হেলমেট- একটি জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম

শহরের মধ্যে কিংবা সারা দেশে মোটরসাইকেলে চড়ার সময় হেলমেট (Helmet) ব্যবহার করা একটি সাধারণ ব্যাপার । বাইকে চড়ার সময় হেলমেট হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম । বড় থেকে ছোট যে কোন আকারেরই হেলমেট পাওয়া যায় । আপনি হেলমেট কেনার সময় খেয়াল রাখবেন এটা যেন আরামদায়ক হয় । শুধুমাত্র সৌন্দর্য দেখে হেলমেট কিনবেন না । হেলমেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো খতিয়ে দেখুন । এটা আপনার মাথায় পড়ুন ,এটা কি খুব টাইট ? এটা যেন খুবই টাইট কিংবা খুবই ঢিলাঢালা না হয়। একটা বিষয় মনে রাখবেন এটা দীর্ঘ ভ্রমণে দীর্ঘ সময় আপনার মাথায় থাকবে ।

helmet in bangladesh

আমি কি ধরনের হেলমেট কিনব ?

সম্পূর্ণ মুখ আবৃত করে রাখে এ ধরনের হেলমেট সবসময় আপনাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে । জনপ্রিয় বাইক চালকেরা সবসময় এ ধরনের হেলমেট নিতে বলে কারণ এটা আপনার সম্পূর্ণ মাথা ও মুখ রক্ষা করবে । আপনি যদি শুধুমাত্র অফিসগামী চালক হন তাহলে অর্ধেক মুখ আবৃত করে এমন হেলমেট কিনতে পারেন । এটা গরমে আপনাকে সবচেয়ে বেশী আরাম দেবে । কিন্তু এটা আপনাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে না ।

হেলমেট পড়া সম্পর্কে কিছু কথাঃ

হেলমেট পড়ার পর নিরাপত্তার জন্য সবসময় ফিতা শক্ত করে লাগাবেন । যদি এটা আপনার নিরাপত্তা দিতে না পারে তবে  এটা বাড়িতে রেখে আসায়ই ভালো।

helmet in bangladesh

হেলমেটের মানঃ 

বাংলাদেশে এমন কোন কর্তৃপক্ষ নেই যেটা মোটরসাইকেলের হেলমেটের মান নির্ধারণ করে দেবে। অধিকাংশ হেলমেটই আসে ভারত,চায়না ও থাইল্যান্ড থেকে । কিন্তু আমেরিকান মান অনুসারে পূর্ণবয়স্ক সকল মোটরসাইকেল হেলমেটে  “DOT” (Department of Transport) এর স্টিকারসহ বিক্রয় করা বাধ্যতামূলক । এর মানে এটা নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় মান অর্জন করেছে।

আপনি দারুন দামের এবং স্টাইলের হেলমেট পাবেন । কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখবেন যখনই আপনি মোটরসাইকেলের উপর বসবেন হেলমেটটি শক্ত করে বাঁধবেন।

একটি ভালো হেলমেট কাদামাটি থেকে শক্ত রাস্তা সবখানেই আপনাকে বাতাসের কোলাহল,রাস্তার বালি এবং বাইকের সামনের হুইল থেকে নির্গত পাথর হতে মুক্ত রাখবে এবং আপনাকে বাইকে চড়ার আনন্দ দেবে।

সবসময় মুখ আবৃত করার অংশ সাদা গ্লাস এর  কিনুন । মনে রাখবেন বিভিন্ন রঙের গ্লাস (মুখ আবৃত কারক) কিনলে আপনি রাতে পরিস্কার দেখতে পারবেন না ।একটি পরিস্কার গ্লাস এর মাধ্যমে আপনি তীব্র সূর্যালোকের মধ্যেও ভালভাবে দেখতে পারবেন । আপনার রঙিন গ্লাস কেনার দরকার নেই  কারণ বাইক চালানোর সময় আপনি সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন ।

বর্তমানে এমন অনেক ধাতু পাওয়া যায় যেগুলো ভারী প্লাস্টিকের চেয়েও হালকা । হেলমেট প্রস্তুতকারকেরা কম দামে প্রচুর হেলমেট তৈরী করছে যেগুলো একই সাথে সর্বাধিক নিরাপত্তাও দেবে। তাই অসংখ্য ডিজাইন ও রঙ হতে হালকা ওজনের হেলমেট পছন্দ করুন ।

নিজে নিজে ভাবুন কিভাবে একটি ভাঙ্গা ডিমের খোলস ডিমটিকে সর্বাধিক নিরাপত্তা দিবে । কিছু মোটরসাইকেল চালক তাদের ভাঙ্গা হেলমেট ব্যবহার করে। তাদের জন্য আমার একটাই উপদেশ এটা ফেলে দিন এবং নতুন একটি কিনুন ।একটি ভাঙ্গা হেলমেট আপনার জন্য শুধুই ঝামেলার ।

হেলমেটের যত্ন নেওয়ার পরামর্শঃ

প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর এটি পরিষ্কার করুন । শুধুমাত্র গ্লাস নন-ডিটারজেন্ট কোন কিছু দ্বারা পরিষ্কার করুন এবং কোমল কাপড় দ্বারা মুছে ফেলুন যাতে পানি শুকিয়ে যায় ।

আপনি বাইক চালানোর পূর্বে হেলমেটের ভিতরের সকল বালি পরিস্কার করুন। প্রত্যেক সপ্তায় হেলমেটটিকে সূর্যের নিচে রাখুন ।এটা আপনাকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখবে এবং আপনা্র মাথার ত্বক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে রক্ষা করবে ।

 এই লেখার মূলভাব হল আপনার হেলমেটের ব্যাপারে সতর্ক হোন যতটা আপনি আপনার নিরাপত্তা নিয়ে রাস্তায় সতর্ক থাকেন । মনে রাখবেন স্মার্ট বাইকার সে যে বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যাবহার করে।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক