রানার মোটরবাইকের নতুন অফার

কিভাবে মোটরসাইকেলের একজন নিরাপদ যাত্রী হবেন

বাইক চালকের পেছনে বসে বাইকে চড়া খুবই মজার । কিন্তু আপনি নিজেই আপনার নিরাপত্তা বজায় রাখুন । একজন ভাল মোটরসাইকেল যাত্রী (Motorcycle Passenger) হিসেবে আপনি যদি কিছু কৌশল অবলম্বন করেন তাহলে এগুলো আপনাকে ১০০% নিরাপত্তা দেবে ।

How To Be a Safe Motorcycle Passengerতাই নিয়মগুলো হল-

১. প্রথমেই আপনাকে একটি ভাল হেলমেট পরতে হবে । ভাল হেলমেট মানে এমন হেলমেট যেটা আপনার মাথার সাথে ভালভাবে ফিট হবে । হেলমেট না পরার কারণে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতির যেকোনো দুর্ঘটনাই আপনার ব্রেইনের ক্ষতি করতে পারে  এমনকি আপনার মৃত্যুর কারণও হতে পারে । তাই শুধুমাত্র হেলমেট না পরার কারনে আপনি আপনার জীবন হারাবেন না । আপনি যদি হেলমেট কিনতে চান তাহলে ফুল ফেইস হেলমেট কিনুন কারণ এগুলো আপনার সম্পূর্ণ মাথা ও মুখ রক্ষা করবে । এবং এই হেলমেট দ্বারা যাতে রাস্তায় ভালভাবে দেখা যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন ।

২. বাইকে চড়ার সময় ফুল প্যান্ট পরুন প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জিনস পরুন । যেগুলো খুবই হালকা এবং মোটা নয় সেগুলো পরা পরিহার করুন । এক্ষেত্রে জিনস পরতে পারেন ।

৩. মোটরসাইকেল চালানোর সময় পায়ের জন্য সবচেয়ে মানানসই হল বুট । এক জোড়া ভাল বুট এক্ষেত্রে খুবই উপকারী হতে পারে । প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটারে গোড়ালি ভাঙা খুবই সহজ । আপনার যদি বুট না থাকে তাহলে আপনার সবচেয়ে ভারী জুতাগুলো পরুন । আপনি এমন জুতা পরবেন যাতে  আপনার পাগুলো দেখা যায়।

৪. আপনি হাতের জন্য ভাল গ্লাভস পরতে পারেন এবং এটা যদি লেদারের হয় তাহলে খুবই ভাল হয় কারণ এগুলো অত্যন্ত টেকসই এবং গ্লাভসগুলো  যেন আঙুল ছাড়া না হয় ।

. যেকোন ধরনের ঝোলানো সামগ্রী পরিহার করা উচিত । যেমন চেইন, কারণ এগুলোর বিভিন্ন চলমান পার্টসের সাথে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

. বাইক যখন সোজা লাইন ধরে চলতে থাকবে  তখন যাত্রীর পড়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না ।

. বাইক চলন্ত অবস্থায় আপনি সবসময় ভারসাম্য রেখে চলবেন ।

. বাইকে বসার পূর্বে আপনি অবশ্যই আপনার নিরাপত্তা সরঞ্জাম পড়ে নেবেন । যখন চালক দুই পা মাটিতে রেখে সিটে বসবে এবং ব্রেক প্রয়োগ করবে তখন আপনি বাম পাশ দিয়ে বাইকে উঠুন এবং আপনার বাম হাত চালকের বাম কাঁধে রাখুন। আপনার বাম পা বাম পাশের ফুট-পেগের উপর রাখুন । কখনো সামনে যাওয়ার জন্য বাইককে ধাক্কা দেবেন না এতে আপনি ও চালক উভয়ই বাইক হতে পড়ে যেতে পারেন ।

. আপনার অবস্থানের উপর আপনার বাইকের পজিশন অনেকাংশে নির্ভর করে । আপনার পা পেগের উপর যথাযথভাবে রাখতে হবে এবং আপনার হাত চালকের কোমরে রাখতে পারেন । এটা আপনাকে তীব্র গতিতেও সিটের সাথে লেগে থাকতে সাহায্য করবে একই সাথে কোন কিছুর সাথে ধাক্কা খেলে আপনাকে ঝুলে থাকতে সাহায্য করবে ।

১০. স্পোর্টস বাইকের যাত্রী হলে আপনাকে কিছু ভিন্ন কৌশল অনুসরন করতে হবে যদিও সামনের দিকে ঝুকে বসলে আপনি সহজেই চালকের নড়াচড়ার সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন ( যদিও এটা অনেক চালকের জন্য অসুবিধাজনক), একটি কৌশল যেটা অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করতে পারে সেটা হল চালকের কোমরে হাত দিয়ে ধরা । তীব্র গতিতে এটা  আপনার হাতকে সবসময় চালকের পাশে রাখবে ফলে বাইক যখন থামবে তখন আপনি কিছুটা  স্লাইডিং এর মাধ্যমে নিজেকে থামাতে পারবেন ।

১১. যখন বাইক মোড় ঘুরবে তখন উপরে বর্ণিত ভারসাম্য রাখার কৌশলগুলো মনে রাখবেন । আপনার শরীর যেন সবসময় চালকের সমান্তরালে থাকে । অনভিজ্ঞ মোটরসাইকেল যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই একটি প্রবণতা দেখা যায় তা হল মোড় ঘুরার সময় তারা একটু বেশী হেলে পড়ে । এটা ভুল ও বিপদজনক !  একজন চালক জানে মোড় ঘুরার সময় কখন তার শরীর হেলাতে হবে তাই তার সাথে আপনার শরীর হেলান । যখন একটি বাইকের দুজন যাত্রীর শরীর একই সাথে হেলে পড়ে না তখন চালকের জন্য এটা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে । মোড় ঘুরার সময় হেলে পড়া আসলে অবিশ্বাস্য রকমের সোজা এটা আসলে স্বাভাবিক জড়তা বা নার্ভাসনেস যে কারণে যাত্রী ভুলভাবে হেলে পড়ে ।

১২. আপনি যদি অসুস্থবোধ করেন তাহলে বাইকে চড়বেন না এবং আপনার চালকের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখুন । একজন নার্ভাস যাত্রী উভয়ের জন্যই ভ্রমণটিকে বিরক্তিকর ও বিপদজনক করে তুলতে পারেন । আপনার চালকের দেয়া সকল নির্দেশনা শুনুন ও মেনে চলুন । আপনার নিরাপত্তার সকল দায়িত্ব তার এবং আপনাদের উভয়ের নিরাপত্তার জন্য কি করতে হবে সে তা আপনাকে বলবে ।

১৩. যতক্ষণ না চালক বলবে যে সে চালানোর জন্য তৈরী ততক্ষন পর্যন্ত বাইকে উঠবেন না । বাইক থেকে নামার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য । এগুলো করার সময় চালকের মত সতর্ক থাকুন । এর মানে হল থামা অবস্থা হতে তীব্র গতিতে ছুটে চলার জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং যেকোন সাধারন পরিস্থিতির জন্য তৈরী থাকুন । মোটরসাইকেল হতে পড়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ কারণ হল অমনোযোগিতা ।

১৪. কখনো আপনার ওজন বাম ও ডান লেগ-পেগের উপর ছড়িয়ে দেবেন না । এটা বাইকটিকে একপাশে বা অন্যপাশে কাত করে দিতে পারে যা চালকের কাছে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা হতে পারে এবং এটা বাইকের উপর চালকের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিতে পারে । যদি আপনাকে আপনার সিটের পিছনে যেতে হয় তাহলে উভয় লেগ-পেগে একই সময়ে সমানভাবে চাপ দিয়ে পেছনে আসুন ফলে এটা বাইকের ভারসাম্যে কোন প্রভাব ফেলবে না । যদি সম্ভব হয় বাইক যখন সম্পূর্ণ থেমে থাকবে তখন এটা করার চেষ্টা করুন ।

১৫. আপনার পায়ের সাথে এগজস্ট পাইপের অবস্থান ভাল করে ঠিক করে নিন । কারণ একটি জুতাকে গলিয়ে দেয়া বা পা পুড়ে যাওয়া কোন মজার ঘটনা হতে পারে না । এছাড়াও গলিত প্লাস্টিক, চামড়া বা রাবার এগজস্ট পাইপ হতে সরিয়ে নেয়া খুব একটা সহজ নয় । একই সাথে যে জায়গায় চেইন রয়েছে সে জায়গার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিন এবং নিশ্চিত হোন আপনার পা যেন ঐ জায়গায় না যায় ।

১৬. চালকের সাথে আগেই কিভাবে যোগাযোগ করবেন তা নিয়ে আলোচনা করুন। যদি আপনার কখনো থামতে হয় কিংবা বাথরুমে যেতে হয় সে ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের শব্দের চেয়ে জোরে চিৎকার করার চেয়ে চালকের পিঠে তিনবার টোকা দেয়া অনেক সহজ । বাইক যখন সম্পূর্ণ থামা থাকবে তখন যোগাযোগের জন্য কিছু সংকেত ঠিক করে নিন । কখনো চালককে বিরক্ত করবেন না কারণ মোটরসাইকেল চালানোর জন্য তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ প্রয়োজন ।

মোটরসাইকেলে নিরাপত্তার জন্য যাত্রীদের এই কৌশলগুলো অনুসরন করা উচিত । আশা করি একজন ভাল মোটরসাইকেলের যাত্রী হওয়ার জন্য এই কৌশলগুলো আপনাকে সাহায্য করবে । আপনি যদি এই লেখাটি পছন্দ করেন তাহলে আমরা আপনার মতামত আশা করছি ।

ছবি  ঃ সস্ত্রীক আবুল মোমেন রোহিত 

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া ।
সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*