একজন মোটরসাইকেল চালকের শীতকালে কি ধরনের কাপড় পরা উচিত ?

ঋতু পরিবর্তনেরই একটি স্বাভাবিক ধাপ হল শীতকাল । একজন বাইকারকে অবশ্যই জানতে হবে শীতকালে একজন মোটরসাইকেল চালক হিসেবে তার কি ধরনের পোশাক পরা উচিত ? আমাদের দেশে সাধারণত ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত ঋতু পরিবর্তন ঘটে না । কিন্তু রাস্তায় ঋতু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হল গাড়ির চালকেরা । একটি কার বৃষ্টি, ঠাণ্ডার মধ্য দিয়েও যেতে পারে এমনকি গরমের জন্য এসিও থাকে। কিন্তু একজন বাইক চালককে গরমে কষ্ট পেতে হয় , বৃষ্টিতে ভিজতে হয় এবং শীতকালে ঠাণ্ডাও লাগে ।

What should wear at winter as motorcycle rider

এসব কিছুই ঘটে বাইকের পিছনে উন্মুক্ত সিটের কারনে । বর্তমানে বাংলাদেশে শীতকালীন কাপড় পছন্দ করার জন্য খুব বেশি সুবিধা নেই তাই আমরা আজ বোঝার চেষ্টা করবো শীতকালে কি ধরনের কাপড় ব্যবহার করা উচিত যার ফলে আমরা ডিসেম্বরের হাড় কাঁপানো শীতে বাইক চালানোর সময় কিছুটা আরাম পাব ।

মনে করুন আপনি ডিসেম্বরের একটি শীতের রাতে ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বাইক চালাচ্ছেন । এর মানে হল হাড় কাঁপানো বাতাস আপনার শরীরে প্রায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত করছে এবং আপনার শরীরকে ধীরে ধীরে অনুভূতিহীন করে দিচ্ছে যেটা বাইক চালানোর সময় খুবই বিপদজনক হতে পারে ।

প্রথমেই একজন বাইক চালককে যেটা জানতে হবে সেটা হল আমরা মূলত তিন স্তরের কাপড় পরি ।    যে কোন পরিস্থিতে প্রথমেই আসে বেইস লেয়ার এর মানে হল আমরা আমাদের শরীরের ভেতরে যা পরি অর্থাৎ ভিতরের গেঞ্জি হতে অন্তর্বাস পর্যন্ত সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত । উল এবং যেকোন ফেব্রিক্স এ ক্ষেত্রে ভাল কাজ করবে কিন্তু সবচেয়ে ভাল পারফর্মেন্স দেখা যাবে বিভিন্ন সিনথেটিক যেমন পলিস্টার, রেয়ন ইত্যাদি ব্যবহার করলে । সিনথেটিক শার্ট পরার চেষ্টা করুন এবং অন্তর্বাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

বেইস লেয়ারের আরেকটি অংশ হল মৌজা । পা হল শরীরের সবচেয়ে কম আবৃত অংশ । শরীরের তাপ ধরে রাখতে জুতা কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না বরং জুতা থাকলে শরীর অন্যান্য সময়ের চেয়ে দ্রুত তাপ হারায় । এর সাথে যদি মোটা উলের মৌজা পরা হয় তবে এটা তাপ চলে যাওয়া কিছুটা আটকাতে পারে ।

দ্বিতীয় লেয়ার হল সাধারন কাপড়চোপড় । এই ধাপের জন্যও একই পরামর্শ মেনে চলুন । এর কারণ হল কটন ও অন্যান্য সাধারন সুতার মধ্যদিয়ে বায়ু চলাচল করে কিন্তু সিনথেটিক এর মধ্য দিয়ে বায়ু চলাচল করতে পারে না । তাই সিনথেটিক এর শার্ট পছন্দ করা যেতে পারে।

যদি খুব বেশী ঠাণ্ডা পড়ে তাহলে আপনি আপনার রেইন কোট পরতে পারেন যেটা আপনাকে অতিরিক্ত আরাম দেবে এবং আপনার শরীরের তাপ দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে । তাই এটি কম দামে কিনবেন না । অনেক সময় বাইকের সাথে রেইন কোট ফ্রি দেয়া হয় যেগুলো আসলেই জঘন্য তাই যত দ্রুত সম্ভব বাংলাবাজার বা বাংলা মোটর থেকে একটি ভাল মানের রেইন কোট সংগ্রহ করুন ।

বাজারে প্রচুর শীতকালীন গ্লাভস পাওয়া যায় । গ্লাভস যত বেশী লম্বা হবে সেগুলো আপনার হাতকে তত বেশী সময় ধরে ঠাণ্ডা রাখতে পারবে । পঞ্চাশ ভাগেরও বেশী লোকের হাত বাইক চালানোর সময় গরম থাকে কিন্তু তাপ যদি একবার কমতে থাকে তবে বাজারে এমন কোন গ্লাভস নেই যেটা আপনার হাতের তাপ ফিরিয়ে আনবে । এটা কিভাবে সম্ভব ? আপনি যখন মোটরসাইকেল চালান তখন আপনার হাতের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা শরীরের অন্যান্য অংশ হতে অনেক কম থাকে । বিশেষ করে আপনার পায়ের আঙুলগুলো যেখানে পেশী অত্যন্ত নিষ্ক্রিয় থাকে এছাড়া এগুলো অনেক চিকন হওয়ার কারনে সেখানে বেশী তাপ জমা হতে পারে না । ফলে তাপমাত্রা কমে যেতে থাকে এবং ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত আপনি বুঝতে পারেন না । আপনার দুটি পথ রয়েছে । এক ঘন্টা পর পর থামার পরিকল্পনা করতে পারেন, কফি বা স্ন্যাক খেতে পারেন, আপনার টায়ার চেক করতে পারেন, জ্বালানী নিতে পারেন বা কিছুদূর হাঁটতে পারেন ।

লেদার একজন বাইক চালকের জন্য সবসময় একটি ভাল পছন্দ । যদি আপনার খরচ করার মত প্রচুর টাকা থাকে তবে আপনি একটি লেদারের জ্যাকেট কিনতে পারেন এটা শরীরের তাপ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট । এটির নিজস্ব তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি ভাল বাতাস কাটতে পারে ।

সর্বশেষ কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল একটি ভাল হেলমেট এবং একজোড়া কানবন্ধনী যা কানগুলোকে রক্ষা করবে ।

আশা করি এই পরামর্শগুলো একজন মোটরসাইকেল চালককে শীতকালে সঠিক কাপড় পছন্দ করতে সাহায্য করবে ।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক