ কিলোমিটারেরও অধিক পথ পাড়ি দিয়েছেন। সুতরাং আপনারা বুঝতেই পারছেন আমরা বাইকটির সকল ভালো ও মন্দ বিষয়ে সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। এবার আর দেরী না করে আপনাদের মনে আসা বেশিরভাগ প্রশ্নের জবাব দেয়া যাক …

প্রথমেই আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে এর স্পীড এবং মাইলেজ নিয়ে। আপনি শুনে হয়তো অবাক হবেন , যে আমরা এর সর্বোচ্চ স্পীড তুলেছি ১২৪ কিমি/ঘন্টা । এবং , বিভিন্ন রাইডিং স্টাইল , ট্রাফিকের বাড়াকমা ইত্যাদীর উভর নির্ভর করে আমরা এর মাইলেজ পেয়েছি লিটারে ৪০ – ৪২ কিমি। এছাড়াও আমরা বিখ্যাত স্টান্ট রাইডার Oyon Ahmed কে দিয়ে বাইকটার স্টান্ট অ্যাবিলিটি পরীক্ষা করেছি। তিনি বাইকটা দিয়ে অত্যান্ত সহজ ও সাবলীলভাবে স্টপি , হুইলি এর মতো স্টান্ট করেছেন।

আপনি হয়তো বাইকটির লং রাইডিং ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চাইবেন। হ্যা , আমরা এই বাইকটি দিয়ে বেশ কিছু ট্যুরও দিয়েছি , যার মধ্যে ঢাকা-সেইন্টমারটিন-ঢাকা , ঢাকা-টাঙ্গাইল-ঢাকা, এবং বহুবার ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও , সম্প্রতি টীম বাইকবিডি সদস্য ওয়াসিফ আনোয়ার তার লিফান দিয়ে ৬০০ কিমি ট্যুর , ২৪ ঘন্টায় ১১৫০ কিমি ট্যুরসহ ছোটবড় আরো অনেক ট্যুর দেন।কাজেই , লিফান কেপি ১৫০ এর লং রাইডিং ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কোন সন্দেহ নেই।

লিফান বাইক রিভিউ

লিফান কেপি ১৫০ এবং বাইকবিডি

লিফান কেপি ১৫০ বাইকটিতে আমরা আমাদের অনেকখানি সময় ব্যয় করেছি। আমাদের তিনজন সদস্য এই বাইকটি টেষ্টিংয়ের পেছনে অনেক পরিশ্রম করেছেন , কারন আমরা দেখতে চাচ্ছিলাম যে একটা “চাইনিজ বাইক” আমাদের দেয়া সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে কিনা। তো দেখ যাক এই বাইকটাতে আমরা কি পেলাম –

* স্টাইলিশ চেহারা , আকর্ষণীয় গ্রাফিক্স , ও উন্নতমানের ডিজাইন। বাইকের সম্পূর্ণ বডিই এই আকর্ষণভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

* বাইকটিতে আকর্ষণীয় কিছু ফিচার রয়েছে , যেমন ডুয়েল ডিস্ক ব্রেক , পেছনে মনোশক সাসপেনশন , ব্লোটেড এক্সহস্ট , টিউবলেস টায়ার , সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ইনট্রুমেন্ট প্যানেল , ইত্যাদী।

* ভালো এক্সেলেরেশন ও টপ স্পীড , যা দিয়ে অনায়াসে ড্রাগ রেসে সেগমেন্টের অন্যান্য বাইককে হারিয়ে দেয়া সম্ভব।

* অত্যান্ত উন্নতমানের ইঞ্জিন , অধিক আরপিএমেও অত্যান্ত কম ভাইব্রেশন এবং স্বল্প শব্দ , এমনকি অনেক্ষন একটানা চালানোর পরেও ।
* তুলনামূলক কম ওজনবিশিষ্ট ( ১৩৪ কিলোগ্রাম ) হওয়ায় ও ১৫+৪৫ দাঁতের চেইন স্প্রকেট থাকায় এটা উচ্চগতিতে ভালো পারফর্মেন্স দেয়।

* এক্সেলেরেশন ও টপ স্পীড এর কথা মাথায় রাখলে বাইকটির মাইলেজ যথেষ্ট। এছাড়াও অত্যান্ত কমফোর্টেবল ও আকর্ষণীয় দাম। আমরা বলতেই পারি যে এই দামে সেরা বাইক লিফান কেপি ১৫০।

* সামনের সাসপেনশন আরো ভালো হতে পারতো।

* গিয়ার শিফটিং এফজেড সিরিজের মতো স্মুথ হলে বেটার হতো।

* সিঙ্গেল হর্ন সম্ভবত এই বাইকের সবচাইতে খারাপ বিষয়। ডাবল হর্ন হওয়া উচিত ছিলো।

* স্টক এয়ার ফিল্টারের ডিজাইনের কারনে সেটা সহজেই ময়লা হয়ে যায়।

* হ্যান্ডেল বার এর দৈর্ঘ্য আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। আঃর , হ্যান্ডেল বারটা কালো রঙের হলে ভালো হতো।

* কোন কিক নেই , শুধুমাত্র সেলফ স্টার্ট অপশন রয়েছে। এটা শীতকালে বা ব্যাটারী ডাউন হলে অহেতুক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

* হেডলাইটের উপরে ও ড্যাশবোর্ডের সামনে কোন কিছুই নেই যা বাতাসকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে উচ্চগতিতে রাইড করার সময় রাইডারকে অধিক বাতাসের চাপের মোকাবেলা করতে হবে।
* স্পেয়ার পার্টস শুধুমাত্র তাদের শোরুমেই পাওা যায়। তবে , ব্রেক শু , ব্রেক প্যাড , চেইন স্প্রকেট ও বেশ কিছু ইঞ্জিন পার্টস , হোন্ডা ইউনিকর্ন , হিরো হোন্ডা হাংক ইত্যাদী ইন্ডিয়ান বাইকের সাথে মিলে যায়।
* তারা মার্কেটে নতুন তাই তারা সর্বোচ্চ কাস্টোমার সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করছে।

মোটর সাইকেল ইঞ্জিন

ইঞ্জিনের ওভারহিটিং ও প্রতিকার

অনেক লিফান কেপি ১৫০ ইউজাররা একটি অভিযোগ করেছেন যার সত্যতা আমরাও টেষ্ট রাইডিং করার সময় পেয়েছি। অভিযোগটা হলো এর ইঞ্জিনের ওভারহিটিং নিয়ে। সত্যি বলতে , এটা বাংলাদেশের সকল চাইনিজ বাইকেরই একটা কমন সমস্যা। তাদের ইঞ্জিন সাধারন ইন্ডিয়ান এয়ারকুলড বাইকের চাইতে একটু বেশি গরম হয়। তবে , এটা কোন সমস্যাই না যদি আপনি এর রিকমান্ডেড গ্রেডের মতো উচ্চ গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যাবহার করেন।

রিকমেন্ডেশন –

* লিফান কেপি ১৫০ এর জন্য 20w-50 গ্রেডেড ইঞ্জিন অয়েল রিকমেন্ডেড। আপনি আপনার লিফান কেপি ১৫০ এ HAVOLINE (20W- 50), Mobile 4T (20W- 50), Total (20W- 50) এসব ইঞ্জিন অয়েল ইউজ করতে পারেন।

* প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ কিমি পরপর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন।

* প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ কিমি পরপর এয়ারফিল্টার পরিষ্কার করুন।

* চেইন শুকনো হওয়া শুরু করলেই তাতে ইঞ্জিন অয়েল/ গ্রীজ দিন।

* যদি আপনার কাছে গিয়ার শিফটিং শক্ত মনে হয় , তবে ক্লাচ লিভার কেবল্ অ্যাডজাস্ট করুন।

শেষকথা

প্রথমেই আমরা আবারও বলতে চাই লিফান কেপি ১৫০ হচ্ছে “ Value For Money ”। এটা অত্যান্ত আকর্ষণীয় দামে আকর্ষণীয় একটি প্যাকেজ।আমরা যথেষ্ট সময় ধরে বাইকটা টেষ্ট করেছি এবং বাইকের প্রতিটি ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সক্ষম হয়েছি।

আমরা স্বীকার করি যে এটা একটি ভালো বাইক , সাথে আমরা এটাও স্বীকার করি যে এটা হোন্ডা , ইয়ামাহা এগুলোকে বিট করতে পারবে না। তবে , একটা কথা আমরা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি , যদি এই বাইকটার নাম মুছে কাউকে চালাতে দেয়া হয় , তবে সে অবাক হয়ে যাবে যখন সে শুনবে এটি একটি চাইনিজ বাইক। পারফর্মেন্স এর দিক দিয়ে এটা বাংলাদেশের সকল এয়ার কুলড ১৫০ সিসি বাইকের সাথে সমানে সমানে টক্কর দেয়ার ক্ষমতা রাখে। ☺

অনেক অভিজ্ঞ রাইডারই লিফান কেপি ১৫০ এর টেস্ট রাইড দিয়েছেন , এবং দেয়ার পর অবাক হয়ে গেছেন। তারা কেউই একটা ১৫০ সিসি চাইনিজ বাইক থেকে এতোটা পারফর্মেন্স আশা করেননি।

আশা করিআমাদের এই রিভিউ আপনাদের সকলের মনের কৌতূহল পূরন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও আপনার যেকোন প্রশ্ন , অভিযোগ , অনুযোগ আমাদের জানাতে পারেন। আপনাদের সাহায্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ।

বর্তমানে লিফান কেপি ১৫০ এর মূল্য ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা । প্রতিটি বাইকে রয়েছে ২ বছর বা ২০,০০০ কিলোমিটারের ওয়ারেন্টি এবং ১ বছরের ফ্রি সার্ভিসিং।

শোরুম  ঠিকানাঃ

Rasel Industries LTD
House-8/3, Block-D, Lalmatia
Dhaka-1207, Bangladesh
Cell: +88-01713 444045

সবাইকে শুভেচ্ছা। আজ আমরা বাজারে নতুন আসা একটি বাইক লিফান কেপি ১৫০ নিয়ে আলোচনা করবো। আপনাদের কি ২০০০ সালের কথা মনে আছে ? তখনকার সময়ে দেশে কতটি বাইকের মডেল ছিলো ??? কেবলমাত্র হাতে গোনা কিছু মডেল। কিন্তু, বর্তমানে যদি আমরা আমাদের চারপাশে তাকাই , তবে দেখতে পাবো যে প্রচুর মডেলের বাইক ছড়িয়ে আছে। একথা বলাই যায় যে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে মটরসাইকেলের মার্কেট অনেক বেশি চাঙ্গা। বর্তমানে আমাদের দেশের রাস্তাঘাটও অনেক বেশি উন্নত। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের সরকার আমাদের জন্য একটি বাধা রেখেছে, যার নাম সিসি লিমিট। এর ফলে সাধারনত আমরা লিগ্যালি ১৫৫ সিসির উর্ধ্বে কোন বাইক রাইড করতে পারি না। তাই…

Review Overview

User Rating: 4.77 ( 14 votes)

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!