Suzuki Hayate মালিকানা রিভিউ লিখেছেন মোঃ রাইহানুল হক সবুজ

আমি মোঃ রাইহানুল হক সবুজ, বয়স ৩০ বছর। আমার বাসস্থান, নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ৩ নং ওয়ার্ড এ। গ্রামের বাড়ি, কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে। যা একটা সময় শুধু শালবন বিহার, লালমাই পাহাড়, পিকনিক স্পট এর জন্য বিখ্যাত থাকলেও এখন মানুষ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেশি চেনে। হোন্ডা সিবিসাইন, হাঙ্ক, সিভিজেড, এফযেড এস এর টেষ্ট নিয়ে অবশেষে এলাম Suzuki Hayate বাইকে। বাইক নিয়ে ছোটবেলা থেকেই একটা আগ্রহ কাজ করত সব সময়। মনে মনে সব সময় আশা করতাম আমাদের বাসায় যেন মটরসাইকেল নিয়ে কেউ বেড়াতে আসে। আর কেউ আসলেই তাকে ধরতাম মোটরসাইকেল চড়াতে। এই পাগলামি স্কুল জীবনের শেষ পর্যন্ত কাজ করত। নিজের একটা বাইক বলতে সেটা…

Review Overview

User Rating: 4.8 ( 1 votes)

আমি মোঃ রাইহানুল হক সবুজ, বয়স ৩০ বছর। আমার বাসস্থান, নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ৩ নং ওয়ার্ড এ। গ্রামের বাড়ি, কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে। যা একটা সময় শুধু শালবন বিহার, লালমাই পাহাড়, পিকনিক স্পট এর জন্য বিখ্যাত থাকলেও এখন মানুষ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেশি চেনে। হোন্ডা সিবিসাইন, হাঙ্ক, সিভিজেড, এফযেড এস এর টেষ্ট নিয়ে অবশেষে এলাম Suzuki Hayate বাইকে।

suzuki hayate left side view

বাইক নিয়ে ছোটবেলা থেকেই একটা আগ্রহ কাজ করত সব সময়। মনে মনে সব সময় আশা করতাম আমাদের বাসায় যেন মটরসাইকেল নিয়ে কেউ বেড়াতে আসে। আর কেউ আসলেই তাকে ধরতাম মোটরসাইকেল চড়াতে। এই পাগলামি স্কুল জীবনের শেষ পর্যন্ত কাজ করত।

নিজের একটা বাইক বলতে সেটা কেনা হয়, ২০১২ সালের দিকে। মামার পুরানো সিডি আই ১০০। সেটা চলে মাস ছয়েক এর মত। এরপর বাইক ছেড়ে সাইক্লিং এ ঢুকি। কিন্তু হঠাত জরুরী প্রয়োজনে কোথাও যাওয়া, কিংবা জরুরী কাউকে কোথাও নিয়ে যাওয়া। আর এই যানজট এর শহরে, যেকোন জরুরী প্রয়োজনে কোথাও যাবার জন্য বাইকের কোন বিকল্প নেই।

suzuki hayate right side view

সবার কথা না শুনে কেন সুজুকি হায়াতে বেছে নিয়েছিলাম সেটা বলি- ঢাকা শহরে চলাচলের জন্য আসলে বড় বাইক এর চেয়ে ছোট বাইকই বেশি আরামদায়ক এবং তেল সাশ্রয়ী। আর ১০০/১১০সিসি সেগ্মেন্ট এর বাইকগুলো কেন যেন সব ব্র্যান্ড এর ই তেমন স্টাইলিস আর সুন্দর কালার পাওয়া যায় নাহ। Suzuki Hayate বাইক টাকে আমার কাছে সবচেয়ে স্টাইলিশ মনে হয়েছিল। আর আরামদায়ক এর কথা যদি বলি, হ্যাঁ শুধু এই বাইকটা তেই আমি বসে হ্যান্ডেল বার ধরে বেশ আরাম পেয়েছি, যাতে কিনা বাইক কন্ট্রোল টা খুব ভাল করা যায়।

suzuki hayate front side

Suzuki Hayate একটি ১১৩ সিসির বাইক, যাতে ৪ স্ট্রোক সিঙ্গেল সিলিন্ডার এয়ার কুল ইঞ্জিন দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিন আউটপুট ৮.৭ বি এইচ পি , ৭৫০০ আরপিএমে আর ৯.৩ টর্ক ৫০০০ আর পি এম পর্যন্ত। যা আমাকে দিয়েছে দারুণ পারফরম্যান্স, মাত্র ৯ সেকেন্ডে ই শূন্য ঠেকে ৬০ কিমি/ঘন্টা গতিতে উঠতে সক্ষম হয়েছে। ৪ গিয়ার/ট্রান্সমিসন এর সুবিধা আছে যার ৩য় গিয়ারেই ৬০ পর্যন্ত গতি তুলে ফেলা যায়।  বাকি ১গিয়ারে (৪র্থ গিয়ার) সর্বোচ্চ ১০০কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত তোলা যায়, যদিও ৮০ থেকে ১০০ তে যেতে অনেক সময় নেয়। এতে কিক এবং ইলেক্ট্রিক স্টার্ট দুটোই রয়েছে। এতে ১০ লিটার এর ফুয়েল ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করা হয়েছে যার ৮লিটার রেগুলার ব্যাবহার আর ২ লিটার রিজার্ভ এর জন্য। অন্যান্ন সমপরিমাণ সেগ্মেন্ট এর বাইক এর মত কোম্পানী থেকে ৬০কিমি/লিটার বলা হলেও। আমি সর্বোচ্চ ৫০কিমি/লিটার পেয়েছি। অবশ্য এখানে কিছু ব্যাপার আছে যেগুলোর উপর সর্বোচ্চ মাইলেজটা নির্ভর করে। যেমন এর মিটারে “ইকোনমী” একটা পরিসীমা আছে যার গতির পরিমাপ হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ কিমি/ঘন্টা। এই সীমা মেনে চালাতে পারলে হয়তো ৬০ পর্যন্ত উঠবে।

suzuki hayate engine left side

Suzuki Hayate বর্তমান শো রুম মূল্য হচ্ছে ১,২৪,৯৫০ টাকা। যা সমসাময়িক অন্নান্য ব্র্যান্ডের বাইক এর কাছাকাছি।

এছাড়া অন্নান্য তথ্যগুলির মধ্যে রয়েছেঃ

  • বাইকের সর্বমোট ওজন- ১০৭কেজি
  • বাইকের নিচের দিকে ক্লিয়ারেন্স – ১৬৫মিলিমিটার
  • সিট এর উচ্চতা- ৭৯৫ মিলিমিটার
  • চাকার বেজ- ১,৩০৫ মিলিমিটার
  • সামনের চাকার পরিমাপ- ৭০/১০০-১৭
  • পেছনের চাকার পরিমাপ- ৮০/১০০-১৭
  • ১২ ভোল্ট এর ব্যাটারী
  • সামনের সাস্পেন্সন- টেলেস্কোপিক
  • পেছনের সাস্পেন্সন- টুইন সকস
  • সামনের এবং পেছনের দুটোই ড্রাম ব্রেক যার সামনের ব্রেক সু বড় এবং পেছনের ব্রেক সু সাইজে ছোট।

এবার আসি, ইঞ্জিন ওয়েল এর ব্যাপারে। ম্যানুফ্যাকচার গাইড লাইন অনুযায়ী, এই বাইকটির ইঞ্জিন ওয়েল গ্রেড হচ্ছে  20W50, এবং ইঞ্জিন ওয়েল ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ৭০০ মিলিলিটার। এই ব্যাপারটাতে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ যদি নিজের হাতে ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তন না করি তা হলে সব মেকানিকই একটা ধাধায় ফেলে দেয়, কেন জানি তারা পুরো ১ লিটারই ইঞ্জিনে দিতে চায়। আর বলবে কোন সমস্যা নাই, যা আমি কখনোই কর্ণপাত করিনি।  আমি যেসব ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করেছি, তাদের মধ্যে কেস্ট্রল, ইয়ামাহালুব এবং পরিশেষে মতুল। যেহেতু আমার বাইক এখন ১০,০০০ কিমি অতিক্রম করেছে তাই ফুল সিন্থেটিক ওয়েল ব্যাবহার করছি, এবং বেশ ভালই পারফরম্যান্স পাচ্ছি।

suzuki hayate ngine right side

১০,০০০কিমি চালানো পর্যন্ত যেসব পার্টস বদল করেছি তাদের মধ্যে ব্রেকশো, ক্লাচ ক্যাবল, গিয়ার ক্যাবল, এয়ার ফিল্টার, মবিল ফিল্টার ইত্যাদি। সুজুকি এই একটা বদনাম এখানে না উল্লেখ করে পারছিনা, এদের যে কোন পার্টস এর ক্ষেত্রেই সহজলভ্যতা কথাটা যায় নাহ। আর পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দাম, যা বাজারের অন্যান্য ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুন, কখনো কখনো তিন গুন বেশি।

Suzuki Hayate এর মেইনটেন্যান্স এর কথায়, আমি সাধারণত  ২/৩ হাজার কিমি এর মধ্যে একবার সার্ভিস করানোর চেষ্টা করি। আমি এ পর্যন্ত ৪ বার সার্ভিসিং করিয়েছি সুজুকি সার্ভিস সেন্টার এ। প্রতিবার সারভিসিং এরপরই পেয়েছি নতুনের স্বাদ। তবে সুজুকি সার্ভিস সেন্টার এর মেকানিকদের টেকনলজিক্যাল জ্ঞ্যান বেশকম। আর সার্ভিস করানোর পর মাইলেজ কম পাবার কমপ্লেইন করতে করতে যথাতথা হয়ে গেলেও তারা এর সমাধান করতে পারে নি। পরিশেষে খিলখেত এর নামা পাড়ায় ছোট একটি বাইকের মেকানিকাল কাজ করার দোকানে হলো এর সমাধান। বিষয়টা মোটেও জটিল কিছুনা, শুধুমাত্র সার্ভিসিং এর সময় সুজুকি থেকে কার্বুরেটরের তেল এর লাইন বাড়িয়ে দিয়েছিল, যদিও কারণটা এখনো অজানা। যেখানে ১ লিটার তেলে মাইলেজ পাচ্ছিলাম মাত্র ২৩/২৫, সেখানে এই এডজাস্টমেন্ট করার পর প্রথম লিটারেই পেলাম ৪৫কিমি/লিটার।

suzuki hayate back side

Suzuki Hayate করে আমার একদিন এর সর্বোচ্চ রাইড দেওয়া হয়েছিল, ঢাকা-কুমিল্লা-ঢাকা রুটে। সর্বমোট দুরত্ব অতিক্রম করেছিলাম প্রায় ২০০কিলোমিটার এর মত। ছোট বাইক এবং কম সিসির বাইক বলে একরকম ভয় কাজ করছিল রাইড দেওয়ার আগে, কিন্তু রাইড দিয়ে আমি অবাক হয়ে যাই। কোন ধরণের সমস্যা ছাড়াই আমরা রাইড শেষ করতে পেরেছিলাম। এমন কি কোন ধরণের শরীর ব্যাথা ও হয়নি। আর বাইক এর পারফরম্যান্স ছিল সন্তোষজনক। ৭০/৮০ গতিতে যেন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। আর একটা অবাক করা ব্যাপার হল, লং রাইডটা দেওয়ার পর যেন বাইকটা আরো স্মুথ আর হাল্কা হয়ে উঠেছে।

অনেক গুণ কীর্তন করা হল, এবার কিছু খারাপ দিক বলা যাক,

  • সবচেয়ে বড় খারাপ দিক হল এর পার্টস এর অতিরিক্ত দাম এবং সহজে পাওয়া যায় না।
  • একা একা চালাতে বেশ মজার হলেও পিলিওন নিয়ে চালাতে এই বাইকটাতে মন সুবিধার না। পারফরম্যান্স বেশ বাজে হয়ে যায়। আর পেছনের সাস্পেন্সন খুব ভাল না বিধায়, পিলিওন এর ওজন একটু বেশি হলেই বাইক বেশ দোল খায়।
  • কেন জানিনা, এই বাইক এ সুজুকি আর পি এম মিটার দেয়নি। সুতরাং আন্দাজই ভরসা।
  • হাই বিম লো বিম লাইট এর সুইচ থাকলেও এতে সামান্য পাসলাইট সুইচ কেন দেয়নি, এটা বোধগম্য নয়। যার খুব প্রয়োজন অনুভব করি জরুরী সময়ে।
  • হেডলাইট এর স্বল্প আলো একটা বিশাল সমস্যা।
  • ব্রেক দুটোর পারফরম্যান্স খুব একটা ভাল নাহ। অন্নান্যদের মত সামনে ডিস্ক ব্রেক দিতেই পারত।

suzuki hayate

সবকিছুরই ভালো খারাপ থাকবে, তবে সর্বশেষ আমার অভিজ্ঞতায় আমি সুজুকি হায়াতে বাইকটি নিয়ে সন্তুষ্টই আছি। যদিও আগে ভারী বাইক চালাতাম বলে মাঝে মাঝে আবার ভারী বাইকে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। শহরের জ্যামে চলাচলের জন্য বেশ ভাল বাইক সুজুকি হায়াতে। শুধু কিছু লিমিটেশন দূর করে দিতে পারলে এই বাইকটি হতো এই সেগমেন্ট এর সেরা বাইক।

এই প্রথম কোন কিছু নিয়ে আমার লিখা প্রথম রিভিউ। পাঠকদের অনুরোধ করছি ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখার জন্য।

লিখেছেনঃ মোঃ রাইহানুল হক সবুজ

About আহমেদ স্বজন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*