টীম বাইকবিডির হিরো প্লেসার টেষ্ট রাইড রিভিউ

সকল রাইডারদের জানাই পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা । আশা করি সববাই ভাল আছেন । এই পহেলা বৈশাখে টীম বাইকবিডি থেকে প্রচুর পরিমানে রাইডারদের রেসপন্স পেয়ে একটা ৫০০+ কি.মি এর টেষ্ট ড্রাইভে গিয়েছিল । এবং আমরা জানি অনেক বাইক প্রেমীই এই রিভিউটার জন্য অনেক মাস ধরে অপেক্ষা করে আছেন । এবং অনেকেই এই নতুন স্কুটার টি নিয়ে অনেক আগ্রহের সাথে এর একটা প্রাকটিক্যাল রিভিউএর জন্য বসে আছেন । এবং এখন এই স্কুটার টি নিয়ে যেটা ছেলে বা মেয়ে যে ককেউ খুব কমফোর্টের সাথে রাইড করতে পারেন সেটা নিয়ে আজ এই রিভিউ ।

যেখানে আরামটাই মেইন বিষয় , তাই সেখানে ছেলে বা মেয়ে কোন ব্যাপার না । ছেলে বা মেয়েরা সবাইই বাইকটি নিয়ে রাইডিং এ গের চরম মজা পাবেন বলে আশা করা যায় । এটা শুধু নামেই প্লেসার নয় , এটা এর নামের মূল্য ভালভাবেই রাখতে পেরেছে বলে মনে হয় ।

 হিরো প্লেসার সম্পর্কে যা কিছু :

হিরো প্লেসার একটা বেশ ছোটখাট , জিপি স্টাইলের হিরো মোটোকপ এর একটা প্রোডাক্ট যেটা বিশ্বের অনেক বড় একটা মোটরবাইক ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানী । আর বাংলাদেশে এর ইমপোর্টার হহল নিলয় মোটরস লিমিটেড । এটার একটি ১০২ সিসির এয়ারকুলড ইন্জিন রযেছে যেটা এর সিটের নীচে খুব সুন্দরভাবে সেট করা আছে । এটার গিয়ার ও ক্লাচ অটো । ফলে রাইডারকে ক্লাচ ও গিয়ার নিয়ে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না । বাইকটি একটা এক্সেলেন্ট বাইক এবং এটার কালার কম্বিনেশন ও ওভারঅল লুকিংটাও চরম ।

বাইকটির ইন্জিন অনেক রেসপনসিভ । এটা কন্ট্রোল করাটাও অনেক সহজ । একারণে অবশ্য অটো গিয়ারকে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয় । সিটের নীচের স্টোরেজ স্পেসটা হেলমেট সহ আরও কিছু বাড়তি জিনিসপত্র রাখার জন্য পারফেক্ট ।

এটাতে একটি মোবাইল চার্জিং এর ব্যাবস্থাও আছে যেটা রাইডিং এর সময় আপনার মোবাইল বা স্মার্র্টফোনকে চার্জ করে রাখবে । তাই , আমরা আমাদের দিক থেকে বলতে পারি যে বাইকটি রাইডিং এর জন্য খুবই আরামদায়ক এবং বাইকটি কিনে আপনার শুধুই ইন্জিন স্টার্ট করে থ্রোটলটি পুশ করার দরকার । তারপর আপনার কমফোর্টের দায়িত্ব আপনার বাইকের ।

হিরো প্লেসারের টেকানক্যাল রিভিউটা নিচে দেওয়া হল :

Technical Specifications:

Engine type Air cooled, 4-stroke, Single Cylinder OHC
Displacement 102cc
Bore & Stroke 50.0 × 52.0mm
Compression ratio 9.0:1
Maximum output 6.75 BHP @ 7000 RPM
Maximum torque 7.85 Nm @ 5000 RPM
Maximum Speed 77Kmph (Company Claims)
Starting method Electric & Kick
Ignition CDI

Transmission & Electricals

Clutch type Dry Automatic Centrifugal Clutch
Transmission type Variomatic drive (2.51 – 0.81)
Battery 12 V – 4 Ah MF Type (Maintenance Free)
Head Lamp 12 V – 35 W / 35 W – Halogen bulb (Multi-Reflector type)

Suspension, Brake & Wheel

Suspension (Front) Bottom link with spring-loaded hydraulic damper
Suspension (Rear) Unit Swing with spring-loaded hydraulic damper
Brake type(Front & Rear) Drum Type, Internal expanding shoe fitted (130 mm)
Rim size (Front & Rear) 10 x 2.15
Tire size (Front & Rear) 3.50 x 10 – 4 PR / 51 J (tubeless)

Overall Dimension

Overall Length × Width × Height 1750 mm X 706 mm X 1110 mm
Seat height 765 mm
Wheelbase 1240 mm
Minimum ground clearance 125 mm
Kerb weight 104 Kg
Fuel tank capacity 5 liters. ( Min)
Frame type High rigidity under bone type

হিরো প্লেসার হল বাইকের জগতে eye candy নামে পরিচিত হয়ে গেছে । আমরা এটার কনসোল , ডিজাইন , হেডল্যাম্প , রেয়ার ভিউ গ্লাস , ফ্রন্ট সাইড এবং রেয়ার প্যানেল সবকিছু নিয়ে বেশ সন্তুষ্টই । এটা একটা দারুন স্টাইলিশ বাইক ।

টীম বাইকবিডির অভিজ্ঞতা :

সকল বাইকাররা জানেন যে বাইকবিডি সবসময়ই রাইডারদের একটা রিয়েল ট্রাক রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করে থাকে । আমরা সাধারণত একটা বাইক বিভিন্ন ট্রাকে বিভিন্ন সিচুয়েশনে ও বিভিন্ন টেকনিকে টেষ্ট করার পর্ই এর উপর একটা রিভিউ দিয়ে থাকি । আর এই হিরো প্লেসার বাইকের ক্ষেত্রে আমরা ছেলে ও মেয়ে উভয়ের উপরই এই পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে এই রিভিউটা প্রস্তুত করেছি এবং বাইকটি সম্পর্কে সবার মতামতই একই এবং সেটা হল এটা আসলেই আরামদায়ক ও খুব ভাল কন্ট্রোলড ।

হিরো প্লেসার আসলেই এর বিশাল চওড়া ও নরম সিটের জন্য রাইডিং এর ক্ষেত্রে অনেক আরামদায়ক । এটাতে রাইডারের জন্য একটা বেশ বড় পাদানীও রয়েছে । সামনের ও পেছনের সাসপেনশন যখথেষ্ঠ ভাল এবং বেশ রেসপনসিভ ও কমফোর্টেবল । এর ২ টা ব্রেকই প্রচলিত ড্রাম ব্রেক কিন্তু এটা বাইকটির জন্য বেশ ভাল ও বেশ রেসপন্স করে থাকে এবং বাইকটির স্টপিং পাওয়ার অনেক ভালভাবে কাজ করে । যদিও সাধারণের মত এর সামনের ব্রেকটি একটু দূর্বল যেটা সব স্কুটারেরই একটা কমন বৈশিষ্ট । আর বাইকটির টিউবলেস টায়ার ও সুন্দর গ্রিপ বাইকটিতে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে ।

বাইকটি আরও বেশী সেফ হয়ে উঠেছে এর একটা ইন্টিগ্রেটেড ব্রেকিং সিস্টেমের কারণে । আপনি যদি একবার এ পেছনের ব্রেকটি পুশ করেন তাহলে অটোমেটিকলি এর সামনের ব্রেকটিও কাজ করবে । যেটা নতুন রাইডারদের জন্য অনেক উপকারী । অবশ্য সব রাইডারেরই ভাল স্টপিং পাওয়ারের জন্য ২ টা ব্রেক একসাথে পুশ করা অভ্যাস করা উচিৎ ।

হিরো প্লেসারের ইন্জিন একটা স্কুটারের তুলনায় অনেক ভাল এবং চরম রেসপনসিভ । এটার এক্সেলেরেশনটাও চমৎকার এবং এটা বেশ দ্রুত্ই এক্সেলেরেট করতে পারে । বাইকটির পাওয়ার ডেলিভারীটাও খুবই স্মুথ এবং এটা কোন ফ্রিকশন সৃষ্টি করে না । আমরা বাইকটি নিয়ে ৫৫কি.মি/ঘন্টা স্পীড তোলার পর এর বেশ শক্তিশালী পাওয়ার দেকতে পাই এবং এটার টপ স্পীড পাই আমরা ৮৫ কি.মি/ঘন্টা যেটা একটা স্কুটারের ক্ষেত্রে আকাশছোয়া বলেও অনেকের মনে হতে পারে ।

বাইকটির ফুয়েল ইফিসিয়েন্সি বেশ ভাল । এটাতে আমরা গড়ে ৪৮-৫৫ কি.মি/লিটার ফুযেল ইফিসিয়েন্সি পেয়েছি । এটা বেশ খারাপ , উচু নীচু বা ভাঙাচোরা রাস্তায় ৪৫-৪৮ এবং হাইওয়ে বা ভাল কোন রোডে ৫৩-৫৫ কি.মি/লিটার সার্ভিস দিয়ে থাকে । এবং এটাই শেষ নয় । আমরা বলছি না যে এই বাইকটি সবসময়ই এইরকম পারফরমেন্স বা ফুয়েল ইফিসিয়েন্সি দেবে । এটা পরবর্তীতে আরও ভালো সার্ভিসও আপনাকে দিতে পারে ।

সুবিধাগুলো :

  • হিরো প্লেসার পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই চরম আরামদায়ক একটা বাইক ।
  • এটার অটো গিয়ার এবং ক্লাচ এটাকে কন্ট্রোল করা অনেক সহজ করে দিয়েছে বিশেষ করে শহরে ট্রাফিক জ্যামের ভেতর ।
  • সকল কন্ট্রোল এবং সুইচগুলো অপারেট করা খুবই সহজ ।
  • রাইডার ও পেছনের যাত্রীর জন্য খুবই আরামদায়ক সিট ।
  • চরম এক্সেলেরেশন পাওয়ার ।
  • ইন্জিনটি কোন অবস্থা ও যেকোন স্পীডেই কোনরকম ভাইব্রেট করে না ।
  • .দুইটা টায়ারই টিউবলেস ও খুবই উন্নত ও সুন্দর গ্রীপযুক্ত । আমাদের বাইকবিডি টীম এটা নিয়ে ৬৫ কি.মি/ঘন্টা স্পীডে খুবই স্মুথলি কর্নারিং করেছেন ।
  • এর ওজনটা মুলত বাইকের কেন্দ্রে হবার কারণে এটা খুবই ওয়েল ব্যালান্সড ।
  • সীট ও কনসোলের নীচে বিশাল স্টোরেজ স্পেস রয়েছে । কনসোলের নীচে একটা মোবাইল চার্জার ও রয়েছে এবং সীটের নীচে একটা বুট লাইট রয়েছে ।
  • এটাতে একটা সাইড স্টান্ড ইনডিকেটরও রয়েছে যেটা কোন রাইডার যদি স্টান্ড না তুলে ইন্জিন স্টার্ট করে তাহলে সেটা রাইডারকে জানিয়ে দেবে ।

দূর্বলতা :

যদিও আমরা বাইকটি টেষ্ট করার সমময় এর কোন দূর্বলতা খুজে পাইনি , তারপরও কিছু বিষয় সবসময়ই কনসিডার করতে হয় যাকে করে এর পর সামান্য ভুলগুলো সংশোধন করে আমরা আরও একটা ফিটেস্ট বাইক পেতে পারি । সেগুলোই নীচে তুলে ধরা হল :

  • বাইকটির হেডলাইট হল এসি পাওয়ারড । এটা ডিসি হলে আরও ভাল হত ।
  • হর্ণ সাউন্ড একটু কম বলেই মনে হয় ।
  • এর ভেতরের ম্যাট কালারের প্যানেলটিতে ধূলাবালি জমতে পারে ।
  • কম উচ্চতার যাত্রীদের জন্য পিছনের এই বিশাল চওড়া সিট একটা সমস্যা হয়ে দাড়াতে পারে ।

দাম:

বাংলাদেশে হিরো প্লেসার বর্তমানে দুইটা ভার্র্সনে পাওয়া যাচ্ছে । একটা হল শিট মেটাল ভার্সন যেটার দাম ১৩০০০০ টাকা । আর কাষ্ট মেটাল ভার্সন যেটার দাম ১৩৫০০০ টাকা । বাংলাদেশে প্রায় ১২০ টি হিরো শো রুমে পাওয়া যাচ্ছে

শেষকথা :

সবশেষে বলা যায় যে হিরো প্লেসার একটা খুবই আরামদায়ক বাইক এবং একটি ভাল পাফরমার ও বটে । এটা নারী পুরুষ সবার জন্যই সমান ভাল । কলেজ ছাত্র থেকে শুরু করে অফিসযাত্রীদের জন্য এটা চমৎকার একটা বাইক ।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!