Dayang AD80 Deluxe-এর মালিকানা রিভিউ

রানার বাইকারস ক্লাব-এর প্রশাসক জনাব মেহেদী হাসানের উৎসাহেই আমি আমার Dayang AD80 Deluxe-এর মালিকানা রিভিউ লেখা শুরু করি। এখানে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোই তুলে ধরেছি। রানার কোম্পানি সম্পর্কে আমার মতামত রানার বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসা সফল মোটরসাইকেল কোম্পানি, যারা লক্ষ লক্ষ সাধারণ বাইকারের মন জয় করেছে। আর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এখানে মানুষকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় নিজেদের …

Review Overview

User Rating: 1.25 ( 1 votes)
0

রানার বাইকারস ক্লাব-এর প্রশাসক জনাব মেহেদী হাসানের উৎসাহেই আমি আমার Dayang AD80 Deluxe-এর মালিকানা রিভিউ লেখা শুরু করি। এখানে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোই তুলে ধরেছি।ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স এর মালিকানা রিভিউ

রানার কোম্পানি সম্পর্কে আমার মতামত

রানার বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসা সফল মোটরসাইকেল কোম্পানি, যারা লক্ষ লক্ষ সাধারণ বাইকারের মন জয় করেছে। আর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এখানে মানুষকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য।

এই ক্ষেত্রেই একটি বড়ো ভূমিকা রয়েছে রানার অটোমোবাইলস এর। পরিশ্রমী মানুষের কাছে সময়ের মূল্য অনেক। তাই রানার তাদের স্বল্পমূল্যের বাইক দিয়ে মানুষের সেই মূল্যবান সময় বাঁচানোর প্রচেষ্টাই করছে। তাছাড়া রানার অটোমোবাইলস এর বেশ কিছু নান্দনিক ডিজাইনের বাইকও রয়েছে, যেগুলো দেশের তরুণ ও পেশাজীবীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

ক্রয়ের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০১৬
শোরুম : তেজগাঁও
এ পর্যন্ত চলেছে : ৪৩৭৫ কিমি (২২ অক্টোবর ২০১৬)

বাজারে ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এর অবস্থান

বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে ৮০ সিসি ক্যাটাগরিতে রানার ডিলাক্স অন্যতম সফল বাইক। এই শ্রেণির বাইকাররা যে যে সুবিধা প্রত্যাশা করে, এই বাইকে তার সবই রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে ৮০ সিসি ক্যাটাগরিতে রানার ডিলাক্স সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এবং সারা দেশের রাস্তায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এটিকে।

সেজন্যই দিনকে দিন রানার অটোমোবাইলস-এর কদর বেড়েই চলেছে। তাহলে এবার দেখা দরকার ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এ কী কী ফিচার রয়েছে, যা আমাকে আকর্ষণ করে।ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স এর মাইলেজ

ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এর গঠন

বাইকটির আয়তন হলো (দৈর্ঘ্য x প্রস্থ x উচ্চতা)=১৮৭৫ x ৭৬০ x ১০১০ মিমি। এতে তিনজন বসার মতো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। তাছাড়া এর অ্যালয় হুইলগুলোতে ড্রাম ব্রেক থাকলেও, কন্ট্রোল করার জন্য তা পর্যাপ্ত। বাইকটির ওজন ৮৬ কেজি, যা বাইকটিকে সর্বোচ্চ গতিতেও রাস্তায় আঁকড়ে ধরে রাখে।

এই কয়দিনে আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে বাইকটি সবমিলিয়ে ভালোই। অভিযোগ করার মতো কিছু এখনো পাইনি। বাইকটি শহর কিংবা হাইওয়ের জন্য খুবই উপযুক্ত।

ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এর ইঞ্জিন পারফরমেন্স

ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্সের ইঞ্জিনটি ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, এয়ার কুলড। এর ডিসপ্লেসমেন্ট ৮৫ সিসি। এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৪.৮ কিলোওয়াট @ ৭৫০০ আরপিএম এবং টর্ক ৫.৭ @ ৬০০০ আরপিএম। বাইকটিতে আমি ঢাকা—কুমিল্লা মহাসড়কে সর্বোচ্চ ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে পেরেছি।

বাইকটি কিক ও ইলেকট্রিক দুই ভাবেই স্টার্ট করা যায়। এর ইগনিশন সিডিআই টাইপের। ক্লাচ ওয়েট মাল্টি-প্লেট টাইপের। বাইকটিতে ৪ স্পিড গিয়ারবক্স রয়েছে।ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স এর ইঞ্জিন স্পেসিফিকেশন

ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এর মাইলেজ

মাইলেজের দিক থেকে বাইকটি অসাধারণ। আমার বাইকের ব্রেক ইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর আমি জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল ব্যবহার শুরু করি। আর ৮০ সিসি বাইক হিসেবে এতে আমি ঢাকাতে ৬০ কিমি/লিটার মাইলেজ পাচ্ছি। হাইওয়েতে মাইলেজ প্রায় ৭১ কিমি/লিটার।

আমার রানার নিয়ে লম্বা ভ্রমণ :

কুমিল্লা

লক্ষীপুর

নোয়াখালী

মাওয়া

সোনারগাঁও
সাভার
শফিপুর

ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এর মূল্য

বাইকটির বর্তমান মূল্য ৮৩ হাজার টাকা। আপনি যদি নিয়ন্ত্রিত গতিসীমার মাঝে ভালো মানের বাইক কিনতে চান, তবে আমার পরামর্শ হবে চোখ বন্ধ করে রানার ডিলাক্সকে তালিকার উপরে স্থান দিতে পারেন।

ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এর নেতিবাচক দিক

  • যদিও আমার বাইকের বয়স মাত্র ৬ মাস, এর মধ্যেই ব্যাটারিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে নতুন করে চার্জ দেওয়ার পর সব ঠিক আছে।
  • ব্রেক ইন পিরিয়ডে বাইকটি  কিছুটা ভাইব্রেট করে। তবে ১০০০ কিমি পার করে সার্ভিসিং করানোর পর তা হচ্ছে না।
  • টায়ারগুলো চিকন হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে ব্রেক করলে তা স্কিড করে।
  • কোনো ফুয়েল ইন্ডিকেটর নেই।

বাংলাদেশে ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স এর মূল্য

ডায়াং রানার এডি৮০ ডিলাক্স-এর : ব্যক্তিগত বিবেচনা

সত্য কথা বলতে কী, বাইকটির সার্বিক পারফরমেন্স বেশ ভালো। এটা আপনাকে রাস্তায় চলতে বেশ আনন্দ দিবে। তাছাড়া আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক দিক বিবেচনায় পথ চলতে রানার ডিলাক্স একেবারে যথোপযুক্ত একটি বাইক।

মানে রাখবেন, রাস্তায় নিজে সাবধানে থাকবেন এবং জীবন ও বাইকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। আপনার বাইকিং শুভ হোক।

কৃতজ্ঞতা : এম মাহবুব আলম

About মাহামুদ সেতু

হ্যালো রাইডারস, আমি মাহামুদ সেতু। থাকি রাজশাহীতে, পড়াশোনাও রাবি’তে। যদিও আমার নিজস্ব কোনো বাইক নেই, তারপরও আমি কিন্তু বাইকের ব্যাপারে পাগল। এক্ষেত্রে আমাকে ‘চন্দ্রাহত’ও বলতে পারেন, মানে ওই দূর থেকে চাঁদের (আমার ক্ষেত্রে বাইক) প্রেমে পাগল হয় যারা, তারা আর কি। যাই হোক, মূল কথায় আসি। গত দুই বছর ধরেই আমি বাইকবিডি.কমের নিয়মিত পাঠক। এখান থেকেই আমি বাইক সম্পর্কে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। ব্লগের সবগুলো লেখাই একাধিকবার পড়েছি। এখানেই জানতে পারলাম বাইক মোডিফিকেশন সম্পর্কে। শেষমেশ এখন তো সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি, বাইক নিয়েই কাজ করবো। মানে, বাইক মোডিফিকেশনটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছি। জানি কাজটা কঠিন, তারপরও আমি আশাবদী। আমার জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য বাইক মোডিফিকেশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দেশে এতো এতো সুন্দর, দ্রুতগতির ও ভালো বাইক (বাংলাদেশে আইনত যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫০সিসি) আছে, অথচ আমার পছন্দ হোন্ডা সিজি ১২৫। আমার খুবই ইচ্ছা এই ক্ল্যাসিক বাইকটি কিনে নিজের হাতে মোডিফিকেশন করার।