একটি মোটরসাইকেল কার্বুরেটর কিভাবে কাজ করে ?

মোটরসাইকেলে কার্বুরেটর (Motorcycle Carburetor) হল সেই যন্ত্র যা একটি অন্তঃদহ  ইঞ্জিনে (যে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরে দহন ঘটে) বায়ু ও জ্বালানীর মিস্রন ঘটায় । কার্বুরেটর বায়ু চাপের পার্থক্যের উপর নির্ভর করে এর প্রধান কাজ অর্থাৎ বায়ু ও জ্বালানীর মিশ্রণ ঘটায় । মোটরসাইকেলের কার্বুরেটরও এর ব্যতিক্রম নয় । ইঞ্জিনের পিস্টন উপরে উঠে যাওয়ার কারনে সিলিন্ডারের অভ্যন্তরে ফাঁকা স্থানের সৃষ্টি হয় যা সিলিন্ডারের অভ্যন্তরে নিন্মচাপ যুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে। কিন্তু বাইরের তীব্রচাপ বাইরের বায়ুকে ভিতরে প্রবেশ করতে প্রচুর চাপ প্রয়োগ করে ফলে বাইরের সতেজ বায়ু গ্যাস চেম্বারে প্রবেশ করে এবং গ্যাসের সাথে মিস্রিত হয় ।

How Does A Motorcycle Carburetor Work

লুইজি ডি ক্রিস্টফারিস নামক একজন ইতালীয়  সর্বপ্রথম ১৮৭৬ সালে  কার্বুরেটর আবিস্কার করেন । এনরিক বার্নাডি ১৮৮২ সালে পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে কার্বুরেটরের অনেক উন্নতি সাধন করেন । তিনি এটি  করেছিলেন তার “মটরিস পিয়া” এর জন্য, যেটা ছিল প্রথম পেট্রোল ইঞ্জিনের (১ সিলিন্ডার ১২২৫ সিসি) প্রোটোটাইপ (সাধারন গঠন), এটা তিনি তৈরী করেন ১৮৮২ সালের ৫ অগাস্ট।

মোটরসাইকেলের কার্বুরেটর কারের মত নয় যেগুলো থ্রটল দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয় । যেখানে একটি কারের    কার্বুরেটর ইঞ্জিনের গতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় সেখানে একটি মোটরসাইকেলের কার্বুরেটর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে যেগুলো ইঞ্জিনে বায়ুর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে । সর্বোচ্চ গতিতে যে ব্যবস্থাটি কাজ করে সেটিকে বলে প্রধান জেট ।

How Does A Motorcycle Carburetor Work

এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি খোলা অংশ যেটা বায়ুকে খুব দ্রুত প্রবেশ করায় । প্রধান জেটের ভিতরে একটি জেট নিডল ( কাটার মত অংশ) রয়েছে । থ্রটল যত দ্রুত বৃদ্ধি করা হয় এই জেট নিডলটি ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে ফলে কার্বুরেটরের মধ্যে থাকা বায়ু প্রবেশ করার প্রবেশপথটি বায়ু প্রবেশ করার জন্য খুলে যায় । সর্বোচ্চ থ্রটলে থাকা অবস্থায় এই প্রবেশপথটি সম্পূর্ণ খুলে যায় । পাইলট জেট ও স্লাইড ভালভ হল দুটি আলাদা ব্যবস্থা যেগুলো মোটরসাইকেল যখন কম গতিতে চলে তখন ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে বায়ুর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ।

নিচের অংশগুলো নিয়ে একটি  মোটরসাইকেল কার্বুরেটর গঠিতঃ

কার্বুরেটরের একটি প্রয়োজনীয় অংশ হল এর টিউব । এতে একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য প্লেট থাকে যেটাকে বলা হয় থ্রটল প্লেট যা নিয়ন্ত্রণ করে কি পরিমাণ বায়ু টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করবে । টিউবের কিছু কিছু জায়গা কিছুটা চাপা এগুলোকে বলা হয় ভেঞ্চুরি এবং এই চাপা জায়গাগুলোর মধ্য দিয়ে বায়ু পরিবাহিত হয়। এই চাপা জায়গাগুলোতে  একটি গর্ত থাকে একে বলা হয় জেট যা বায়ুকে জ্বালানীর দিকে পরিবাহিত করে ।

জ্বালানী ট্যাঙ্ক হতে জ্বালানী কার্বুরেটরে প্রবেশ করে । এ জ্বালানী কতগুলো ফিল্টারের মধ্য দিয়ে যায় যা জ্বালানীর সাথে থাকা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুর কার্বুরেটরে যাওয়া আটকে দেয় । কার্বুরেটরের অভ্যন্তরে একটি পাত্রে জ্বালানী জমা হয় যাতে প্রয়োজন মত সরবরাহ করা যায় । জ্বালানীর সরবরাহ একটি নিডল ভালভ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং একটি ফাঁপা দণ্ড জ্বালানীর উপরে নিচে উঠানামা করে । জ্বালানী লেবেল যখন সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায় তখন দণ্ডটি নিডল ভালভ বন্ধ করে দেয় ফলে কোন জ্বালানী আর পাত্রে প্রবেশ করতে পারে না । জ্বালানী পাত্রটি হতে জেট ও ভেঞ্চার টিউবে প্রবাহিত হয় । এটা অনেকটা নলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার মত ।

How Does A Motorcycle Carburetor Work

কার্বুরেটরের নিচের দিকে একটি ঢাকনা রয়েছে যেটা ইঞ্জিনে বায়ু প্রবেশ করার সময় খোলা ও বন্ধ হয় । এটাকে বলা হয় নিজের থ্রটল যেটা একটি তারের সাহায্যে মূল থ্রটলের সাথে যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে আপনি নিজের হাতে আপনার বাইকের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন । ঢাকনাটি যখন খুলে যায় তখন জ্বালানী জেটের মধ্য দিয়ে ইঞ্জিনে প্রবেশ । জেট নিয়ন্ত্রণ করে কি পরিমাণ বায়ু ও জ্বালানীর মিশ্রণ ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ।

এছাড়াও আরেকটি সার্কিট রয়েছে সঠিক নিয়ন্ত্রণের জন্য । এটি একটি নিডল ভালভ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং নির্ধারণ করে কি পরিমাণ বায়ু ও জ্বালানীর মিশ্রণ ইঞ্জিন সবচেয়ে ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে । কার্বুরেটরের দুই সেট জেট রয়েছে । একসেট হল থ্রটলের জন্য এবং অপরসেট এই সার্কিটের জন্য । এই সার্কিটটি কিছুটা ছোট যে কারণে এর মধ্য দিয়ে সবসময় জ্বালানী প্রবাহিত হয়। অন্য দিকে থ্রটল সার্কিটটি কিছুটা বড় এবং এটা চালু করতে বেশী বায়ু সরবরাহের প্রয়োজন হয় । এই দুই সার্কিটের মাঝখানে একটি রেগুলেটর রয়েছে যেটা একটি স্প্রিং ও একটি চেক বলের মাধ্যমে কাজ করে । থ্রটল সার্কিটের জন্য সরবরাহকৃত বায়ু তখনই কাজ শুরু করে যখন থ্রটল প্লেট দ্বারা ইঞ্জিনের জন্য সরবরাহ করা বায়ুর চাপের কারণে স্প্রিঙের প্রসারণ বৃদ্ধি পায় ।

কিভাবে মোটরসাইকেল কার্বুরেটর কাজ করে সে সম্পর্কে এটি একটি সাধারন পর্যবেক্ষণ মাত্র । এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে পরবর্তী লেখাতে । পরিবর্তী লেখায় মোটরসাইকেল কার্বুরেটর এর অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী নিয়ে আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

 

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Sign up to our newsletter!


error: সকল লেখা সুরক্ষিত !!