মোটরসাইকেলের চেইন কিভাবে রক্ষনাবেক্ষন করবেন ?

মোটরসাইকেলের চেইন রক্ষনাবেক্ষন একই সাথে তেল পরিবর্তন ও টায়ার রক্ষনাবেক্ষন নিরাপদ বাইক চালানোর প্রধান শর্ত । নিরাপদ ভ্রমণের জন্য আপনাকে জানতে হবে কিভাবে মোটরসাইকেলের  চেইন রক্ষনাবেক্ষন করতে হয় । চেইন হল মোটরসাইকেলের না বলা যান্ত্রিক হিরো । ইঞ্জিন হতে পিছনের  চাকায় শক্তি সরবরাহের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ চেইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় । যথাযথ তদারকি ও রক্ষনাবেক্ষন করা না হলে এটা ছিঁড়ে যেতে পারে যা মোটরসাইকেলকে পঙ্গু করে দেবে ।

how to clean the motorcycle chain

আপনি কিভাবে চালান তার উপর নির্ভর করে প্রতি ৫০০-৭০০ কিলোমিটার পর পর চেইন পরীক্ষা করা উচিত বা সাধারনভাবে প্রতি মাসে ২ বার করে।

একটি বাইকের চেইন সঠিকভাবে রক্ষনাবেক্ষন করার জন্য এটি খুলে ভালোভাবে দেখতে হবে এবং এটি কি অবস্থায় আছে তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে ।

চেইনটি যথাযথভাবে  খুলতে ও রক্ষনাবেক্ষন করার জন্য আপনার কতগুলো যন্ত্রের প্রয়োজন যেগুলো আপনার হাতের কাছেই রাখা উচিত ।

নিচের জিনিসগুলো আপনার হাতের কাছেই রাখুনঃ

১. বিভিন্ন ধরনের রেঞ্চ

২. একটি নরম ব্রাশ বা একটি পুরান টুথ ব্রাশ

৩. একটি চেইন পরিস্কারক

৪. চেইন হতে ময়লা পরিস্কার করার জন্য র‍্যাগ

৫. একটি টেনশন পিন যেটা কটন পিন নামেও পরিচিত

৬. একটি পরিমাপক তার

এখন কঠিন কাজটি শুরু করি ।

তারের পরিমাপকটি ব্যবহার করে চেইনের সামনের ও পিছনের সংযোগ রক্ষাকারী চাকার দাতের মাঝ বরাবর ভালোভাবে ধরি এবং এটা উপর নিচে ধাক্কা দেই । চেইনটি অমস্রিণভাবে এক ইঞ্চির মত সামনে ও পিছনে নড়াচড়া করবে । কারণ মোটরসাইকেল চেইন কিছু কিছু জায়গায় শক্ত হতে পারে কিন্তু অন্য জায়গাগুলোতে এটি স্বাভাবিক থাকবে । তাই চেইনের প্রত্যেকটি অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে । যদি চেইনটি এক ইঞ্চির চেয়ে বেশী নড়ে সেক্ষেত্রে এটি টাইট করতে হবে এবং যদি খুবই টাইট হয় তাহলে প্রয়োজনমত ঢিলা করতে হবে।

চেইনের সামনের ও পিছনের সংযোগ রক্ষাকারী চাকার দাত সমস্যাযুক্ত চেইন সম্পর্কে খুব ভালো সংকেত দিতে পারে । চাকার দাতগুলো পরীক্ষা করে দেখলেই বুঝা যাবে সেগুলো চেইনের সাথে ঠিকভাবে যুক্ত আছে কিনা । যদি দাতগুলো দেখতে ক্ষয়প্রাপ্ত মনে হয় তাহলে বুঝতে হবে যে চেইনের সাথে যথাযথ অবস্থায় নেই । আকাবাকা দাত এক ধরনের অসংগতি যেগুলো দেখলে আপনার বুঝতে হবে যে এগুলো  পাল্টানোর সময় হয়েছে ।

আপনার চেইনটি ভালোভাবে খাপখাওয়ানো অবস্থায় থাকতে হবে এবং এটা একই সাথে পরিস্কার ও তেল দেয়া থাকতে হবে । অধিকাংশ আধুনিক চেইনই ০-আকৃতির যেগুলো তৈরীতে রাবারের উপাদান ব্যবহার করা হয় এবং এ ধরনের চেইনগুলো খুবই স্পর্শকাতর । নিশ্চিত হন যে আপনি ০-আকৃতির জন্য অনুমোদিত পরিস্কারক ব্যবহার করছেন অথবা চেইন ও চেইনের দাঁতগুলো পরিস্কারের জন্য নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন ।

এরপর সকল ময়লা মুছে ফেলার জন্য আপনার একটি র‍্যাগ বা তোয়ালের প্রয়োজন হবে যেটা তেল দেয়ার জন্য একটি পরিস্কার ক্ষেত্র তৈরী করবে । চেইনের প্রত্যেক সংযোগস্থল ও চেইনের সংযোগ রক্ষাকারী চাকার দাতগুলো ভালোভাবে পরিস্কার হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হোন। যখন চাকা ঘুরাবেন তখন চেইনে স্প্রে করে তেল ছিটিয়ে দিতে পারেন । অতিরিক্ত তেল একটি র‍্যাগের সাহায্যে মুছে ফেলুন ।

চেইনের প্রসারণ সাধারণত নির্ধারিত হয় সামনের ও পিছনের স্প্রকেটের (সংযোগ রক্ষাকারী চাকার দাত) দূরত্বের মাধ্যমে  এবং অনেক বাইকেরই ইনডেক্স মার্ক থাকে এলিগমেন্টকে সাহায্য করার জন্য। বিভিন্ন বাইকে চেইন স্থাপনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে । সাধারণত পিছনের এক্সেল ও হুইল চেইনের সামনে ও পিছনে প্রসারনের মাধ্যমে ঘোরে ।

যখন চেইন সঠিকভাবে প্রসারিত অবস্থায় স্থাপিত হয় তখন এটা প্রায় .৭৫ -১ ইঞ্চি পর্যন্ত উপরে নিচে উঠানামা করে। যখন আপনি পিছনের চাকাটি ঘোরাবেন  খেয়াল রাখবেন যেন তার আগেই যেন চেইনের উভয় অংশ ভালোভাবে টাইট করে লাগানো হয় । যদি এটা না করে থাকেন তাহলে চেইন এবং স্প্রকেট (সংযোগ রক্ষাকারী চাকার দাত) উভয়ই ভালোভাবে লাগান । এক্সেল পিনগুলো ঠিকভাবে টাইট করে লাগান এবং কটার পিনগুলো নতুন পিন দ্বারা প্রতিস্থাপিত করুন ।

এই লেখাটি ভালোভাবে পড়ার পর আশা করি আপনি জানতে পারবেন কিভাবে মোটরসাইকেলের চেইন   রক্ষনাবেক্ষন করতে হয় । এই লেখাটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত আশা করছি ……

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক