শীঘ্রই বাংলাদেশে আসছে হাইওসাং জিটি১২৫আর ও জিটি১২৫

Hyosung জিটি১২৫আর ও জিটি১২৫ শীঘ্রই দেশের বাজারে আসছে। তবে ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কারণে কারা এটা আমদানি করছে তা বলছি না আমরা। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনার বিষয়েও আমরা বিস্তারিত জানতে পারিনি। তবে এটুকু বলতে পারি তারা দেশের বাজারে কোন কোন বাইক আনবে। আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি যে, তারা হাইওসাং জিটি১২৫আর ও জিটি১২৫ নিয়ে আসছে। চলুন এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিই। হাইওসাং কোম্পানি প্রোফাইল হাইওসাং গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করে হাইওসাং। প্রথমে তারা সুজুকির কোরিয়ান বাজারের জন্য সুজুকি বাইক তৈরি শুরু করে। ১৯৮৬-তে হাইওসাং জাপানে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করে। এরপর ২০০৩-এ হাইওসাং মোটরস অ্যান্ড মেশিনারি ইনক.-কে…

Review Overview

User Rating: 4.7 ( 1 votes)

Hyosung জিটি১২৫আর ও জিটি১২৫ শীঘ্রই দেশের বাজারে আসছে। তবে ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কারণে কারা এটা আমদানি করছে তা বলছি না আমরা। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনার বিষয়েও আমরা বিস্তারিত জানতে পারিনি। তবে এটুকু বলতে পারি তারা দেশের বাজারে কোন কোন বাইক আনবে। আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি যে, তারা হাইওসাং জিটি১২৫আর ও জিটি১২৫ নিয়ে আসছে। চলুন এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিই।

বাংলাদেশে হাইওসাং জিটি১২৫আর ও জিটি১২৫হাইওসাং কোম্পানি প্রোফাইল

হাইওসাং গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করে হাইওসাং। প্রথমে তারা সুজুকির কোরিয়ান বাজারের জন্য সুজুকি বাইক তৈরি শুরু করে। ১৯৮৬-তে হাইওসাং জাপানে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করে।

এরপর ২০০৩-এ হাইওসাং মোটরস অ্যান্ড মেশিনারি ইনক.-কে হাইওসাং গ্রুপ থেকে পৃথক করে দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেরাই একটি আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে পারে। তবে ২০০৩-এর জুনে কোরিয়ান কোম্পানি এস অ্যান্ড টি (সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) গ্রুপ হাইওসাং মোটর ডিভিশনকে কিনে নেয় এবং নাম রাখে এস অ্যান্ড টি মোটরস। এরপর আবার ২০১৪-তে কোলাও হোল্ডিংস কিনে নেয় এস অ্যান্ড টি মোটরসকে এবং নতুন নাম রাখা হয় কে আর মোটরস।

১২৫ সিসি, ২৫০ সিসি ও ৬৫০ সিসি ক্যাটাগরিতে ক্রুজার, স্ট্রিট নেকেড ও স্পোর্টস সহ তাদের বিশাল একটি প্রোডাক্ট লাইন আপ রয়েছে। সম্প্রতি তারা শহরের ভিতরে চলাচলের জন্য ইলেকট্রিক স্কুটার তৈরি করছে। তারা বিশ্বের নানা প্রান্তে তাদের মোটরসাইকেল রপ্তানি করছে।

বাংলাদেশে হাইওসাং জিটি১২৫আর এর দামবাংলাদেশে হাইওসাং-এর প্রোডাক্ট লাইন আপ

বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে দুইটি মডেল আসার কথা রয়েছে। এগুলো হলো হাইওসাং জিটি১২৫আর ও হাইওসাং জিটি১২৫। হাইওসাং জিটি১২৫আর সম্পূর্ণ ফেয়ারড ভার্সন এবং জিটি১২৫ নেকেড ভার্সন। এবার মডেলগুলোর বিস্তারিত জানা যাক।

হাইওসাং জিটি১২৫আর

হাইওসাং জিটি১২৫আর ১২৫ সিসির একটি স্পোর্টস বাইক, যার ইঞ্জিন ২ সিলিন্ডার বিশিষ্ট এবং বাইকটিতে ৮ ভাল্ব (হ্যা ঠিকই শুনেছেন, ৮টি) রয়েছে! বাংলাদেশের প্রায় সব উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন স্পোর্টস বাইকে ২টি ভাল্ব থাকে। অথচ এই বাইকে রয়েছে ৮টি, যার ফলে সেসব বাইকের চেয়ে এই বাইকে বায়ু-জ্বালানির মিশ্রণের অনুপাত তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি এই বাইকের কম্প্রেশন রেশিও অনেক বেশি যাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা বাড়ানো যায়। বাইকটি সর্বোচ্চ ১৪.৬৫ বিএইচপি শক্তি উৎপন্ন করতে পারে ১০৫০০ আরপিএমে এবং এর টর্ক ১০.২ @ ৯৭৫০ আরপিএম।

হাইওসাং জিটি১২৫আর এর গিয়ারবক্স ৫ স্পিডের এবং এর সামনের টায়ার ১১০ ও পিছনের টায়ার ১৫০ সাইজের! জ্বালানি ও ইঞ্জিন অয়েলসহ বাইকটির ওজন ১৮২ কেজি! তাছাড়া আকারে বেশ বড়ো হওয়ায় ছোটোখাটো মানুষদের জন্য জিটি১২৫আর নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হবে।

হাইওসাং জিটি১২৫আর ফিচারহাইওসাং জিটি১২৫আর এর সামনের সাসপেনশন আপসাইড ডাউন পদ্ধতির এবং পিছনের সাসপেনশন হাইড্রলিক অ্যাডজাস্টেবল। বাইকটির উভয় চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক রয়েছে এবং সামনের ব্রেকটি চাকার বাম পাশে লাগানো। উভয় ব্রেকের পিস্টনই ডুয়েল ক্যালিপার।

এই বাইকের হ্যান্ডেলবারটি অন্যসব স্পোর্টস বাইকের মতোই স্ট্রেইট এবং এর ড্যাশবোর্ডে খুব সুন্দর স্পিডোমিটার ও ওয়ার্নিং লাইটি রয়েছে। এর টেইল লাইট এলইডি হলেও, ইন্ডিকেটরগুলো বাল্ব। পাশাপাশি বাইকে পিলিয়নের বসার সুবিধার্তে গ্র্যাব রেইলও রয়েছে। বাইকের মাফলারটি স্টেইনলেস স্টিলের ও প্রটেক্টর বিহীন। বাইকটিতে দুইটি হেডলাইট রয়েছে, যেগুলো একটির উপর আরেকটি স্থাপিত এবং সেগুলো প্রোজেকশন হেডল্যাম্প।

হাইওসাং জিটি১২৫আর স্পেসিফিকেশন

হাইওসাং জিটি১২৫আর এর স্পেসিফিকেশন

বিভাগ তথ্য ১২৫আর
ইঞ্জিন টাইপ এয়ার/অয়েল কুলড ডিওএইচসি ৮-ভাল্ব ৭৫ ভি-টুইন
ডিসপ্লেসমেন্ট ১২৪ সিসি
বোর x স্ট্রোক ৪৪ x ৪১
কম্প্রেশন রেশিও ১১.৩:১
সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৪.৬৫ বিএইচপি @ ১০৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ১০.২০ নিউটন মিটার @ ৯৭৫০ আরপিএম
জ্বালানি সরবরাহ কার্বুরেটর
লুব্রিকেশন ওয়েট সাম্প
ট্রান্সমিশন ক্লাচ ওয়েট, মাল্টিপল
গিয়ার কনস্ট্যান্ট মেশ ৫-স্পিড (১ ডাউন, ৪ আপ)
ড্রাইভ চেইন
চেসিস দৈর্ঘ্য ২০৯০ মিমি
উচ্চতা ১১৩০ মিমি
প্রস্থ ৭০০ মিমি
হুইল বেজ ১৪৩৫ মিমি
ভূমি থেকে উচ্চতা ১৫৫ মিমি
সিটের উচ্চতা ৮৩০ মিমি
ব্রেক (সামনে) ৩০০Ø সেমি ফ্লোটিং সিঙ্গেল ডিস্ক, ২ পিস্টন ক্যালিপার
ব্রেক (পিছনে) ২৩০Ø সিঙ্গেল ডিস্ক, ২ পিস্টন ক্যালিপার
সাসপেনশন (সামনে) ৪১Ø আপসাইড ডাউন টেলিস্কোপ
সাসপেনশন (পিছনে) সুইং আর্মের সঙ্গে প্রগ্রেসিভ লিঙ্কেজ হাইড্রলিক মনো শক অ্যাবজরভার(প্রিলোড অ্যাডজাস্টেবল)
টায়ার (সামনে) ১১০/৭০ -১৭ ৫৪এইচ
টায়ার (পিছনে) ১৫০/৭০-১৭ ৬৯এইচ
জ্বালানি ধারণক্ষমতা ১৭ লিটার
ওজন ১৮২ কেজি

বাংলাদেশে হাইওসাং জিটি১২৫ এর দাম

হাইওসাং জিটি১২৫

জিটি১২৫ এর স্পেসিফিকেশন হুবহু জিটি১২৫আর এর মতোই, তবে জিটি১২৫ হচ্ছে নেকেড ভার্সন। এতে কোনো বডি কিট লাগানো নেই বিধায় এর ওজনও জিটি১২৫আর এর চেয়ে কম। তাছাড়া এতে প্রজেকশন হেডলাইটের পরিবর্তে হ্যালোজেন হেডলাইট রয়েছে। আর এর হ্যান্ডেলবার অন্যসব নেকেড স্পোর্টস বাইকের মতোই পাইপ প্রকৃতির।

হাইওসাং জিটি১২৫ স্পেসিফিকেশন

হাইওসাং জিটি১২৫ এর স্পেসিফিকেশন

ডিভিশন তথ্য জিটি১২৫
ইঞ্জিন টাইপ এয়ার/অয়েল কুলড ডিওএইচসি ৮-ভাল্ব ৭৫ ভি-টুইন
ডিসপ্লেসমেন্ট ১২৪ সিসি
বোর x স্ট্রোক ৪৪ x ৪১
কম্প্রেশন রেশিও ১১.৩:১
সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৪.৬৫ বিএইচপি @ ১০৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ১০.২০ নিউটন মিটার @ ৯৭৫০ আরপিএম
জ্বালানি সরবরাহ কার্বুরেটর
লুব্রিকেশন ওয়েট সাম্প
ট্রান্সমিশন ক্লাচ ওয়েট, মাল্টিপল
গিয়ার কনস্ট্যান্ট মেশ ৫-স্পিড (১ ডাউন, ৪ আপ)
ড্রাইভ চেইন
চেসিস দৈর্ঘ্য ২০৯০ মিমি
উচ্চতা ১১৩০ মিমি
প্রস্থ ৭০০ মিমি
হুইল বেজ ১৪৩৫ মিমি
ভূমি থেকে উচ্চতা ১৫৫ মিমি
সিটের উচ্চতা ৮৩০ মিমি
ব্রেক (সামনে) ৩০০Ø সেমি ফ্লোটিং সিঙ্গেল ডিস্ক, ২ পিস্টন ক্যালিপার
ব্রেক (পিছনে) ২৩০Ø সিঙ্গেল ডিস্ক, ২ পিস্টন ক্যালিপার
সাসপেনশন (সামনে) ৪১Ø আপসাইড ডাউন টেলিস্কোপ
সাসপেনশন (পিছনে) সুইং আর্মের সঙ্গে প্রগ্রেসিভ লিঙ্কেজ হাইড্রলিক মনো শক অ্যাবজরভার(প্রিলোড অ্যাডজাস্টেবল)
টায়ার (সামনে) ১১০/৭০ -১৭ ৫৪এইচ
টায়ার (পিছনে) ১৫০/৭০-১৭ ৬৯এইচ
জ্বালানি ধারণক্ষমতা ১৭ লিটার
ওজন ১৬৭ কেজি

হাইওসাং জিটি১২৫ ফিচার

আমরা এখনো সঠিকভাবে জানিনা যে, কবে এই বাইক দুটি দেশের বাজারে ছাড়া হবে বা এগুলোর দাম কেমন হতে পারে। তবে তা জানতে পারলে আমরা যথাশীঘ্র সম্ভব আপনাদের জানিয়ে দিবো। তবে এটা খুবই আশার কথা যে, গত ৬ মাসে অনেক আমদানিকারক খুব ভালো কিছু হাই এন্ড ব্র্যান্ডেড বাইক দেশে নিয়ে এসেছে। যেগুলো সত্যিই অত্যন্ত ভালো মানের বাইক এবং দেশের বাইকের ভিন্ন রকমের বাইকিংয়ের টেস্ট দিচ্ছে।

 

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!