মোটরসাইকেল যাত্রীদের জন্য পরামর্শ

মোটরসাইকেলের পিছনে বসা কিছু লোকের জন্য মজা করা অবার কিছু লোকের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন। আশা করি মোটরসাইকেল যাত্রীদের জন্য পরামর্শ তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এটি আপনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে যদি আপনি কিছু নিয়ম মেনে চলেন এবং ওই নিয়মগুলো বুঝতে পারেন। আর এই হল যাত্রীদের জন্য তৈরি নিয়মগুলো- 

tips for motorcycle passenger

১. এমন পোশাক পরুন যেটি আপনাকে খারাপ পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দিবে। যেমন-পায়ের জুতা, যা আপনার পায়ের পাতা এবং গোড়ালি সুরক্ষিত রাখবে, এটি হাইকিং বুট হলে ভালো হয়। আপনি একটি টেকসই প্যান্ট পরুন যেটি চামড়ার তৈরি হতে পারে। একটি চেইনওলা অথবা ঘাড় পর্যন্ত বোতামওলা জ্যাকেট পরুন এবং এটি আরো ভালো হয় যদি জ্যাকেটটি চামড়ার, নাইলনের বা এইরূপ কিছুর হয়। আপনার শক্ত করে গ্লাভস পরা এবং চোখ সুরক্ষিত রাখা উচিত। অবশ্যই এমন হেলমেট পরুন যেটি দ্বারা সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা যায়।

২. আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার সঠিক পোশাক পরা উচিত। গরম অথবা ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক নির্বাচন করুন। এই অবস্থায় আপনি চালককে জিজ্ঞেস করতে পারেন কী পরা উচিত কারণ এই সম্পর্কে সে সবচেয়ে ভালো জানে। গরমের দিনে এমন পোশাক পরুন যেটি আপনার শরীরকে গরম হতে দূরে রাখবে। স্কার্ফের মত সহজে খুলে যায় এমন পোশাক পরবেন না কারণ এটি গাড়ির চাকা, স্প্রকিটস, গাড়ির চেইন বা বেল্টের সাথে আটকে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

৩. মানানসই হেলমেট পরুন। দুর্ঘটনা এড়াতে এটি জরুরী। হেলমেটটি খুব টাইট কিংবা খুব লুজ হওয়া উচিত নয়। হেলমেটের ফিতাটি সঠিকভাবে পরা উচিত। এটি ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, যদি দেখেন এর ফিতাটি টাইট তাহলে হেলমেটটির পুরো অংশ শক্ত করে ধরে অথবা কপালের দিকে হেলমেটের সামনের সুঁচালো অংশটি ধরে আপনার মাথার পিছন দিকে হেলমেটটি তুলতে থাকুন। যদি বাতাসে হেলমেটটি আপনার মাথার পিছন দিকে উপরে উঠে যায় তাহলে ফিতাটি টাইট করুন নতুবা আরেকটি হেলমেট নিন। কিভাবে হেলমেট পরতে হবে তা চালক আপনাকে সঠিকভাবে এবং সহজে বুঝাতে পারবে।

৪. বাইকে চড়ার পূর্বে নিশ্চিত হোন পা রাখার জায়গাটি নামানো আছে কিনা। যদি আপনি জানেন না এটি কোথায় তাহলে চালককে জিজ্ঞেস করে নিন।

৫. উত্তপ্ত এগজস্ট পাইপগুলোর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন, নিশ্চিত হোন এগুলো কোথায় এবং শরীরের কোনো অংশ সেখানে লাগাবেন না। এতে আপনার শরীর গুরুতরভাবে পুড়ে যেতে পারে।

৬. বামদিক দিয়ে বাইকে উঠা-নামা বিপদজ্জনক। বাইকে উঠার সময় কিংবা নামার সময় সবসময় চালককে জিজ্ঞেস করুন। যদি সে আপনাকে নামতে কিংবা উঠতে জিজ্ঞেস না করে আপনার উচিত তাকে জিজ্ঞেস করা নতুবা এটি একটি বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

৭. এখন আপনি বাইকে বসার সঠিক পন্থাটি জানবেন। প্রথমে আপনার ডান পা টিকে সিটে উপর দিয়ে বাড়ান এবং ধীরে ধীরে সিটের দিকে নামাতে থাকুন তারপর আপনার পা টিকে বাইকের পা রাখার স্থানে রাখুন এতে আপনি নিরাপদ থাকবেন। ছোটোরা এই নিয়মটি অনুসরন করতে পারে, বাম পা টিকে বাইকের বাম দিকে যাত্রীদের পা রাখার স্থানে রাখতে পারে, এরপর বাইকের দিকে শরীরটি হেলান, ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিন যতক্ষণ না পর্যন্ত সিটের ওপাশে আপনার ডান পা টিকে দোলাতে পারছেন এবং আরামে বসুন। যখন এতে বসবেন তখন যতোটুকু পারেন আপনার শরীর হালকা এবং মোটরসাইকেলের দিকে বাকিয়ে রাখুন। এটি চালকের মোটরসাইকেলের ভারসাম্য রাখতে সাহয্য করবে। মোটামুটি আকারের ছেলে অথবা মেয়েদের এটি মেনে চলার প্রয়োজন নেই। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে আপনি খুব সহজে সঠিকভাবে বাইকে উঠতে এবং নামতে পারবেন।

৮. যখন মোটরসাইকেলে চড়বেন তখন আপনার পা অবশ্যই পা রাখার স্থানে রাখবেন কারণ যদি আপনার পা চাকার সাথে কিংবা এগজস্ট পাইপের সাথে লাগে তাহলে এটি আপনার শরীরের চামড়া পুরোপুরি পুড়ে দিতে পারে।

৯. কখনো বাইক চালককে বাইক সোজা রাখতে সাহায্য করবেন না বিশেষ করে যখন সে এটি থামাতে চাইবে।

১০. প্রত্যেক রাস্তার কিছু মোড় আছে, মোটরসাইকেলকে ওইসব মোড় দিয়ে যেতে হয়। তাই ওইসব মোড়ের জন্য আপনি নিজেকে প্রস্তুত করে নিন। এই জন্য ডান-বাম মোড় অনুসারে চালকের কাঁধের দিকে লক্ষ্য রাখুন। এটি ওই জায়গায় আপনার ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে। আপনি আপনার শরীর চালক বরাবর রাখুন এতে মোটরসাইকেলটি বেশী হেকে পড়বে না।

১১. যখন চালক ব্রেক চাপবেন তখন একটি সম্মুখ ওজন প্রবাহ সৃষ্টি হবে। ক্ষণিকের এই হার্ডব্রেকে আপনি চেষ্টা করুন পিছনের কিছু ধরতে এবং থাই মাসেলে চাপ দিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন ফলে আপনি চালকের সাথে ধাক্কা খাবেন না।

১২. আপনি সতর্ক এবং প্রস্তুত থেকে একজন ভালো যাত্রী হতে পারেন। আপনি চালককে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করতে পারেন। আপনি নিজেকে হঠাৎ ব্রেকের জন্যও প্রস্তুতও করতে পারবেন।

১৩. গাড়িতে চড়ার সময় কখনো মোবাইলের কল রিসিভ করবেন না। যখন আপনি জিনসের পকেট থেকে মোবাইলফোনটি বের করবেন এটি বাইকের ভারসাম্য নষ্ট করবে ।

১৪. যখন বাইক চালক কিছু ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে বাইক চালাবেন তখন চিৎকার করবেন না এবং শরীর নাড়াচাড়া করবেন না। বাইক চালক ভালোভাবে জানেন তিনি কী করছেন, তাই শান্ত থেকে তাকে সাহায্য করুন।

বাইক চড়ার সময় আরও কী কী ঝুঁকি আছে তা আপনি বের করুন। সুতরাং এই মোটরসাইকেল যাত্রীদের জন্য পরামর্শ যাত্রীদের এবং বাইক চালকদের নিরাপদ ভ্রমণে সহায্য করবে বলে আমি আশা করি ।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক