এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন বনাম অয়েল কুল্ড ইঞ্জিন

এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন ও অয়েল কুল্ড ইঞ্জিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতা চলছে । বাতাস কি সেরা  ঠাণ্ডাকারক নাকি তেল ? এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন দ্রুত ঠাণ্ডা করে যেখানে অয়েল কুল্ড ইঞ্জিন ভাল কাজ করে। এখন দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও সীমাহীন যুক্তির পর সেরা কোনটি । কিন্তু এটা সম্পূর্ণভাবে উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল যে সিদ্ধান্ত নেয় বাইকের মডেল কেমন হবে বা মোটরসাইকেলে কি ধরনের ইঞ্জিন  ব্যবহার করা হবে ।

air cool vs oil cool motorcycle engine

আমাদের মত ভক্তদের ক্ষেত্রে এ প্রশ্নের উত্তর অধিকাংশভাবে নির্ভর করে আমাদের পছন্দের বাইকে উৎপাদক কি ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করেছে তার উপর । এয়ার  কুল্ড ইঞ্জিন হল একটি সাধারন ইঞ্জিন যেটা বাইকের গতিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যমান বাতাসের সাহায্যে ইঞ্জিন ঠাণ্ডা রাখে । অন্যদিকে অয়েল কুল্ড ইঞ্জিনে তেল ব্যবস্থাপনার একটি বিশেষ পদ্ধতির সাহায্যে তেল ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ইঞ্জিন ঠাণ্ডা  রাখা হয় ।

বিতর্কের স্বার্থে আমরা এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন ও অয়েল কুল্ড ইঞ্জিনের মধ্যে সম্ভাব্য পার্থক্যগুলো আলোচনা করবো ।

একটি বাইক যখন চলে তখন এটা ইঞ্জিন শ্যাফটকে  চালানোর জন্য হর্স পাওয়ার উৎপন্ন করে এবং এর সাহায্যে বাইকের চেইন ঘোরে । যখন কোন যন্ত্র চলে তখন এটা একই সাথে শব্দ ও তাপ উৎপন্ন করে যেটা বাইকে ব্যবহার করা অন্যান্য অংশগুলোর ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয় । বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে আমরা অধিকাংশই ভারতীয় বাইক দেখতে পায় যেগুলো ১০০-১৫০ সিসির মধ্যে । এগুলোর প্রধান উপাদান হল এদের ইঞ্জিন এবং এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত ।

 air cool vs oil cool motorcycle engine

 এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন

এয়ার কুল্ড ইঞ্জিনচালিত বাইকগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয় যেন চালানোর সময় উৎপন্ন তাপও সহজে বায়ুতে চলে যেতে পারে । এগুলোতে ঠাণ্ডা করার জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেই  বা তাপ শোষণ করার জন্য কোন বিশেষ কোন বস্তুও নেই যেটা তাপ শোষক হিসেবে কাজ করে সকল তাপ শোষণ করে নেবে । এয়ার কুল্ড ইঞ্জিনে কিছু পাখা থাকে যেগুলো তীব্র ঘূর্ণন সৃষ্টির মাধ্যমে প্রচুর বাতাস উৎপন্নও করে । ফলে প্রচুর বাতাসের মাধ্যমে তাপ এমনভাবে বের করে দেয় যেন বাইক খুব দ্রুত চলছে । এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন তৈরী করা খুবই সহজ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণও খুবই সহজ । এ ধরনের ইঞ্জিন বেশী ব্যবহার করা হয় কম ধারণক্ষমতার বাইকগুলোতে যেখানে ভাল পারফর্মেন্সের চেয়ে দামের উপরই বেশী গুরুত্ব দেয়া হয় ।

 এ ধরনের ইঞ্জিনের সমস্যাঃ

এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন তৈরী করা হয়েছে সহজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য । যদিও এগুলো দীর্ঘ ভ্রমণের উপযুক্ত নয় এবং দীর্ঘ ভ্রমণে উচ্চ আর.পি.এম এ চালালে সহজেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় । ইঞ্জিন যতই গরম হতে থাকে ধাতুগুলো ততই দুর্বল হতে থাকে ফলে বাইকের স্থায়িত্ব কমে যায় । এ ধরনের পদ্ধতি খুবই সনাতন পদ্ধতি এবং ইঞ্জিন যদি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ আর.পি.এম এ চলতে থাকে তবে এটি সহজেই গরম হয়ে যায় । যদি ইঞ্জিন গরম হয়ে যায় তাহলে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং গরম ইঞ্জিন চালানোর ফলাফল হিসেবে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে । কিছু ভাল এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন তুলে ধরা হলঃ

১. কাওয়াসাকি এইচ১ ১৯৬৯ ৫০০ ৪৯৮ সিসি এবং  ৫৩ বিএইচপি

২.সুজুকি জি.এস ১০০০ ফ্যামিলি

অন্যদিকে রয়েছে অয়েল কুল্ড ইঞ্জিন । এটি রাস্তায় ব্যাপক লোড নিতে পারে । এর সাহায্যে দীর্ঘ ভ্রমনসমূহ সহজেই সম্পন্ন করা যায় । এয়ার কুল্ড ইঞ্জিনে ঠাণ্ডাকারক বস্তু হিসেবে তেল ব্যবহার করা হয় যা সাধারণত রেডিয়েটর এর মাধ্যমে তাপকে ছড়িয়ে দেয় ফলে ইঞ্জিন ঠাণ্ডা থাকে । তেল দ্বারা ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা মূলত উচ্চ ক্ষমতার ডিজেল ইঞ্জিন ও উচ্চ ক্ষমতার স্পোর্টস বাইকে ব্যবহার করা হয় ।

 air cool vs oil cool motorcycle engine

 অয়েল কুল্ড ইঞ্জিনঃ

অয়েল কুল্ড ইঞ্জিন হল রাস্তার রাজা । এগুলো ইঞ্জিনের পিস্টনের মাধ্যমে প্রচুর চাপ ও তাপ উৎপন্ন করে ফলে ইঞ্জিনের সম্ভাব্য সর্বাধিক শক্তি উৎপন্ন হয় । তরল দ্বারা ঠাণ্ডা হওয়া ইঞ্জিনগুলো উৎপন্ন তাপ সামনের দিকে স্থানান্তর করে ফলে দীর্ঘ ভ্রমণেও চালকের কোন সমস্যা হয় না । কিন্তু মূল বিষয় যা আমরা খেয়াল করি না তা হল এটি একই সাথে বাতাস ও তেল ব্যবহার করে ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে । তাই এ ধরনের ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থাকে বলা হয় হাইব্রিড কুলিং বা এয়ার অয়েল কুলিং সিস্টেম । যেহেতু তেল গরম হওয়ার জন্য অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন তাই এটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইঞ্জিন ঠাণ্ডা রাখে । তাছাড়া তেল ইতোমধ্যে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে । ক্যাস্ট্রোল ইভো বা অন্যান্য তেল যেগুলো একই সাথে তেল ও লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায় ।

এ ধরনের ইঞ্জিনের সমস্যাঃ

সর্বপ্রথম অয়েল কুল্ড ইঞ্জিন খুবই ব্যয়বহুল ও এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই বেশী । যদিও এটা অনেকের কাছে কোন সমস্যা নয় । আরামদায়ক বা মসৃণ  ভ্রমণ বাইকের পারফর্মেন্স কমিয়ে দিতে পারে । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অয়েল কুল্ড ইঞ্জিন খুবই বিরল ও অবাস্তবিক ।

তাই এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলা যায়,আলো ও আধার যে রকম আলাদা থিক তেমনি ইঞ্জিন ঠাণ্ডা করার ধরন প্রত্যেক ইঞ্জিনেই আলাদা । মানে এদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হল এদের ধরনে কিন্তু কাজ একই।

এখন আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন তাহলে আমি এ দুটি ইঞ্জিন হতে এমন একটি বেছে নেব যেটা আমাকে আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী করবে এবং এটা যে কারণে কেনা তা যথাযথভাবে করবে অর্থাৎ ইঞ্জিন ঠাণ্ডা করবে । কিন্তু সবকিছুর পরও এটা একটা বিতর্ক এবং এর পরবর্তী অংশ বাইক চালক ও বাইকের ভক্তদের জন্যই উন্মুক্ত থাকুক………………

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Sign up to our newsletter!