রানার মোটরবাইকের নতুন অফার

Race GSR 125 এর শর্ট রিভিউ – লিখেছেন: শাহরিয়ার

Race GSR বাইকটি একদিন চালানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে তার উপর নির্ভর করে লিখছি। এই রিভিউটি সম্পূর্নই আমার ব্যক্তিগত মতামত, Race GSR বাইকটি সম্পর্কে সকলকে জানানোর ইচ্ছা থেকেই এই রিভিউটি লেখা। Race GSR 125 এর লেটেস্ট বিক্রয়মূল্য দেখতে এখানে ক্লিক করুন লুক: আমাদের দেশে খুব কম বাইক ই আছে এমন দেখতে!!! বিল্ড কোয়ালিটি: কিছু জায়গায় খুব ভালো আবার কিছু জায়গায় খুব খারাপ। ফেয়ারিং এর ফিটিং নড়বড়ে, সলিড নয়। লুকিং গ্লাস কোন কাজের নয় এবং তার ফিটিং আরও খারাপ। বাকি সব ফিটিং ফিনিস বেশ ভালো। পেইন্ট কোয়ালিটি বেশ ভালো, আলুমিনিয়াম সুইং আর্ম এবং চেসিস। ফিটিং এ কোন প্যানেল গ্যাপ নেই। সব মিলিয়ে বিল্ড কোয়ালিটি মোটামুটি।…

Review Overview

User Rating: 3.45 ( 4 votes)

Race GSR বাইকটি একদিন চালানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে তার উপর নির্ভর করে লিখছি। এই রিভিউটি সম্পূর্নই আমার ব্যক্তিগত মতামত, Race GSR বাইকটি সম্পর্কে সকলকে জানানোর ইচ্ছা থেকেই এই রিভিউটি লেখা।

race gsr

Race GSR 125 এর লেটেস্ট বিক্রয়মূল্য দেখতে এখানে ক্লিক করুন

লুক: আমাদের দেশে খুব কম বাইক ই আছে এমন দেখতে!!!

বিল্ড কোয়ালিটি: কিছু জায়গায় খুব ভালো আবার কিছু জায়গায় খুব খারাপ। ফেয়ারিং এর ফিটিং নড়বড়ে, সলিড নয়। লুকিং গ্লাস কোন কাজের নয় এবং তার ফিটিং আরও খারাপ। বাকি সব ফিটিং ফিনিস বেশ ভালো। পেইন্ট কোয়ালিটি বেশ ভালো, আলুমিনিয়াম সুইং আর্ম এবং চেসিস। ফিটিং এ কোন প্যানেল গ্যাপ নেই। সব মিলিয়ে বিল্ড কোয়ালিটি মোটামুটি।

টেকনোলোজি: অভাব নাই। একটা স্পোর্টস বাইকের অনেক ফিচারস আছে। এফ আই, লিকুইড কুলিং, ৪ ভাল্ভ, দুইটা ক্যাম, ৬ গিয়ার, আপ সাইড ডাউন ফ্রন্ট সাস্পেনশন, স্ট্যান্ডে বাইক স্টার্ট হবেনা ইত্যাদি।

Race GSR – হ্যান্ডেলিং এবং ব্যালেন্স:

এমন আশা করি নাই কিন্তু এইটা অনেকটাই স্পোর্টস বাইকের মত স্টাবিলিটি এবং করনারিং কনফিডেন্স দেয়। কর্নার করতে গেলে এত কনফিডেন্স পাবেন যা আমি আশাই করিনি। আর হাই স্পিডে বাইক অনেক স্টেবল। কিন্তু শহরে চালানোর সময় জ্যাম এর মধ্যে হ্যান্ডেলিং একটু কষ্টকর হবে। সামনের ব্রেক খুব ই চমৎকার এবং সাডেন ব্রেকিং এ চমৎকার কনফিডেন্স দেয় কিন্তু পিছনের ব্রেক খুব একটা ভালো না। বাইকের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স অনেক কম। একা চালালেও কিছু উচু স্পিড ব্রেকারে নিচে বাড়ি লাগতে পারে, পিলিওন থাকলে তো কথাই নাই।

সিটিং পজিশন: দেখে ছোট মনে হলেও সিট হাইট বেশ ভালোই। ৫.৮ এর নিচে যারা তারা ২পা নিচে একসাথে নাও ফেলতে পারেন। সিটিং পজিশন একেবারে স্পোর্টি এবং এইভাবে আপনি অবশ্যই বেশিক্ষণ চালাতে পারবেন না এবং শহরের জ্যাম এ বেশ কষ্ট হবে।

Race GSR 125 এর ফুল ফিচার রিভিউ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

race gsr price in bangladesh

Race GSR – ইঞ্জিন:

১২৫ সিসি এর একটা ইঞ্জিন, টেকনোলোজি ইটালিয়ান আর যা সুনেছিলাম ইটালিয়ান ইঞ্জিন সম্পর্কে তাই হয়েছে। ইঞ্জিন রাফ, নাই কোন স্মুথনেস আছে শুধু পিউর পাওয়ার। এখানে একটা টুইস্ট আছে, এই ইঞ্জিনে প্রপার স্পোর্টস বাইক লাইক ফিল আছে। কেমন ফিল?! এই বাইক পুরাটাই আপনাকে হাই আরপিএম এ চালাতে হবে। ৩০০০/৪০০০/৫০০০/৬০০০/৭০০০ আরপিএমে নরমাল মনে হবে সবকিছু। কিন্তু ৭০০০ আরপিএমের পরে এক্সিলারেশন ব্রেথ টেকিং। ৭০০০-১১০০০ আরপিএম পুরাটাই পাওয়ার ব্যান্ড এবং আশাতিত এক্সিলারেশন এই রেঞ্জে হয়। এই বাইকের কোন লো এন্ড পাওয়ার নাই, নাই কোন মিড রেঞ্জ, আছে শুধু টপ এন্ড পাওয়ার!!

আমি বেশ সহজেই ১২০ তুলেছিলাম এবং মনে হয় ১৩০+ সম্ভব এবং হাই আরপিএমে ভাইব্রেশন অনেক কম। আমার মতে আমাদের দেশের রেগুলার কোন ১৫০সিসি এইটার সাথে টপ এন্ডে পারবেনা। কিন্তু একটা প্রবলেম আছেঃ বাইকের কোন লো এন্ড টর্ক নাই, তাই ধরেন আপনি ১৫কিমি পার আওয়ার স্পিডে যাচ্ছেন ২ নং গিয়ার ফেলবেন এন্ড বুম!!! আপনি চালাতে পারবেন না কারন ইঞ্জিন নকিং শুরু হয়ে যাবে। আপনাকে কিছুটা নরমালি চালাতে হলেও ৫০০০ আরপিএমে গিয়ার শিফট করতে হবে এবং এর উপরের আরপিএমে চালাতে হবে। এর নিচে এক্সিলারেট করলেই নকিং হয়।

অভারল বাইকে পাওয়ার আছে কিন্তু আপনাকে রেভ করে ইউজ করতে হবে। স্মুথনেস চাইলে হবেনা। গিয়ারশিফট স্মুথ নয়, কিছুটা হার্ড। বাইকের সাউন্ড একটুও ভালো না। কিন্তু হেলমেট পরে হাই আরপিএমে সাউন্ড ভালো লাগে কিন্তু শহরে নয় মাঝে মাঝে বেশি সাউন্ড এর জন্য বিরক্ত হয়ে যেতে পারেন। আমার কাছে লো আর মিড রেঞ্জ টর্ক নাই দেখে প্রেক্টিকাল বাইক মনে হয়নি কিন্তু হাই আরপিএমে চালানোর জন্য বেশ মজার একটা বাইক।

যারা রেগুলার শহরের জ্যামে বাইক চালাবেন তাদের জন্য এইটা নয়। উইক এন্ড রিফ্রেশমেন্ট বা শর্ট ট্যুর করার জন্য হতে পারে কিন্তু সব কিছু বিবেচনা করলে এইটা আমার কাছে শহরের জন্য ও না আমার লং জার্নির জন্য ও নয় ক্যাজুয়াল রাইডিং এর জন্য।

Race GSR – সার্ভিস সেন্টার এবং পার্টস:

শোরুমের মতে সার্ভিসিং র‌্যাংগস এর সার্ভিস সেন্টারে করা যাবে। বডি পার্টস এখনো আনে নাই এবং টুক টাক কিছু পার্টস যেমন এয়ার ফিল্টার, ব্রেক প্যাড আছে। তাদের এই দিক দিয়ে যে রেপুটেশন তাতে অন্যান্য পার্টস কবে আসবে তার কোন গ্যারান্টি নাই। আবার এই বাইকের ইঞ্জিন ওয়েল গ্রেড কত এইটাও জানেনা সেখান কার মেকানিক, তাহলে সার্ভিস করবে কি জানা নেই। ভালো সার্ভিস আশা না করাই ভালো হবে মনে হয়।

হেডলাইট: ২ টা একসাথে জ্বলেনা। একটা হাই আরেকটা লো। অন্যান্য ১৫০সিসি বাইকের মত নরমাল আলো। পালসার এ এস বা কেপিআর এর মতো ব্রাইটনেস পাবেন না।

মাইলেজ: বলতে পারবোনা তবে ৩৫ মিনিমাম পাওয়া যাবে আশা করি।

রিলায়েবিলিটি: ভালোই মনে হয়েছে। টেকসই হবে যতদূর আমি মনে করি।

Race GSR – ভালো দিক:

লুক্স, হাই আরপিএম এক্সিলারেশন, ফ্রন্ট ব্রেক, স্পোর্টস বাইক লাইক করনারিং, হাই স্পিড স্টেবিলিটি।

Race GSR – খারাপ দিক:

গ্রাউন্ড ক্লিয়ায়েন্স, লো আরপিএম নকিং, টর্ক নাই, বেশি নিচু সিটিং পজিশন, সার্ভিস সেন্টার এর অনিশ্চয়তা।

race gsr review

২,৩৫,০০০ টাকা হিসেবে অনেক কিছুই আছে Race GSR 125 বাইকে। ক্যাজুয়াল ইউজের জন্য একটু আলাদা কিছু ফান টাইপ স্পোর্টস বাইক লো বাজেটে চাইলে ভালো অপশন। কিন্তু Race GSR 125 রেগুলার রাইডারদের জন্য নয় আমার মতে। কিন্তু এইটাকে লো কোয়ালিটি চাইনিজ কপি মনে করলেও ভুল করবেন।

লেখকঃ শাহরিয়ার চৌধুরী, Throttler

About আহমেদ স্বজন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*