TVS Apache RTR Matt Blue এর মালিকানা রিভিউ : লিখেছেন মাজহারুল শুভ্র

আমি মাজহারুল শুভ্র। পেশা : গার্মেন্টস এক্সপোর্টার। আমি আমার নতুন TVS Apache RTR Matt Blue নিয়ে আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা ও সাজেশন মূলক আলোচনা করছি, যা বাকি বন্ধুদের কাজে লাগবে। আমি গত ১৭ আগস্ট এ আমার নীল পরীটাকে শোরুম থেকে কিনে নিয়ে আসি। আমার বাইকের মুল্য নিয়েছে  ২,০৩,৫০০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪,৫০০ টাকা। বাইক কেনার আগে আমি পালসার লাস্ট মডেল, হাংক, এ্যাপাচি আর টি আর এবং লিফান কে পি আর নিয়ে নেটে গবেষণা করি। প্রথমে পালসার খোমাওয়ালাটা পছন্দ করি। আমার এক বন্ধু তিন মাস আগে কিনেছে তার কাছে পারফরমেন্স জানতে চাই। সে আমাকে নিষেধ করে পালসার ২য় মডেল। আমার বাইকটি মাত্র…

Review Overview

User Rating: 4.7 ( 1 votes)

আমি মাজহারুল শুভ্র। পেশা : গার্মেন্টস এক্সপোর্টার। আমি আমার নতুন TVS Apache RTR Matt Blue নিয়ে আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা ও সাজেশন মূলক আলোচনা করছি, যা বাকি বন্ধুদের কাজে লাগবে।

বাংলাদেশে এ্যাপাচি আরটিআর ম্যাট ব্লু
আমি গত ১৭ আগস্ট এ আমার নীল পরীটাকে শোরুম থেকে কিনে নিয়ে আসি। আমার বাইকের মুল্য নিয়েছে  ২,০৩,৫০০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪,৫০০ টাকা। বাইক কেনার আগে আমি পালসার লাস্ট মডেল, হাংক, এ্যাপাচি আর টি আর এবং লিফান কে পি আর নিয়ে নেটে গবেষণা করি। প্রথমে পালসার খোমাওয়ালাটা পছন্দ করি। আমার এক বন্ধু তিন মাস আগে কিনেছে তার কাছে পারফরমেন্স জানতে চাই। সে আমাকে নিষেধ করে পালসার ২য় মডেল। আমার বাইকটি মাত্র এক হাজার কিমি চালিয়েছি। কোন রকম কোন সমস্যা এখনও পর্যন্ত ফেস করিনি। আমি প্রথম ২০০ কিমি এ প্রথম ইন্জিন অয়েল (মবিল) পাল্টে ফেলি। বাইকের সাথেই AMOG 4T ইন্জিন অয়েল I-Link 4T দিয়েছি। এই মবিল টি ব্যাবহার করে অনেক কম্ফোর্ট ফিল করছি। যদিও বাইক কম্পানী JASO# 4T ব্যাবহার করতে বলেছে, কিন্তু বাইকটি লেটেস্ট মডেল হওয়ায় রিকমেন্ডেড মবিলটি বাংলাদেশে আসছিল না। ফলে অন্য ব্রান্ডের মবিল ব্যাবহার করতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে ৫০০ কিমি পর দ্বিতীয় ইন্জিন অয়েল (মবিল) পাল্টে ফেলি এবং ৮০০ কিমি এ ফার্স্ট সারভিসিং টা করিয়ে নেই।
এখন এক হাজার কিমি পর্যন্ত চালিয়েছি। চমৎকার পারফরমেন্স পাচ্ছি। আমার বাইক এর গতি ৪০-৫০ কিমি এর মধ্যে চালাচ্ছি ব্রেক ইন টাইম এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি বলে। যদিও এক দিন সর্বোচ্চ ৯০ গতিতে চালিয়েছি।

সুবিধা :

১) চমৎকার লুকিং,

২) মাইলেজ 43-45 পাচ্ছি শহরের মধ্যে,
৩) চমৎকার ব্রেকিং সিস্টেম
৪) হাই পাওয়ারফুল ইন্জিন,
৫) স্মুথ গিয়ার,
৬) চমৎকার সাউন্ড,
৭) টিউবলেস ট্যায়ার,

অসুবিধা :
১) হেড লাইট এর আলো অনেক কম,
২) বৃষ্টি হলে কাচা রাস্তায় চালানো অনেক রিস্কি, স্লিপ করে। টায়ার গুলো আর একটু উন্নত মানের হলে ভাল হত।

উপসংহার :
সর্বোপরি একটা কথাই বলব -অনেক ভাল ব্রান্ডের বাইক চালিয়েছি, কিন্তু সবগুলোরই গিয়ার সমস্যা। কোনটাই স্মুথলি নিউট্রাল করা যায় না। কিন্তু ম্যাট ব্লু-এর গিয়ার এর স্মুথনেস অভিশ্বাস্য। নিউট্রাল করলে আপনি বুঝতেই পারবেন না এত স্মুথ। এটা আমার ব্যাবহার এর জন্য ও হতে পারে।
অনেকেই বলে আর টি আর এর ভাইব্রেশন এর কথা, আমি পারসোনালি পাচ্ছি না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। দয়া করে সকলেই হেলমেট ব্যাবহার করবেন।

পরামর্শ:
সিনিয়র বাইকাররা পরামর্শ দিলে উপকৃত হব –
১) আমার ব্রেক ইন পিরিওডের ব্যবহার ঠিক হচ্ছে কি না?
২) ব্রেক ইনে আমি এক দিন মাত্র ৯০-তে চালিয়েছি, এতে কি কোন ক্ষতি হবে?
৩) মবিল ইউজ সিস্টেম কি ঠিক আছে?
৪) কোম্পানির অনুমোদিত মবিলইকি ব্যাবহার করব?

–মাজহারুল শুভ্র

 

About মাহামুদ সেতু

হ্যালো রাইডারস, আমি মাহামুদ সেতু। থাকি রাজশাহীতে, পড়াশোনাও রাবি’তে। যদিও আমার নিজস্ব কোনো বাইক নেই, তারপরও আমি কিন্তু বাইকের ব্যাপারে পাগল। এক্ষেত্রে আমাকে ‘চন্দ্রাহত’ও বলতে পারেন, মানে ওই দূর থেকে চাঁদের (আমার ক্ষেত্রে বাইক) প্রেমে পাগল হয় যারা, তারা আর কি। যাই হোক, মূল কথায় আসি। গত দুই বছর ধরেই আমি বাইকবিডি.কমের নিয়মিত পাঠক। এখান থেকেই আমি বাইক সম্পর্কে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। ব্লগের সবগুলো লেখাই একাধিকবার পড়েছি। এখানেই জানতে পারলাম বাইক মোডিফিকেশন সম্পর্কে। শেষমেশ এখন তো সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি, বাইক নিয়েই কাজ করবো। মানে, বাইক মোডিফিকেশনটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছি। জানি কাজটা কঠিন, তারপরও আমি আশাবদী। আমার জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য বাইক মোডিফিকেশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দেশে এতো এতো সুন্দর, দ্রুতগতির ও ভালো বাইক (বাংলাদেশে আইনত যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫০সিসি) আছে, অথচ আমার পছন্দ হোন্ডা সিজি ১২৫। আমার খুবই ইচ্ছা এই ক্ল্যাসিক বাইকটি কিনে নিজের হাতে মোডিফিকেশন করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Sign up to our newsletter!