রানার মোটরবাইকের নতুন অফার

মোটরসাইকেল অফ রোড ড্রাইভিং টিপস

সাধারন রোড গিয়ারিং হতে মোটরসাইকেল অফ রোড গিয়ার কিছুটা ভিন্ন । মোটরসাইকেলের অফ রোড ড্রাইভিং এ বুট কিছুটা লম্বা হওয়া প্রয়োজন এবং সেই সাথে হাঁটু, ঘাড় ও বুকের জন্য বিশেষ প্যাড পরিধান করতে হবে ।

motorcycle off road riding tips

কনুই হালকা কাপড় বা আবরণ দ্বারা আবৃত থাকবে এবং আপনার অবশ্যই হাতে হালকা ও আরামদায়ক গ্লাভস পরতে হবে । কারণ অফরোড ড্রাইভিং এ আপনার হাত নিয়মিত নড়াচড়া করতে হবে এবং আপনি যে হেলমেট পরবেন তাতে অবশ্যই সানগ্লাস পড়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে কারণ আপনি একটি ভাঙা ও ধুলাবালিযুক্ত রাস্তার মধ্য দিয়ে বাইক চালাবেন । তাই একটি সানগ্লাস বা চশমা আপনার চোখকে রাস্তার ময়লা হতে রক্ষা করবে ।

সাধারন রাস্তার তুলনায় অফরোড ড্রাইভিং এ সবকিছুই ভিন্ন । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আপনি যখন রাস্তায় চালাবেন তখন আপনি সোজা হয়ে বসে ধীরস্থিরভাবে বাইক চলাতে পারবেন কিন্তু অফরোড ড্রাইভিং হল ঠিক তার উল্টো মানে আপনি নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই হিমশিম খাবেন । অফরোড ড্রাইভিং শুরু করার আগে কাঁদা যুক্ত একটি রাস্তায় নিজে নিজে অনুশীলন করুন কারণ এ ধরনের রাস্তায় আপনি সহজেই নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন তাই নিজে নিজে একবার অনুশীলন করে নিলে ড্রাইভিং এর পূর্বে আপনার হালকা ওয়ার্মআপও হবে ফলে আপনি নিজেকে অফরোড ড্রাইভিং এর জন্য প্রস্তুত করে নিতে পারবেন । সকলেই জানে যে মোটরসাইকেল অফরোড ড্রাইভিং এ মধ্যাকর্ষন শক্তি আপনার বাইককে ভারী করে তুলবে এবং এটা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কষ্টকর । অফরোড ড্রাইভিং এ আপনাকে কখনো  কখনো       ফুটপ্যাগের উপর দাড়াতে হতে পারে যা নিঃসন্দেহে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় কেননা আপনি আপনার সমস্ত ওজনই তখন ফুটপ্যাগের উপর দিয়েছে ।

চার ভাগের তিনভাগ অফরোড ড্রাইভিং এ চালককে ফুট প্যাগের উপর দাড়াতে দেখা যায় কারণ সংকীর্ণ জায়গায় এভাবে বাইক চালানো সহজ । আপনি এসময় আপনার পায়ের মাজার উপর ভর দিয়ে দাড়িয়ে থাকার চেষ্টা করবেন গোড়ালির উপর ভর দিয়ে নয় ফলে ব্রেক প্যাডেল এর সাথে আপনার পায়ের কিছুটা দূরত্ব থাকবে । আপনি আপনার উরুর সাহায্যে জ্বালানী ট্যাঙ্কটিকে জড়িয়ে রাখার চেষ্টা করুন কারণ এটা আপনাকে আপনার বাইক নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে এবং এটা আপনাকে সঠিক কোনে হেলে থাকতেও সাহায্য করবে  ।

আপনি আপনার হাঁটুকে শক অ্যাবজরবার হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন এবং আপনার কনুই খারাপ রাস্তায় সহজে নড়াচড়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে । আপনার যদি একটি স্ট্রিট বাইক থাকে তাহলে আপনি সহজে রাস্তার বাধাসমূহ অতিক্রম করতে পারবেন এবং আপনার বাইকে শক্তিশালী শক প্রতিরোধ করার মত সাসপেনসন থাকবে । অন্যদিকে ডার্ট বাইকগুলো যেকোন অচল রাস্তার মধ্য দিয়ে চলার উপযোগী যেমন কাদাযুক্ত রাস্তা, ঢালু রাস্তা, আঁকাবাঁকা রাস্তা, নরম রাস্তা ইত্যাদি । সবসময় খেয়াল রাখুন যে আপনি আপনার পথে বিদ্যমান সকল বাধাকে ৯০ ডিগ্রী কোনে পার হচ্ছেন কারণ এতে আপনার টায়ার ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না । ডার্ট বাইকে অন্যান্য স্ট্রিট বাইকের তুলনায় সহজেই সামনের চাকা উপরে তুলে কোন বস্তুর উপর দিয়ে যাওয়া যায় এবং আপনি এটা করতে পারেন হ্যান্ডেলবারটিকে উপরে তোলার মাধ্যমে । সবসময় গতিকে আপনার সুবিধা অনুযায়ী কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন ।

আপনি যদি ইটের বাধানো কোন স্থানে থামেন তাহলে সামনের ব্রেক ব্যবহার করুন এবং খেয়াল রাখুন এ সময় লিভারের প্রায় ৭০ ভাগ শক্তি বাইকের গতি কমাতে ব্যবহৃত হয় তাই তাড়াহুড়া করবেন না । আপনি যদি বাইক থামানোর জন্য আপনার সমস্ত শক্তি সামনের চাকার পরিবর্তে পিছনের চাকায় প্রয়োগ করেন তাহলে সমস্ত ওজনই পিছনে চলে আসবে ফলে সামনের চাকা পিছলে যেতে পারে । আপনি কিছু স্লাইডিং নিজে নিজে অনুশীলন করতে পারেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন এটা করতে কেমন লাগে !

নতুন বাইক চালকদের জন্য ডার্ট বাইকিং কিছুটা ভিন্ন কারণ কাউন্টার-স্টিয়ারিং তাদের জন্য ঝামেলার সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে টায়ার পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী ফলে চালক নতুন হলে সে হয়ত পড়ে যেতে পারে । মোড় নেওয়ার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ার পরিবর্তে আপনি যদি আপনার সমস্ত ওজন মোড়ের বিপরীত প্যাগের দিকে সরিয়ে আনেন তাহলে এটা টায়ারকে রাস্তার সাথে লেগে থাকতে সর্বাধিক বল প্রয়োগ করবে । আপনি একবার যদি এই পদ্ধতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন তাহলে তাহলে মোড় নেওয়ার সময় এটা এমনিতেই হয়ে যাবে । আরেকটি কৌশল হল যখন আপনি মোটরসাইকেল অফরোড ড্রাইভিং করবেন আপনার পাগুলো ছড়িয়ে দিন এতে আপনার নিরাপত্তা বাড়বে । কিন্তু আপনি যদি একটি ভারী বাইক চালান তাহলে এই কৌশলটি খুব একটা কাজে দেবে না কারণ বিভিন্ন কাজের উপযোগী করে বানানো ভারী বাইকগুলো আপনার পায়ের উপর পড়লে আপনার হাড় ভাঙা কেউ ঠেকাতে পারবে না !!!

অনেক ডার্ট বাইকই যথেষ্ট হালকা যে কারণে লম্বা বুটের কারণে সেগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ । তাই যখন আমরা সাধারন রাস্তায় বাইক চালাব তখন অবশ্যই খেয়াল রাখব যেন চাকা ইটের রাস্তার সাথে যথাযথ ভাবে লেগে থাকে কারণ যখন আপনি অফরোডে বাইক চালাবেন চাকার পিছলে যাওয়ার প্রবণতা  আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে । কিন্তু অফরোডে পিছলে যাওয়া রোধে আপনি একটি নিয়ম অনুসরন করতে পারেন এবং নিঃসন্দেহে আপনি এটাকে জীবন রক্ষাকারী হিসেবে অবিহিত করতে পারেন। বাইকের চলার পথ অনেকটা আঠার মত যেখানে চাকার নড়াচড়া অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে এবং আপনি যদি একজন অভিজ্ঞ ডার্ট বাইক চালক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ভালো ড্রিফট করতে পারবেন ও দু’বার চিন্তা নাকরেই আপনি আপনার চলার পথ পরিবর্তন করতে পারবেন ।

যদিও এটি একটি কঠিন প্রক্রিয়া তারপরও আপনি যদি নিজের মধ্য থেকে পিছলে যাওয়ার ভয় তাড়াতে চান তাহলে আপনাকে এটি রাস্তায় অনুশীলন করতে হবে এবং সফলভাবে করার মাধ্যমে ভয়কে জয় করতে হবে । মনে রাখবেন রাস্তায় বাইকসহ পিছলে যাওয়া ক্ষেত্র বিশেষে মজারও হয় । আপনি যদি এই বিষয়টি ভালোভাবে আয়ত্ত্ব করতে পারেন তাহলে আপনি অফরোড বাইকিং এর বস হতে পারবেন । অফরোড ড্রাইভিং অনেকের জন্যই চ্যালেঞ্জ এবং শুধুমাত্র কিছু কলাকৌশল অনুসরনের মাধ্যমে আপনিও একজন ভালো অফরোড চালক হতে পারেন । আমরা সকলেই জানি যে কাদার মধ্যে বাইক চালানো খুবই কঠিন এবং আপনি যদি অফরোড ড্রাইভিং এ সুনাম অর্জন করতে পারেন তাহলে বাইকিং এর জগতে আপনি একজন বসের মর্যাদা পাবেন ।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া ।
সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*