৫ হাজার কিমি টেস্ট রাইড করা Yamaha M Slaz এর রিভিউ—টিম বাইকবিডি

উন্নত প্রকৌশল, সর্বোচ্চ মান এবং এটাই সবচেয়ে ভালো এই বিশেষ অনুভূতি জন্ম দিতে পারার কারণেই ইয়ামাহা যুগ যুগ ধরে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আমি যখন ইয়ামাহা এফজেড১৫০আই চালিয়ে পরীক্ষা করছিলাম, তখনই বুঝতে পারি ইয়ামাহা কতো ভালো বাইক তৈরি করতে পারে এবং কেনোইবা ইয়ামাহা তার অপর প্রতিযোগী হোন্ডা, এমনকি সুজুকিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাইকবিডি টেস্ট রাইড রিভিউতে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত বাইক Yamaha M Slaz । তাহলে দেখে নিন টিম বাইকবিডির ৫ হাজার কিমি টেস্ট রাইড করা Yamaha M Slaz এর রিভিউ

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের রিভিউইয়ামাহা এম স্ল্যাজ রিভিউ-আদ্যোপান্ত

২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডের বাজারে আসে ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়াতে মটোজিপি কিং ভ্যালেন্তিনো রোজি’র হাত ধরে ইয়ামাহা জ্যাবর নামে বাজারে আসে ওই বাইকটি।

আর ২০১৬’র জানুয়ারিতে ইআরএস গ্লোবাল লিমিটেড বাংলাদেশে ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ নিয়ে আসে। এ সময় প্রথমে তারা স্যাম্পল হিসেবে একটি ইউনিট বিমানে করে নিয়ে আসে এবং পরে এপ্রিলে প্রথম লট (২৪ ইউনিট) প্রি-বুক করা ক্রেতাদের সরবরাহ করা হয়।বাংলাদেশে ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ বাইকের ডিলার

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ রিভিউফিচারগুলো

নতুন ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ একটি প্রিমিয়াম ১৫০ সিসি স্ট্রিট বাইক। ঐতিহ্যবাহী ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ আর১৫ ভি২ এর ওপর ভিত্তি করেই এই বাইকটি তৈরি করা হয়েছে। তবে এম স্ল্যাজে আরো নতুন ও আধুনিক কিছু ফিচার যোগ করা হয়েছে।

  • সম্পূর্ণ এলইডি হেডলাইট : এলইডি লাইটগুলো অধিক উজ্জ্বল আলো দেয়। পাশাপাশি এগুলো  বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও অধিক টেকসই।
  • সম্পূর্ণ ডিজিটাল স্পিডমিটার : ড্যাসবোর্ড ডিসপ্লে ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল স্পিডোমিটার বাইকটিকে আরো স্পোর্টিং লুক দিয়েছে।
  • অ্যালুমিনিয়াম রিয়ার আর্ম : বাইকটির পিছনের অ্যালুমিনিয়াম আর্মটি শক্তপোক্ত ও হালকা হওয়ায় ড্রাইভিং স্ট্যাবিলিটি বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ডেল্টা বক্স ফ্রেম : বাইকটির ফ্রেম সলিড ডেল্টা বক্স হওয়ায় উচ্চ গতিতেও বাইকটি সুস্থির থাকে।
  • ১৫০ সিসি ওয়াটার কুলড ও ৬ স্পিড গিয়ার বক্স যুক্ত ইঞ্জিন : ১৫০ সিসি ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ পারফরমেন্স নিশ্চিত করে ও অধিক জ্বালানি সাশ্রয়ী।
  • প্রশস্থ টিউবলেস টায়ার : সামনে ১১০/১৭ ও পিছনে ১৩০/১৭ সাইজের টিউবলেস টায়ার রাস্তায় অনেব ভালো ট্র্যাকশন দেয় এবং বাঁকগুলোতেও ঘোরার সময় যথেষ্ট নিরাপত্তা প্রদান করে।
  • প্রশস্থ হ্যান্ডেলবার, সঙ্গে বড়ো সুইচ : আরামদায়ক বাইক চালনা নিশ্চিত করার জন্য প্রশস্থ হ্যান্ডেলবার যোগ করা হয়েছে। তাছাড়া ইঞ্জিন চালু/বন্ধ ও ইঞ্জিন স্টার্টার হিসেবে একটিমাত্র সুইচ ব্যবহার করা হয়েছে।
  • ইনভার্স ফ্রন্ট সাসপেনশন : খুবই ভালো সাসপেনশন, অধিক স্থিরতা ও কম ভাইব্রেশন নিশ্চিত করে।
  • ইগনিশন কী : জ্বালানি ট্যাঙ্কে নিরাপত্তার স্বার্থে চাবি দিয়ে খুলতে হয় এমন শাটার লাগানো আছে। এর ইগনিশন এমটি সিস্টেমের, যা সাধারণত ইয়ামাহার ৭০০-৯০০ সিসির বাইকগুলোতে দেখা যায়।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের স্পেসিফিকেশন

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের ইঞ্জিন ও ট্রান্সমিশন

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের ইঞ্জিনটি ১৫০ সিসি ওয়াটার কুলড, যাতে একটি ৬ স্পিড গিয়ার বক্স রয়েছে। এর ইঞ্জিনটি হুবহু আর১৫ ভি২ এর মতো। তবে পারফরমেন্স কিছুটা কমিয়ে ফেলা হয়েছে।

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের ইঞ্জিন ১৬.১ বিএইচপি ও ১৪.৩ নিউটন মিটার টর্ক (আর১৫ ভি২ তে ১৬.৮ ও ১৫ নিউটন মিটার) উৎপন্ন করতে পারে। আর এর ওজন মাত্র ১৩৫ কেজি হওয়ায় চরম যানজটের মাঝেও সহজে হ্যান্ডেল করা যায়।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের ফিচার

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের লুক ও স্টাইল

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ দেখতে মোটেও আর১৫ ভি২ কিংবা ফেজারের মতো নয়। এম স্ল্যাজ বাইকটি দেখতে ঠিক অভিজাত নয়, বরং বেশ অ্যাগ্রেসিভ। দেখলেই মনে হয়, বাইকটির ডিজাইনার অ্যাংরি বার্ড কার্টুন দেখে এম স্ল্যাজ ডিজাইন করেছে। এর সিটিং পজিশন কিছুটা বিদঘুটে, যা স্পোর্টিং বা কমিউটার বাইকের বদলে অনেকটা অফ-রোড বাইকের মতো দেখায়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এম স্ল্যাজের স্পিডোমিটারটি পছন্দ করি না, কারণ এর রঙটা বেখাপ্পা। তবে রাতের বেলায় অবশ্য সুন্দর দেখায়। বাইকটিতে রেডিয়েটর কুল্যান্ট ও ওয়্যারিং ওয়ার্নিং লাইট রয়েছে। তবে এতে কোনো গিয়ার ইন্ডিকেটর নেই।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের এমটি ইগনিশন

এম স্ল্যাজের সুইচগুলো খুবই উন্নতমানের। তবে এর এমটি ইগনিশন সুইচ দেখতে কিছুটা বিশ্রী হলেও, সবচেয়ে খারাপ এর হর্ন। হর্ন এর সুইচ অনেক গভীরে হওয়ায় অনেক সময় ক্লাচ ধরে হর্ন দেওয়াটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেক সময় হর্ন দিতে গিয়ে ইন্ডিকেটর লাইট জ্বালিয়ে ফেলা হয়।

অবশ্য হর্ন বেশ জোরালো। তবে বাইকটির ডাবল অ্যাক্সিলারেটর ক্যাবল যেভাবে রাখা হয়েছে সেটা আমার পছন্দ হয়নি। সাধারণত অ্যাক্সিলারেটর ক্যাবল নিচের দিক দিয়ে যায়, কিন্তু কখনো যদি তা উপরের দিকে থাকে, তখন রিয়ার ভিউ মিররের উপর হেলমেট রাখতে গেলে ঝামেলা হয়।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের ইনভার্টেড শক অ্যাবজরভার

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের ব্রেক ও সাসপেনশন

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের টায়ার ও সাসপেনশন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তবে এগুলো থেকে সর্বোচ্চ পারফরমেন্স পেতে হলে আগে ২০০০-২৫০০ কিমি চালাতে হবে। টায়ারগুলো কিছুটা নরম ধাঁচের হলেও, এর গ্রিপ এক কথায় অসাধারণ। সাতছড়িতে আমি বৃষ্টির মধ্যে ৯০ কিমি/ঘণ্টা বেগে বাইকটি চালিয়েছিলাম এবং ফুটপেগ রাস্তার সঙ্গে মিশে ছিলো।

এম স্ল্যাজের হুইলবেজ ছোটো। ফলে টেকনিকালি এর মানে দাঁড়ায়, হাই স্পিড কর্নারিংয়ের জন্য এটা উপযুক্ত নয়। তবে আমার কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও তা মনে হয়নি। আমার মতে বাইকটিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়া অসম্ভব, বাইরে নিলেও তা ঠিকই মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের ডিস্ক ব্রেক

যদিও বাইকটি অনেক স্মুথ, তারপরও অল্প কিছু ভাইব্রেশন অবশ্য আছে। তবে সেটা শুধু নিম্ন আরপিএমেই অনুভূত হয়েছে এবং সেটা সব বাইকেই হয়, আর তা স্বাভাবিক। উচ্চ গতিতে চলার সময় এম স্ল্যাজে কোনো ভাইব্রেশন হয় না। আর ব্রেকিং ও কর্নারিং করার সময় আপনার আত্মবিশ্বাসের কোনো কমতি পড়বে না।

উঁচু-নিচু রাস্তায় এম স্ল্যাজ এর সাসপেনশন খুব ভালো কাজ করে। তবে ভাঙা রাস্তায় সামনের সাসপেনশন একটু সমস্যা করে। আর পিছনের সাসপেনশন প্রথমদিকে কিছুটা শক্ত থাকলেও কিছুদিন চালালে কোমল হয়ে যায়।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের স্পিডোমিটার

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ-এ ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতা

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ ৫ হাজার কিমি চালানোটা সত্যিই খুব মজার ছিলো। বেশ কিছু ভালো অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। টেস্ট রাইডের পর বাইকটি সম্পর্কে যা জানতে পেরেছি তা এবার আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। এটা থেকে আপনারা বাইকটি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাবেন আশা করি।

শুরুতেই বলছি, এম স্ল্যাজের তাৎক্ষণিক অ্যাক্সিলারেশন নেই, প্রচলিত কথায় বলতে গেলে এটার রেডি পিকাপ নেই। কিন্তু যখনই আপনি গিয়ার বাড়াতে থাকবেন, মজাটাও তার সঙ্গেই বাড়তে থাকবে। এসময় চেসিস ও টায়ার রাস্তা আঁকড়ে ধরবে, মনে হবে যেনো রাস্তার সঙ্গে আঠা দিয়ে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বাইকটিকে। আর তাছাড়া ব্রেক এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে টায়ারকে যেভাবেই হোক রাস্তা আকড়ে ধরে থেমে যেতে হবে, অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছুকে আঘাত করার আগেই।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ প্রিমিয়াম বাইক

রিয়ার ভিউ মিররগুলো যথেষ্ট ভালো ও প্রশস্থ, যার ফলে হাইওয়ে কিংবা শহরের রাস্তায় সহজেই পিছনে চোখ রাখা যায়। এর হ্যান্ডেলবারও খুব শক্তপোক্ত এবং আমার চালানো ৫ হাজার কিমির মধ্যে ২ হাজার কিমি হাইওয়েতে হলেও আমি কিন্তু কাঁধ বা কনুইয়ে কোনো ব্যাক পেইন অনুভব করিনি। তাছাড়া আমি প্রায় ১৪ ঘণ্টা একটানা বৃষ্টিতে ভিজে বাইকটি চালিয়েছি। এসময় সিটটি কিছুটা শক্ত হওয়ায় সামান্য ব্যথা অনুভব করেছি।

এম স্ল্যাজের সিটিং পজিশন কিছুটা বিদঘুটে। সাধারণত যেসব বাইকার কমিউটার বাইক চালায় তাদের এটায় বসতে আরাম লাগবে না। এটাতে সিটের ওপর সোজা হয়ে বসলেও, পা রাখতে হয় কিছুটা পিছন দিকে। ফলে আপনি একধরনের স্পোর্টস বাইকের মজা পাবেন।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের টেইল লাইট

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের রিভিউ নিয়ে আরো কিছু কথা

এম স্ল্যাজ সত্যিই চমৎকার একটি বাইক। এটা চালানোর সময় মনে হবে যেনো আপনি অন্য গ্রহে আছেন, যেখানো কোনো সমস্যা নেই এবং সমস্যা হলে বাইকটি তো আছেই আপনাকে সাহায্য করার জন্য!

তবে লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য এর হেডলাইট ততোটা শক্তিশালী নয় এবং জ্বলানি ট্যাঙ্কও একটু ছোটো হয়ে গেছে। তাছাড়া বড়োসড়ো দুই জন বাইকটিতে বসলে দীর্ঘ পথ চলা সত্যিই একটু কষ্টকর হয়ে পড়ে।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের সিটিং পজিশন

উভয় সিটই কিছুটা শক্ত, সত্যি কথা বলতে কি, দীর্ঘ যাত্রার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। আর পিলিয়নের সিটা অনেক বেশিই খারাপ। একে তো পিলৈয়নের সিটে আরাম পাবেন না, তার ওপর আবার আর১৫ ভি২ এর মতো এর সিটের মাঝে কোনো ফাঁক নেই। এর ফলে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে বসতে হয় এবং হঠাৎ কড়া ব্রেক করলে সমস্যা হয়।

তবে এটা সত্য যে, বাইকটার চেসিস, সাসপেনশন, ব্রেক ও টায়ার অসাধারণ। আর এর ইঞ্জিন আর১৫ ভি২’র হলেও, তার দক্ষতা কিছুটা কমানো হয়েছে (ডিটিউন)।

অন্যদিকে হন্ট রাইডারজ-এর স্টান্ট রাইডার মিঠুন মৃধার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টান্ট করার জন্য এম স্ল্যাজ খুবই ভালো একটি বাইক। এটার নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় না থাকায়, তা দিয়ে চমৎকার সব স্টপি করা যায়।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের টপ স্পিড

চূড়ান্ত বিচারে ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ

ইয়ামাহ এম স্ল্যাজ সত্যিই খুব অসাধারণ ও কার্যকরী একটি বাইক। এটা দেখলেই মনে হয়, রেস খেলার জন্য তৈরি হয়ে আছে। বাইকটির রেডি পিকাপ না থাকলেও, রাস্তায় চালানোর সময় এর নিয়ন্ত্রণ ও স্থিরতা অসাধারণ। এখন পর্যন্ত এমন আর কোনো বাইক এই সেগমেন্টে আমি দেখিনি (আর১৫ ভি২ ছাড়া এবং সিবিআর ও সিবিআর স্ট্রিটফায়ার আমরা ৫ হাজার কিমি টেস্ট করে দেখছি)।

যদিও বাইকটি খুব বেশি আরামদায়ক নয় এবং বৃষ্টির দিন আপনি এটাতে ৪০ কিমি/ঘণ্টার ওপর গতি তুলতে চাইবেন না। কারণ তা করতে গেলেই বৃষ্টির সব পানি ছিটে এসে আপনার শরীরে পড়বে। তবে আমি বাইকটির প্রকৌশলগত নিখুঁত উন্নয়নকে স্যালুট জানাই। ইয়ামাহা কেনো ইয়ামাহা এবং গত ৫ বছর ধরে উচ্চ সিসির বাইকের মধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা বাইক কোম্পানি তা এই বাইকটি দেখলেই বোঝা যায়। তবে আপনি যদি প্রাত্যহিক যাতায়াতের জন্য হিসাব করেন তাহলে এটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের সঙ্গে ওয়াসিফ আনোয়ার

ভালো দিক :

  • অসাধারণ ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স।
  • চমৎকার ব্রেকিং ও চেসিস।
  • ভালো মাইলেজ।
  • মাঝারি ও উচ্চ আরপিএমে ভালো অ্যাক্সিলারেশন।
  • এই ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ গুণগত মানের নিশ্চয়তা।
  • উঁচু-নিচু রাস্তার জন্য ভালো সাসপেনশন।
  • অধিকাংশ খুচরা যন্ত্রাংশই আর১৫ ভি২ এর সঙ্গে মিলে যায়, ফলে সহজলভ্য।

খারাপ দিক:

  • হেডলাইট অতো বেশি শক্তিশালী নয়।
  • পিছনে কোনো মাডগার্ড নেই। ফলে বৃষ্টির দিনে ৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ছুটলেই কাপড় নোংরা হয়ে যায়।
  • ইঞ্জিন ও রেডিয়েটরের জন্য ফ্রন্ট গার্ড নেই, যেটা ধুলা ও কাদা প্রতিরোধ করবে।
  • পিলিয়নের সিট মোটেও আরামদায়ক নয়।
  • খানাখন্দে পূর্ণ সড়কের জন্য সাসপেনশন উপযুক্ত নয়।
  • এমটি ইগনিশন সুইচ মাঝেমধ্যে ঝামেলা করে এবং পানি ঢুকলে ইগনিশনে সমস্যা করে।
  • খুচরা যন্ত্রাংশের দাম খুব চড়া।

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের পিছনের সাসপেনশন

ইয়ামাহা এম স্ল্যাজের পারফরমেন্স ফিগার

টেস্ট রাইডের সময় আমরা সর্বোচ্চ গতি পেয়েছি ১২৮ কিমি/ঘণ্টা (তবে আরো বেশি তোলা সম্ভব)।

ঢাকা শহরে মাইলেজ:৩৮-৪২ কিমি/লিটার

হাইওয়েতে মাইলেজ:৪২-৪৫ কিমি/লিটার

বাংলাদেশে ইয়ামাহা এম স্ল্যাজ এর দাম দেখতে ক্লিক করুনবাংলাদেশে এক্সক্লুসিভ মোটরসাইকেলইয়ামাহা এম স্ল্যাজের স্পেসিফিকেশন

ডিসপ্লেসমেন্ট ১৪৯ সিসি
সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৬.১ বিএইচপি @ ৮৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ১৪.৩ নিউটন মিটার @ ৭৫০০ আরপিএম
ইঞ্জিন ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, এসওএইচসি, ৪-ভাল্ব
জ্বালানি ব্যবস্থা ফুয়েল ইঞ্জেকশন
ইগনিশন টিসিআই
লুব্রিকেশন ওয়েট
কম্প্রেশন রেশিও ১০.৪:১
বোর ৫৭ মিমি
স্ট্রোক ৫৮.৭ মিমি
গিয়ারবক্স ৬ স্পিড
ক্লাচ ওয়েট মাল্টি প্লেট
সামনের ব্রেক ২৬৭ মিমি হাইড্রলিক সিঙ্গেল ডিস্ক
পিছনের ব্রেক ২২০ মিমি হাইড্রলিক সিঙ্গেল ডিস্ক
সামনের সাসপেনশন ৩৭ মিমি আপসাইড ডাউন টেলিস্কোপিক ফর্ক
পিছনের সাসপেনশন সুইং আর্ম (শক অ্যাবজরভার)
সামনের টায়ার ১১০/৭০-১৭ এম/সি ৫৪এস
পিছনের টায়ার ১৩০/৭০-১৭ এম/সি ৬২এস
সামনের চাকা ১৭ এম/সি-এমটি ২.৭৫
পিছনের চাকা ১৭ এম/সি-এমটি ৩.৫০
হুইল সাইজ ১৭ ইঞ্চি
হুইল টাইপ ১০ স্পোক অ্যালয় হুইল
ব্যাটারি ৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার
ভোল্ট ১২ ভোল্ট
দৈর্ঘ্য ১৯৫৫ মিমি
প্রস্থ ৭৯৫ মিমি
উচ্চতা ১০৬৫ মিমি
সিটের উচ্চতা ৮০৫ মিমি
ভূমি থেকে উচ্চতা ১৬৪ মিমি
হুইলবেজ ১৩৫০ মিমি
কার্ব ওজন ১৩৫ কেজি
জ্বালনি ধারণ ক্ষমতা ১০.২ লিটার
ইঞ্জিন অয়েল ধারণ ক্ষমতা ০.৯৫ লিটার
টার্নিং সার্কেল ২৪০০ মিমি

শোরুম:

ইআরএস গ্লোবাল

হাউজ#৩০০ বি, সড়ক# ১৪এ, ব্লক# এ

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা।

হটলাইন: ০১৯৩০ ৭৭৭ ১১১, ০১৭৮৯ ৮৮ ১১ ২২

আর্টিকেলটি পূর্বে ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয়েছিলো।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Sign up to our newsletter!