২ স্টোক ইন্জিনের পতন এবং ৪ স্টোক ইন্জিনের রিভোলিউশন এর মূল কারণ

আমরা সাধারণত বাইকের ইন্জিনের ক্ষেত্রে ২ টা নাম্ই জানি । সেই ২ টা নাম হল ২ স্ট্রোক ইনিজন এবং ৪ স্ট্রোক ইন্জিন । কিন্তু আসলে এই দুই টাইপের ইন্জিন যে কী সেটা হয়তবা আমরা অনেকেই জানি না । এমনকী জানার চেষ্টাও করি না । ২ স্ট্রোক ইন্জিন গুলো মূলত অনেক আগের মডেলের বাইকে ইউজ হত …

Review Overview

User Rating: 2.42 ( 3 votes)
0

আমরা সাধারণত বাইকের ইন্জিনের ক্ষেত্রে ২ টা নাম্ই জানি । সেই ২ টা নাম হল ২ স্ট্রোক ইনিজন এবং ৪ স্ট্রোক ইন্জিন । কিন্তু আসলে এই দুই টাইপের ইন্জিন যে কী সেটা হয়তবা আমরা অনেকেই জানি না । এমনকী জানার চেষ্টাও করি না । ২ স্ট্রোক ইন্জিন গুলো মূলত অনেক আগের মডেলের বাইকে ইউজ হত । অবশ্য এখনও কিছূ কিছূ বাইকে ২ স্ট্রোক ইন্জিন ইউজ করা হয়ে থাকে । আজ আমাদের টপিক হল এই ২ স্ট্রোক ইন্জিন ও ৪ স্ট্রোক ইন্জিনের ভেতর আসলে পার্থক্যটা কী সেটা জানা । কীভাবে এই ২ টাইপের ইন্জিন কাজ করে সেটা খুজে বের করা । তো চলুন , শুরু করা যাক । যেহেতু আমরা আগে বিভিন্ সময় ৪ স্ট্রোক ইন্জিন নিয়ে আলোচনা করেছি , তাই আজ শুধু মাত্র ২ স্ট্রোক ইন্জিনের দিকে একটু বেশী নজর দেওয়া হল ।

কীভাবে ইন্জিন কাজ করে

স্টো্ক বলতে যেটা বোঝায় সেটা আসলে ইন্জিনের পিষ্টনের মুভমেন্ট । ইন্জিনের পিষ্টন একটা পূর্ণচক্রে কতবার মাভ করে সেটাই হল ইন্জিনের স্ট্রোক নম্বর । তো , বুঝতেই পারছেন দুই টাইপের ইন্জিনের ভেতর আসল পার্থক্য টা কোথায় ? ২ স্ট্রোক ইন্জিনে পিষ্টন মোট ২ বার মুভ করে । প্রথম স্ট্রোকে পিষ্টন ফুয়েল মিক্সারকে কম্প্রেস করে ফেলে এবং পরবর্তী স্ট্রোকে পিষ্টন আবার উপরের দিকে উঠে আসে এবং জ্বালানী মিশ্রণ ইন্জিনে প্রবেশ করে ।

two stroke2

২ ম্টোক ইন্জিনের গঠন

আর ৪ স্ট্রোক ইন্জিনে পিষ্টন কম্প্রেশনের সময় একবার এবং এক্সাউস্ট এর সময় একবার ইন্জিনের ভেতরের দিকে মুভ করে এবং প্রতিবারই বিপরীতদিকে উঠে আসে । কম্প্রেশন স্ট্রোক মূলত জ্বালানী মিশ্রণকে কম্প্রেস করে ফেলে এবং এক্সাউস্ট স্ট্রোক পোড়া গ্যাসকে বাইরে বের করে দেয় ।

4-stroke-model

৪ ম্টোক ইন্জিনের গঠন

৪ স্ট্রোক ইন্জিনে মূলত পিষ্টন যখন জ্বালানী মিশ্রণকে একেবারে কম্প্রেস করে ফেলে তখন একটা স্পার্ক প্লাগ থেকে স্পার্কিং এর মাধ্যমে সেই জ্বালানী মিশ্রণে আগুণ ধরানো হয় । সাধারণত ক্রান্কশ্যাফটের ২ টা টার্ণের জন্য একবার করে স্পার্কিং করা হয় । আর ২ স্টো্ক ইন্জিনে একবারই স্পার্কিং করা হয় এবং সে সময় পিষ্টন জ্বালানী মিশ্রণের বিষ্ফোরণের ফলে প্রচন্ডবেগে বাইরে বের হয়ে এসে একটা শক্তি সৃষ্টি করে যেটা কাজে লাগিয়ে চেইন ঘোরানো হয় ।২ স্টোক ইন্জিনের পিষ্টন সাধারণত ৪ স্টোকের থেকে একটু লম্বা হয়ে থাকে ।

সুবিধা ও অসুবিধা

two stroke

২ স্টোক ইন্জিনের কার্যপ্রণালী

  

আসলে ২ স্ট্রোক ইন্জিনের অনেক সুবিধা রয়েছে , কিন্তু অনেক অসুবিধাও রয়েছে । এই ইন্জিনের সুবিধা অসসুবিধা গুলো নীচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হল :

সুবিধা :

  1. ২ স্ট্রোক ইন্জিনে কোন ভালব নেই যেটা তাদের গঠনকে অনেক সিম্পল করে তুলেছে ।
  2. ২ স্ট্রোক ইন্জিন প্রতি চক্রে একবার করে ফায়ার করে যেটা এর প্রচন্ড শক্তির একটা অন্যতম কারণ ।
  3. ২ স্ট্রোক ইন্জিন অনেক হালকা এবং এটা তৈরী ও মেইনটেইন করতে অনেক কম খরচ পড়ে ।
  4. একটা নির্দিষ্ট সাইজের ফোর স্ট্রোক ইন্জিন থেকে যে শক্তি পাওয়া সম্ভব একটা অর্ধেক সাইজের একটা ২ স্ট্রোক ইন্জিন থেকে সেই একই শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব ।

অসুবিধা :

  1. ২ স্টো্রক ইন্জিনের মেইন যে সমস্যা সেটা হল এটা খুব বেশী দিন টিকে না । এটা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় বা ২ স্ট্রোক ইন্জিনের সাভির্সিং করানো লাগে অনেক ঘন । এটার লুব্রিকেশন সিস্টেম খুব একটা ভাল করে তৈরী করা হয়নি যে কারণে ইন্জিনের ভেতরের বিভিন্ন পার্টস খুব সহজেই ক্ষয় হয়ে যায় । ২ স্ট্রোক ইন্জিনের ক্রান্ক শ্যাফট , কানেক্টিং রড এবং সিলিন্ডার এর ওয়াল লু্ব্রিকেশনের জন্য অয়েল এর সাথে গ্যাস এর একটা মিক্সার প্রয়োজন হয় যেটাও খুব ব্যায়বহুল ।
  2. ২ স্ট্রোক ইন্জিনের আরেকটা মেজর সমস্যা হল এটা অনেক ব্যায়বহুল । এটার মিক্সিং রেশিও হল ৪ আউন্স/গ্যালন গ্যাস । হিসাব করলে দেখা যায় প্রতি ১০০০ কিলোমিটারে এটা প্রায় ১ গ্যালন অয়েল খরচ করে ফেলে ।
  3. ২ স্ট্রোক ইন্জিনের ফুয়েল ইফিসিয়েন্সি অনেক কম । কারণ , এটার মেইন একটা বৈশিষ্ঠ হল এর পাওয়ার । এটার পাওয়ার ৪ স্ট্রোক ইন্জিনের থেকে অনেক বেশী যেটার কারণে ২ স্ট্রোক ইন্জিন মাইলেজ দিয়ে তাকে অনেক কম ।
  4. ২ স্ট্রোক ইন্জিন সাধারণত অনেক বেশী পরিবেশ দূষিত করে থাকে । যে কারণে অনেক দেশে ২ স্ট্রোক ইন্জিন ইইজ করা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে ।
  5. ২ স্ট্রোক ইন্জিনে জ্বালানী ও গ্যাসের মিশ্রন অনেক বেশী ধোয়া সুষ্টি করে , এবং ২ স্ট্রোক ইন্জিনের ধোয়ার সাথে অনেক তেল ও বের হয়ে যায় ।
  6. প্রতিবার সিলিন্ডারে জ্বালানী মিশ্রণ প্রবেশ করার সময় এর একটা অংশ এক্সহাউন্ট পোর্ট দিয়ে লিক হয়ে বের হয়ে যায় ।
petrol4stroke

৪ স্টোক ইন্জিনের কার্যপ্রণালী

এখন ডিসিশন নেবার টাইম যে ২ স্ট্রোক ইন্জিন কেমন । অবশ্যই বলতে হবে যে পারফরমেন্সের দিক থেকে ২ স্ট্রোক ইন্জিন অনেক ভাল । এবং এর পাওয়ার ও অনেক বেশী । আর ২ স্ট্রোক ইন্জিনেন মেইনটেইন্স ও অনেক সহজ । কিন্তু , আমরা যদি সার্বিক দিক থেকে চিন্তা করি তাহলে বলতে হবে যে ৪ স্ট্রোক ইন্জিনও সবার জন্য পারফেক্ট । কারণ , ২ স্ট্রোক ইন্জিনের কম স্থায়ীত্বতা , পরিবেশের উপর প্রভাব , জ্বালানী খরচ প্রভৃতি দিকে তাকালে আমরা অবশ্যই ৪ স্ট্রোক ইন্জিকেই বেছে নেবে । তারপরও একটা কথা থেকে যায় । যেটা হল আপনার কাছে কোনটা ভাল । আপনার যদি পাওয়ারের দরকার পড়ে এবং আপনার পকেটে প্রচুর টাকা থাকে তাহলে আপনার জন্য ২ স্ট্রোক ইন্জিন অবশ্যই ভাল । যদিও এক্ষেত্রে পরিবেমের বিষয়টা মাথায় রাখা হচ্ছে না । আর সাধারণত যে কোন রাইডারের কাছে একটা ৪ স্ট্রোক ইন্জিনই ভাল বলে মনে হবার কথা ।

 

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক